ট্রাম্প জানে ভারত আর ভেনেজুয়েলা যেমন এক জিনিস নয়, তেমন মোদি আর মাদুরাই একই ধরণের ব্যক্তি নয়। তাই মাঝে মাঝে তিনি মোদির গুণগান করেন। আবার এটাও বলেন যে মোদির উচিৎ তাকে খুশি করে চলা। এখানে একটা কথা বলে রাখা ভালো বর্তমানে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত মানেই আমেরিকার সিদ্ধান্ত আর ট্রাম্প মানেই আমেরিকা নয়। কারণ ট্রাম্প আমেরিকার রাষ্ট্রপতি হিসাবে যা সিদ্ধান্ত নেন, তার পিছনে তার ব্যবসায়ীক লাভ জড়িয়ে থাকে, মানে রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের থেকে ব্যবসায়ী ট্রাম্প বড় হয়ে দেখা দেয়। ট্রাম্প জানে মাদুরাইয়ের মত মোদিকে তুলে আনা সম্ভব নয়, যেমন সম্ভব নয় কিম জং উনকে উত্তর কোরিয়া থেকে তুলে নিয়ে আসা। কারণ হল পরমাণু বোমা। বারবার রাশিয়া থেকে তেল কিনতে আমেরিকার নিষেধ উপেক্ষা করে ভারত যে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কিনছে, তা কোন হুশিয়ারীতেই থামাতে পারছে না ট্রাম্প। তাই ভারতকে চীনের সঙ্গে যুদ্ধের ভয় দেখাচ্ছে ট্রাম্প। এই যে কোন দেশ পরমাণু বোমা বানাতে গেলেই অন্য দেশ বাঁধা দেয়, তার একটা কারণও হল, সেই দেশের প্রতি শক্তিধর দেশগুলি ইচ্ছামত তাদের মত চাপিয়ে দিতে পারে না। সে যাক আসল কথায় আসা যাক। তবে শেষে যে কথা বলতে হয় তা আগেই বলে নিই। ভারত ভালো করেই জানে এই মহুর্তে তার বন্ধু বলতে রাশিয়া, না চীন না আমেরিকা। তাই ভারত কাউকেই বন্ধু হিসাবে দেখছে না। কিন্তু ট্রাম্প ভাবছে ভারত আর চীন বহু বছর পর আবার কাছাকাছি আসতে চলেছে, এবং যার মধ্যস্থতায় আছে রাশিয়া। এই অবস্থাকে ভাঙতে গতকাল পেন্টাগন একটি রির্পোট প্রকাশ করেছে যেখানে বলা হচ্ছে যে চীন এবং ভারত যতই কাছাকাছি আসছে বলে মনে হচ্ছে, এটি ভিতরের ছবি নয়, এটি হল বাহ্যিক চিত্র। ভিতরের ছবিটা হল চীন অরুচলকে দখল করার জন্য যে কোন সময় ভারতের উপর হামলা করতে পারে। এবং কোন না কোন একদিন তারা অরুনাচল দখল করবেই, সেকারণে তারা ভিতরে ভিতরে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এবার এটি তো আমেরিকার গোয়েন্দা দফতর থেকে প্রকাশ করা হয়েছে,এটিকে আরও জোরদার করার জন্য আমেরিকার একটি বিখ্যাত সংবাদ পত্র,দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল একটি খবর প্রকাশ করেছে, সেখানে বলা হচ্ছে ভারত চীনের সঙ্গে যুদ্ধের কথা মাথায় রেখেই কাশ্মীর এবং হিমালয়ে নানান ব্রিজ এবং রাস্তাঘাটের উন্নতি করছে। এবং বিভিন্ন জায়গায় সামরিক ঘাঁটি বানাচ্ছে। একই কথা পেন্টাগন বলছে চীনের ক্ষেত্রে, যে চীন ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের কথা মাথায় রেখেই, ভারতের বিভিন্ন সীমান্তে তাদের সেনা ছাউনি তৈরী করছে, এয়ার বেস তৈরী করছে। আর এগুলির কোনটিই মিথ্যে নয়, লাদাখ এবং তিব্বতে চীন যে নতুন নতুন সামরিক ঘাঁটি তৈরী করেছে, তা তো স্যাটালাইট চিত্রে ধরাও পড়েছে। সে সব তো ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের কথা মাথায় রেখেই। ভারতও যেমন চীনের সঙ্গে যুদ্ধ হবে ধরে নিয়ে এগোচ্ছে তেমন চীনও ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্ততি নিচ্ছে। কিন্তু চীন সরকারীভাবে আমেরিকার এই রির্পোটের বিরোধীতা করেছে। তারা বলছে বহুবছর পর ভারত এবং চীন কাছাকাছি আসায় আমেরিকা সহ্য করতে পারছে না। বিশেষ করে গালওয়ান ঘটনার পর আবার যে সরাসরি দিল্লী বেজিং ফ্লাইট পরিসেবা চালু হয়েছে, তা দুই দেশের সম্পর্কের বিশেষ উন্নতির কারনেই সম্ভব হয়েছে। আসলে আমেরিকা ভারতের বন্ধু সাজতে চাইছে। আমেরিকা বোঝাতে চাইছে চীন কোন দিনই তোমাদের বন্ধু হতে পারে না। তাই তোমরা আমেরিকার কথা শুনে চল। চীনের আক্রমন থেকে তোমাদের বাঁচতে হলে আমেরিকার সাহায্য প্রয়োজন। নইলে আরও শুল্ক বৃদ্ধি করা হবে বলেও হুশিয়ারী দিচ্ছে। কিন্তু ভারতকি ভুলে গেছে অপারেশন সিন্দুরের সময় শুধু চিন একা পাকিস্তানকে সাহায্য করেনি। আমেরিকাও সাহায্য করেছে। এমনকি বর্তমানেও আমেরিকা পাকিস্তানকে তাদের এফ সিক্সটিন বিমানগুলিকে আপডেট করার জন্য বহু অর্থ বরাদ্দ করেছে। এটা জেনেও যে চীনের সঙ্গে আমেরিকার কোনদিনই যুদ্ধ হবে না। ফলে ভারতও এক সঙ্গে অনেকগুলি ফ্রন্টে যুদ্ধের জন্য তৈরী হতে বাধ্য।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post