বাংলাদেশে নির্বাচন আর একমাস বাকি। এই নির্বাচনে জোট বেঁধেছে এনসিপি এবং জামায়েত ই ইসলামী। এরপরই একে একে ১৪ জন এনসিপির শীর্ষ নেতা পদত্যাগ করেন। এরমধ্যে সামনে এল একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। ১৯ জন এনসিপি নেতা, শত শত কর্মী এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন। তারা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। অনেকে বলছেন, এনসিপির রাজনীতির জন্য এটা একটি অশনি সংকেত। জামায়েত ই ইসলামীর যোগে বিরাট ভাঙন এনসিপির। তবে কি ভারতের বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করের মন্ত্রে শক্তিশালী বিএনপি?
এনসিপি থেকে বেরিয়ে গিয়ে তিন শতাধিক কর্মী এবং ১৯ জন নেতা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। এই ঘটনা খাগড়াছড়িতে। জানা যাচ্ছে, এনসিপির ১৯ জন পদধারী নেতা সহ তিন শতাধিক নেতাকর্মী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগদান দিয়েছেন। সোমবার বিকেলে খাগড়াছড়ি শহরের আদালত সড়কে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যেমে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা বিএনপিতে যোগ দেন। জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অনিমেষ চাকমা রিংকুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ ওয়াদুদ ভূঁইয়া। নবাগত নেতাকর্মীদের স্বাগত জানিয়ে ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রতি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জানা যাচ্ছে, যারা যারা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন, তারা হলেন এনসিপির জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব ত্রিপুরা, যুগ্ম সদস্যসচিব আব্দুর রহমান সায়াদ, নিরুপম চাকমা, রূপালী ত্রিপুরা, জুলাই গণ অভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক আদনান মাহীন-সহ জেলা কমিটির মোট ১৯ জন পদধারী নেতা। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই এনসিপির ভাঙন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একই ছবি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এনসিপির যে সমস্ত শীর্ষ নেতা একত্রিত হয়ে পদত্যাগ করেছেন, তারা যদি একটি নতুন প্লাটফর্ম তৈরি করে, তবে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এরমধ্যে অনেকে বলছেন, যারা নতুন প্লাটফর্ম তৈরি করার আভাস দিয়েছেন, তারা যদি সেটা করতে না পারেন, তাদেরও অনেকেই বিএনপিতে যোগদান করবেন। এরকম তথ্য রয়েছে। এরমধ্যে খবর, যারা পদত্যাগ করেছেন, তাদের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির শীর্ষ নেতারা আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা যেন দলে ফিরে আসে। কিন্তু যারা পদত্যাগ করেছেন, তারা বেশিরভাগ বাম ঘরানার সদস্য। খাগড়াছড়িতে যে তিন শতাধিক পাহাড়ি উপজাতিদের যোগদানের ঘটনা ঘটল, সেটা নিশ্চিত করে এনসিপির জামায়াতের সঙ্গে জোট, সেই জোটেরই একটি প্রতিফলন বোধ হয় সেখানে ঘটল। বলছেন বিশেষজ্ঞরা। কেউ কেউ বলছেন, বাংলাদেশে এনসিপির তেমন কোনও সংগঠন নেই। আর তারমধ্যে এইভাবে ভাঙন..যেটা দলটি থাকবে কিনা শেষ পর্যন্ত..সেটার প্রশ্ন তুলে দেয়। এদিকে শক্তি বাড়াচ্ছে যেমন বিএনপি ও জামায়েত-ই ইসলামী। অন্য দল থেকে যেমন লোক টানছে তারা। একইভাবে ছাত্রদের নতুন দল থেকে লোক টানছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কোটি কোটি দেশবাসীকে যারা স্বপ্ন দেখিয়েছিল সোনা বাংলাজেশ তৈরি করবে, আগের সরকার যা যা করেছে, সেগুলি তারা হতে দেবেন না, সেখানে যদি দলটির অস্তিত্বসংকটে পড়ে যায়, তবে তো প্রশ্ন উঠবেই।












Discussion about this post