বাংলাদেশের বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদের সাম্প্রতিক পাকিস্তান সফর নিয়ে চারিদিকে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের থেকে ‘জেএফ-১৭ ব্লক থ্রি’ যুদ্ধ বিমান কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের এয়ার চিফ মার্শাল। এই যুদ্ধবিমানটি ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’ নামেও পরিচিত। পাকিস্তান দাবি করেছে যে ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে চার দিনের ছোটখাটো যুদ্ধের সময় এই যুদ্ধবিমানটি তাঁর যুদ্ধক্ষমতা প্রমাণ করেছে। যদিও ভারতের দাবি ঠিক উল্টো। উল্লেখ্য, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ভারতীয় বিমান বাহিনী এফ-১৬ এবং জেএফ-১৭ মিলিয়ে মোট ৫টি পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে। কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এই সংখ্যাটা ৮-১০টি পর্যন্ত বলা হয়েছে। যার মধ্যে একাধিক জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানও রয়েছে। এবার ওই যুদ্ধবিমানই বাংলাদেশকে গছিয়ে দিতে মরিয়া পাকিস্তান।
বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, গত মঙ্গলবার ইসলামাবাদে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান এবং পাকিস্তান বিমান বাহিনীর এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধুর মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে অপারেশনাল সহযোগিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার করার উপর জোর দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মহাকাশ উন্নয়নে সহযোগিতার উপর জোর দেওয়া হয়েছিল। বিবৃতিতে এটাও বলা হয়েছে, জেএফ-১৭ থান্ডার বিমানের সম্ভাব্য ক্রয় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। যদিও বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তান এখনও কোনও চুক্তিতে পৌঁছয়নি। তবে “বাংলাদেশ এই যুদ্ধবিমান কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে”। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, সামনেই বাংলাদেশের নির্বাচন তারপরই মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। নতুন নির্বাচিত সরকার বাংলাদেশের ক্ষমতায় বসবে। তাহলে এই অনির্বাচিত সরকার পাকিস্তান থেকে এত অর্থ খরচ করে কেন যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করছে? এর আগে পাকিস্তানের সঙ্গে একটা পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা চুক্তি করার বিষয়েও অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে আভ্যন্তরীণ চাপ এবং বিএনপির বিরোধিতায় সেটা আপাতত স্থগিত হয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে। এর মধ্যেই বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান পাকিস্তানে গিয়ে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার ব্যাপারে উৎসাহ দেখিয়ে এলেন। যদি এই ক্রয় নিয়ে সমঝোতাপত্রেও স্বাক্ষর করে দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। তাহলে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের পক্ষে তা লঙ্ঘন করাও চাপের হয়ে যাবে। আদতে কি এটাই চাইছে পাকিস্তান? এই মুহূর্তে পাকিস্তানের যা আর্থিক বেহাল দশা তাতে তাঁদের ঘটি-বাটি বিক্রি করার পর্যায় চলছে। পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স থেকে শুরু করে কয়েকটি বেসরকারি ব্যাঙ্ক ও কয়েকটি সরকারি অবকাঠামো বেসরকারি সংস্থাকে বিক্রির তোড়জোড় করছে শাহবাজ শরীফ সরকার। এই পরিস্থিতিতে ১০টি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান বাংলাদেশকে বিক্রি করে দিতে পারলে বেশ কিছু অর্থ তাঁদের হাতে আসবে। এই বিষয়টিও উড়িয়ে দিচ্ছেন না কেউ কেউ। অপরদিকে ৪.৫ প্রজন্মের মাল্টি রোল যুদ্ধবিমানটি আদতে চিনের। যেটা এখন চিনের কারিগরি সহায়তায় তৈরি করে পাকিস্তান। এই যুদ্ধবিমান পাকিস্তান সম্ভবত আজারবাইজার, মিয়ানমার ও নাইজেরিয়ার কাছে বিক্রি করেছে। এবার তাঁদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে বিক্রি করা। তবে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান নিয়ে চিনেরও চাপ থাকতে পারে বলেও কেউ কেউ দাবি করছেন। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন, ভারতকে চাপে ফেলতেই পাকিস্তান ও চিনের একটা ভূ-রাজনৈতিক চাপের অংশ এই জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান বাংলাদেশকে বিক্রির চেষ্টা।












Discussion about this post