ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই ও আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দেগে চলেছে বাংলাদেশের একাধিক রাজনৈতিক দল। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি যেমন সরাসরি দাবি করেছে, অপরদিকে কিছুটা রাখঢাক রেখে জামায়তে ইসলামীও এই অভিযোগ তুলেছে। তাঁদের দাবি, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়নি এবং নির্বাচনী প্রশাসন বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়েছে। আসলে মনোনয়ন পত্র ঝাড়াই বাছাই পর্বে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। কেউ কেউ দাবি করছেন, এমন পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু ও অবাধ ভোট হওয়ার কোনও সম্ভাবনা তাঁরা দেখছেন না। একাংশ তো সন্দিহান, ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে আদৌ ভোটটা হবে তো! এমনিতেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ দাবি করছেন, আওয়ামী লীগের মতো বড় রাজনৈতিক দল ও একদা তাঁদের নেতৃত্বাধীন জোটের বেশির ভাগ দলকে বাইরে রেখেই নির্বাচনে যাচ্ছে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আবার বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনও এই ব্যাপারে মুখে রা কাটছে না। অথচ তাঁদের বিরুদ্ধেই উঠথে স্বজন পোষণের অভিষোগ।
ঘটনাচক্রে, গত ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩০০টি সংসদীয় আসনে মোট ২ হাজার ৫৬৮ জন প্রার্থী ৩ হাজার ৪০৬টি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ের পর ১ হাজার ৮৪২টি মনোনয়নপত্র বৈধ ও ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। এই বাতিল মনোনয়ন নিয়েই শুরু হয়েছে যত গোলমাল। জাতীয় পার্টির প্রাক্তন মহাসচিব ও বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবুল হক চুন্নুর মনোনয়ন পত্র খারিজ হয়েছে। তাঁর দাবি, এর আগে তিনি ৯ বার নির্বাচনে লড়েছেন। মন্ত্রীও ছিলেন। তাঁর বক্তব্য, আসলে কমিশনই চাইছে না জাতীয় পার্টি নির্বাচনে লড়ুক। একাধিক রাজনৈতিক দলের অভিযোগ, বিএনপির ভোটপ্রার্থীদের বাদ দিয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোপ পড়েছে অন্যান্য প্রার্থীদের মনোনয়নে। এই আবহেই সামনে এল আরও এক বিতর্ক। বাংলাদেশে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নয়’ এমন নির্বাচনে সহযোগিতা থেকে সরে আসতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। প্রসঙ্গত, কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তাঁদের আর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। শনিবার ঢাকায় জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির প্রতিনিধি স্টেফান লিলারকে লেখা চিঠিতে আওয়ামী লীগ নেতা তথা বাংলাদেশের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল আহ্বান করেছেন, সব ধরণের নির্বাচনি সহযোগিতা স্থগিত রাখাতে। পাশাপাশি তিনি জাতিসংঘকে আর্জি জানিয়েছেন, সব রাজনৈতিক দলকেই সুযোগ করে দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করতে অন্তর্বর্তী প্রশাসনকে চাপ দিতে। ওই চিঠিতে আওয়ামী লীগের তরফে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে ইউএনডিপির নির্বাচনি সহযোগিতা, ব্যালট প্রজেক্ট এবং আসন্ন নির্বাচনের বিষয়ে সংস্থার প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার বিষয়ে আমরা গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। যে নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলকও নয়, সে নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্যও নয়। এই ধরনের সম্পৃক্ততা আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘের মূলনীতি এবং অবাধ, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রসারের ক্ষেত্রে ইউএনডিপির ম্যান্ডেট লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করে।
সোমবারই আওয়ামী লীগের চিঠির গুরুত্ব টের পায় মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ওই দিন জাতিসংঘের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো পর্যবেক্ষক পাঠানোর পরিকল্পনা নেই জাতিসংঘের। তিনি বলেন, জাতিসংঘ সাধারণত নিজ উদ্যোগে নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠায় না। এ ধরনের সিদ্ধান্ত কেবল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ বা নিরাপত্তা পরিষদের ম্যান্ডেট থাকলেই নেওয়া হয়। তিনি আরও জানিয়েছে, বর্তমানে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ জাতিসংঘের কাজের আওতায় নেই। তবে বাংলাদেশে জাতিসংঘের কার্যালয় নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে কি না, ওই বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে। অর্থাৎ, নির্বাচনি সহায়তা থেকেও সরে আসতে পারে জাতিসংঘ।
এরমধ্যেই বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের থাকা-খাওয়ার খরচ বহন করবে তাঁরা। যদিও এই সিদ্ধান্তকে অপরিণামদর্শী, বৈষম্যমূলক এবং স্বার্থের দ্বন্দ্ব সৃষ্টিকারী আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। সবমিলিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে এখন যে ঘোটালা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। কেউ কেউ বলছেন, সবচেয়ে বড় চাল দিল আওয়ামী লীগই।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post