পদ্মাপারে শুরু হয়েছে এক ভয়ঙ্কর খেলা। এই খেলা চলছে নিঃশব্দে। খেলা এতটাই ভয়ঙ্কর যে আগামীদিনের বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির অভিমুখ বদলে দেওয়ার মতো শক্তি ধরে। পরের মাসে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন। আর জাতীয় নির্বাচনের মুখে শুরু হয়েছে এই খেলা। কী সেই খেলা, সেটা তো অবশ্যই জানাব। তার আগে বাংলাদেশের ভোট নিয়ে যে সব সমীক্ষা প্রকাশিত হয়েছিল, সে দিকে একবার তাকিয়ে দেখা যাক। তাহলে একটা ইঙ্গিত পাওয়া যাবে যে খেলাটা কতটা ভয়ঙ্কর।
বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিকস্তরে যে সব সমীক্ষা প্রকাশিত হয়েছিল, সেই সব সমীক্ষা রিপোর্টের প্রথম তালিকায় ছিল আওয়ামী লীগ। বলা হয়েছিল, আওয়ামী লীগের হাতে যাচ্ছে শাসন ক্ষমতার ভার। আর হাসিনা হতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী। সমীক্ষা রিপোর্টের দ্বিতীয় স্থানে ছিল বিএনপি। আর তৃতীয় স্থানে জামাত। এখন তো প্রায় জলের মতো পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা একেবারে নেই বললেই চলে। যদি না শেষ মুহূর্তে কোনও অঘটন ঘটে। পদ্মাপারে ভবিষ্যতে কী ঘটবে, সেটা কোনও গণক ঝুঁকি নিয়ে বলতে পারে না। ইংরেজিতে ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ বলে একটা কথা আছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই শব্দটা বেশ যুতসই। তা না হলে আন্তর্জাতিক সমীক্ষক সংস্থার সব হিসবে উল্টে যায়। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের কথাই বা কী করে বাদ দেওয়া যায়। জনমত সমীক্ষার রিপোর্টকে মান্যতা দিলে তারেকের তো দেশে ফেরার কথা ছিল না। ছিল তিনি অসুস্থ মাকে নিয়ে লন্ডনে চলে যাবেন। সেখানে তাঁর চিকিৎসা করাবেন। হল ঠিক উল্টো। তারেক দেশে ফিরলেন। এখন তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে মনস্থির করেছেন। কিন্তু সেই সব খবরকে ছাপিয়ে গিয়েছে আরও একটি খবর। এর সেটাই হচ্ছে ওই ‘খেলা’কে কেন্দ্র করে।
আমাদের পাঠক এবং দর্শক শুনলে অবাক হবেন, বিশ্বের পাঁচটি দেশ চাইছে আগামীদিনে বাংলাদেশ শাসন করুক জামায়াত। শুনতে খটকা লাগলেও এটাই ঘটেছে। ওই পাঁচ দেশের হেভিওয়েট নেতাদের সঙ্গে জামাতের শীর্ষনেতাদের বৈঠক হয়েছে। একটি দেশের নাম অনুমান করা খুব সহজ। দেশটি হল পাকিস্তান। আরও সুস্পষ্টভাবে সে দেশের গুপ্তচর সংস্থা। কিছুদিন আগে তারা বাংলাদেশে তাদেরল হাইকমিশনে একটি দফতর খুলেছে। বাকি চারটি দেশের মধ্যে তিনটি দেশের নাম ফাঁস করতে হয়। ওই তিন দেশ হল তুরস্ক, মিশর এবং চিন। আর এই চারদেশকে নিয়ন্ত্রণ করছে আমেরিকা।
অবাক লাগছে না! অবাক লাগলেও এটাই বাস্তব। এই পাঁচ রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশে একটি ঘাঁটি বা বেস তৈরি করা। সেই ঘাঁটি থেকে তারা ভারতের বিরুদ্ধে ঘুঁটি সাজাবে। গত বছরের শেষে দিকে ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লায় একটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তদন্ত নেমে ভারতীয় গোয়েন্দারা যে তথ্য পেয়েছে তা চমকে ওঠার মতো। এই সন্ত্রাসের নীল নকশা তৈরি হয়েছিল তুরস্কে বসে। তখন থেকে কিন্তু একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে যায়, তুরস্ক আগামীদিনেও এই ধরনের ঘটনা সংঘটিত করতে সক্রিয় হয়ে উঠবে। আর একটি গণমাধ্যম তুরস্ককে নিয়ে যে প্রতিবেদন দিল, তা শুধু ভয়ঙ্কর নয়, মেরুদণ্ড দিয়ে ঠাণ্ডা রক্তের স্রোত বইয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ঠ। চিন অতীতে নানা ভাবেই ভারতকে অস্থির করে তোলার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে। সব চেষ্টা তাদের ব্যর্থ হয়েছে। তাই, তারা শরৎচন্দ্রের মেজদার মতো তৃতীয়বাবের জন্য পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর আমেরিকা দেখেছে ইউনূসকে বসিয়ে তারা লাভ কিছু হয়নি। তাই, তারাও নতুন ছক তৈরি করেছে। আর তারা নতুন শরিক বানিয়েছে মিশরকে। আগামীদিনে এই পাঁচ পরাশক্তিকে কীভাবে ভারত, সুষ্পষ্টাভাবে সাউথব্লকের চাণক্য কীভাবে যুঝবেন, সেটাই দেখার বিষয়।












Discussion about this post