মুখে ন মারিতং জগৎ।
এটা বলতে কী বোঝায়, তা কমবেশি সকলের জানা। এই অভিধা তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা কথার মারপ্যাচে মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা যায়, এরা কিছুই করেত উঠতে পারেনি। এটা বাংলাদেশের তদারকি সরকার এবং সেই সরকারের কৃতী সন্তানদের ক্ষেত্রে ভীষণভাবে প্রযোজ্য। গত ১৫-১৬ মাস ধরে কত কিই না তারা বলল। সেভেন সিস্টার্স কেটে নেবে। ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের তারা আশ্রয় প্রশ্রয় দেবে। পরে তাদের দিয়ে ভারতের বুকে নাশকতামূলক কাজকর্ম ঘটাবে। সেভেন সিস্টার্স ভারতেই রয়ে গিয়েছে। আর এ দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের সে দেশে জামাই আদরে রেখে ভারতের বুকে সন্ত্রাসী হামলা? সাহস থাকলে একবার তারা করেই দেখাক। বাকিটা ভারত বুঝে নেবে। পাকিস্তানের সঙ্গে যেভাবে বুঝে নিয়েছিল, বাংলাদেশের সঙ্গে ঠিক সেভাবেই বুঝে নেবে। সাউথব্লক অপেক্ষা করছে সেই মাহেন্দ্রক্ষণের।
ভারত যে ‘মুখে ন মারিতং জগৎ’ তত্ত্বে বিশ্বাস করে না সেটা দেখিয়ে দিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। অসম সরকার সে রাজ্যে বসবাসকারী অবৈধ বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করল ১৭ হাজার একর খাস জমি। ১৯৫০ সালের একটি আইন ব্যবহার করে গত কয়েক মাসে প্রায় দুই হাজার জনকে বাংলাদেশে ‘পুশ-ব্যাক’ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি এই অভিযান নিয়ে একটি এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন। সেখানে লেখা হয়েছে – “GAME OVER for illegal encroachment at Jamuna-Moudanga RF. Mission completed as 5,250 bighas reclaimed through peaceful, lawful & decisive action,” বছরের শুরুতে অসম মন্ত্রিসভার নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, ‘অভিবাসী (আসাম থেকে বহিষ্কার) নির্দেশ, ১৯৫০’—এর বিধি নিয়ম মেনে গত কয়েক মাসে প্রায় দুই হাজার মানুষকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘কোনও ব্যক্তিকে বিদেশি ট্রাইব্যুনাল অবৈধ বিদেশি বলে চিহ্নিত করার এক সপ্তাহের মধ্যে সীমান্তে পুশ ব্যাক করে দেবে সরকার। আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যে ট্রাইব্যুনাল যাঁদের বিদেশি বলে চিহ্নিত করবে, তাদের সাত দিনের মধ্যে পুশ ব্যাক করে দেওয়া হবে। উদ্দেশ্য হাইকোর্ট আর সুপ্রিম কোর্টে তাঁরা যাতে আপিল করার প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত করতে না পারে। ’ সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গত কয়েক মাসে আমরা প্রায় দু হাজার অবৈধ বিদেশিকে সীমান্তে পুশব্যাক করেছি। এর ফলে অসমে আসা বিদেশিদের সংখ্যা নিশ্চিতভাবে হ্রাস পাবে। ’ মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই ক্ষেত্রে কোনও প্রত্যর্পণচুক্তির প্রয়োজন নেই। দরকার হয় না। আইনে সে কথা সুস্পষ্টভাবে বলা আছে। কী আছে এই আইনে, একবার দেখে নেওয়া যাক। ভারতের বাইরের কোনো জায়গার নাগরিক যদি নির্দেশটি বলবৎ হওয়ার আগে বা পরে আসামে এসে থাকেন এবং সেই ব্যক্তির আসামে বসবাস যদি ভারতের সাধারণ নাগরিকদের স্বার্থের পরিপন্থি হয়, তাহলে ভারত সরকারের কোনো অফিসার সেই ব্যক্তিকে নিজে থেকেই চলে যেতে বলতে পারেন অথবা তাকে ভারত থেকে বার করে দেওয়া হতে পারে।
তবে আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা প্রশ্ন তুলছেন, ১৯৫০ সালের আইনটি এতদিন পরে ব্যবহার করার আইনি বৈধতা আছে কি না? তারা বলছেন, ওই আইনটি ভারত স্বাধীন হওয়ার পরে একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রণয়ন করা হয়েছিল, এখন তা প্রয়োগ করা যায় না। ওই আইনটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করার কথাও ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গৌহাটি হাইকোর্টের এক সিনিয়র আইনজীবী। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে নাগরিকদের সুরক্ষা। কিছুদিন আগে অসম পুলিশ ১১জনকে গ্রেফতার করে। ধৃতের সঙ্গে বেশ কয়েকটি জিহাদি সংগঠনের যোগাযোগ রয়েছে। তাদের ভারতে আসার উদ্দেশ্য কিন্তু ‘বেশ মহৎ’। লক্ষ্য ছিল ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ সংঘটিত করার। অসমে এর আগেও এই ধরনের অভিযান হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামীদিনে এই ধরনের অভিযান চলবে। রাজ্য এবং দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না।












Discussion about this post