রাষ্ট্র যখন আইন দিয়ে নয়, পরিচয় দিয়ে বিচার করে, তখন সেটা আর রাষ্ট্র থাকে না, সেটা হয়ে ওঠে ক্ষমতার হাতিয়ার। যে ঘটনা বাংলাদেশে পরস্পর ঘটেই চলেছে। এখানে বেছে বেছে হিন্দু নিধন হচ্ছে। আর যারা আক্রমণকারী, যারা তোলাবাজি করছে, হুমকি দিচ্ছে, মব সৃষ্টি করছে, তাঁদের কোনও শাস্তির বালাই নেই। যদিও স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসন ভুল করে তাঁদের ধরে হাজতে পুড়ে দেয়, তাহলে রাতেই কোর্ট খুলে তাঁদের জামিন করানোর ব্যবস্থা করছে ইউনূস সরকার। আবার স্বয়ং আইন উপদেষ্টাও কোনও কোনও ক্ষেত্রে ফেসবুকে হুমকি দিচ্ছেন কেন জুলাই যোদ্ধাদের আটক করা হল, প্রশ্ন তুলে। ফলে তাঁদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে পুলিশ। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ। এখানে পরিচয় ধরে ধরে বিচার পর্ব চলছে। অর্থাৎ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জুলাই যোদ্ধা, বা এনসিপি, জামাতের কেউ হলে তাঁর জামিন। আর আওয়ামী লীগ বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কেউ হলে তাঁকে বিনা বিচারেই কারাগারে পাঠানো। এটাই এখন বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলার চরম নমুনা। ঘটনার ঘনঘটা দেখে অন্তত তাই মনে হচ্ছে।
প্রথম ঘটনা, গত শনিবার সন্ধ্যায় শহরের শায়েস্তানগর এলাকা থেকে মাহদী হাসান নামে এক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। মাহদী হাসান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক। এরপর শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শতাধিক নেতাকর্মী হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করেন। আসলে এর আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভি়ডিও ছড়িয়ে পড়েছিল। তাতে দেখা গিয়েছে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় বসে প্রকাশ্যেই মাহদী হাসান ওসি আবুল কালামকে হুমকি দিচ্ছেন এই বলে যে, তারা বানিয়াচং থানা পুড়িয়েছেন এবং এস আই সন্তোষ চৌধুরীকে জ্বালিয়ে দিয়েছেন। তাঁর ক্ষমতা নিয়েও হম্বিতম্বি করতে শোনা যায়। কিন্তু এত কিছুর পরও দেখা গেল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ওই নেতাকে জামিন দিয়ে দিল আদালত। যদিও হবিগঞ্জ আদালতের পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘মাহদী হাসানকে শায়েস্তাগঞ্জ থানার একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়েছে। মামলায় তার বিরুদ্ধে পুলিশের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অর্থাৎ, গুরুতর অপরাধ করলেও ছাত্রনেতাদের কোনও শাস্তি হবে না বাংলাদেশে।
দ্বিতীয় ঘটনা আরও মারাত্মক। জুলাই যোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভীর রিমান্ড আদেশ বাতিল করে চার সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়ে দিল উচ্চ আদালত। একটি চাঁদাবাজির মামলায় সোমবার দুপুরে গাজীপুরের সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ওই জুলাই যোদ্ধার পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেছিল। এদিকে সুরভীকে অপ্রাপ্তবয়স্ক দাবি করে এই রিমান্ড ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ শুরু করে জুলাই যোদ্ধারা। বিষয়টি বাংলাদেশের আইন ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নজরেও আসে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে লেখেন, সুরভীর বিষয়ে খোঁজ নিয়েছি। ইনশাআল্লাহ সে দ্রুত প্রতিকার পাবে। তার পরই ম্যাজিকের মতো পরিস্থিতি বদলে গেল। গাজীপুরের দায়রা জজ আদালতের বিচারক আগের রিমান্ড আদেশ বাতিল করে সুরভীর জামিন মঞ্জুর করেন। এরপর রাত পৌনে আটটার দিকে জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান সুরভী। আসলে সুরভী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ও ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে যতই ৫০ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকুক না কেন, কেবলমাত্র নাবালিকা বলেই তাঁকে মুক্তি দেওয়া হল। আর তাঁর জন্য তদবির করলেন স্বয়ং আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। এর থেকে বোঝা যাচ্ছে, তিনিই হলেন পালের গোদা। জুলাই যোদ্ধাদের হয়ে ব্যাট ধরছেন তিনি। শোনা যাচ্ছে, এবার জুলাই যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ করা যাবে না এমন একটি অধ্যাদেশ জারি করতে চলেছে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post