একদিকে যখন মার্কিন সেনা ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে ঢুকে সে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতার করে নিউ ইয়র্ক তুলে নিয়ে গেল। অন্যদিকে তখন তড়িঘড়ি বৈঠকে বসলো পাকিস্তান ও চিন। দুটি বিষয়ের মধ্যে মিল কোথায়, সেটা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে পারেন। যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্য একটি সার্বভৌম দেশের অভ্যন্তরে ঢুকে একজন প্রেসিডেন্ট ও তাঁর স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যেতে পারে, তাহলে এই ধরণের কাজ বিশ্বের অন্য কোনও দেশও করতে পারে। তাঁদেরও বাঁধা দেওয়া বা কোনও পদক্ষেপ করার অধিকার বাকি দেশের থাকে না। যেমনটা এই ঘটনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ নিয়ে নিন্দা জানানো ছাড়া আর কিছু করতে পারেনি বাকি বিশ্ব। এখানেই ভয় পাকিস্তান ও তাঁদের নতুন দোসর বাংলাদেশের। সম্প্রতি ভারত অপারেশন সিঁদূর নামে একটি সামরিক অভিযান চালিয়েছিল পাকিস্তানের মাটিতে। তাতে যেমন পাকিস্তানের মাটিতে থাকা ৯টি জঙ্গিঘাঁটি ধুলিস্যাৎ হয়ে গিয়েছিল। তেমনই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল পাকিস্তান সেনার একাধিক সামরিক ও বিমানঘাঁটির। এমনকি দাবি উঠেছে, পাকিস্তানের নিউক্লিয়ার ফেসিলিটি সেন্টারেও আঘাত হেনেছে ভারতীয় মিসাইল। এই হামলা এবং পাকিস্তানের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে একাধিক প্রমান দাখিল করেছে ভারতীয় সেনা। অপরদিকে পাকিস্তান মুখে না স্বীকার করলেও ঘুরিয়ে ফিরিয়ে তাঁরা মেনে নিয়েছে ক্ষয়ক্ষতি এবং আতঙ্কের বিষয়টি। ভারত যে অপারেশন সিঁদুর ২.০ করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে, সেটাও বেশ কয়েকদিন ধরে কানাঘুঁষো শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন মহলে। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অপারেশনের পর এই সম্ভবনা আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। ভারতের অভ্যন্তরেই দাবি উঠছে, মাদুরো বা ওসামা বিন লাদেনকে যে ভাবে তুলে নিয়ে এসেছিল মার্কিন সেনা, ঠিক সেরকমই একটি অপারেশন করে মাসুদ আজহার ও হাফিজ সঈদকে তুলে নিয়ে আসার। আবার বিগত কয়েক মাসে ভারতের সেনাপ্রধান থেকে শুরু করে বিমানবাহিনীর প্রধান পর্যন্ত বলে আসছেন, এবারের অপারেশন সিঁদূর হবে আরও ভয়াবহ। সবমিলিয়ে পাকিস্তানের প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে একটা আতঙ্কের পরিবেশ রয়েছে। তাই তাঁরা তড়িঘড়ি চিনের দ্বারস্থ হলেন।
সগত শনিবার জরুরি বৈঠকে বসেছিল চিন ও পাকিস্তান। জানা যাচ্ছে সেই আলোচনায় উঠে এসেছে কাশ্মীর ও বাংলাদেশ প্রসঙ্গও। দুই দেশ এক যোগে বার্তা দিয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় যে কোনও একতরফা পদক্ষেপের বিরোধিতা করছে তাঁরা। এর অর্থই হল, ভারত যে কোনও সময় পাকিস্তানে হামলা বা সামরিক অভিযান চালাতে পারে বলেই আশঙ্কা। এমনকি এমন কোনও অভিযান বাংলাদেশেও হতে পারে বলে মনে করছে পাকিস্তান ও চিন। তাই এই বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ তুলে ধরে শনিবারের বৈঠকে ‘নয়া প্রস্তুতি’-র কথা বলা হয়েছে। কেমন হবে সেই নয়া প্রস্তুতি? কূটনৈতিক মহল মনে করছেন, চিন-পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন জোট নিয়ে যে কানাঘুঁষো শোনা যাচ্ছিল, এবার তা বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। পাকিস্তান ও চিন মনে করছে, চিনকে ঢাল করে তাঁরা ভারতকে দাবিয়ে রাখতে পারবে। জানা যাচ্ছে, তাইওয়ান, তিব্বতের জিজাং, হংকং ও দক্ষিণ চিন সাগর ইস্যুতে ‘চিনের অবিচ্ছেদ্য অংশ’ দাবি করে বেজিংয়ের পাশে দাঁড়িয়েছে ইসলামাবাদ। পাল্টা চিনও পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রসঙ্গত, অপারেশন সিঁদূরের সময়ও চিন সরাসরি পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছিল। তাঁদের উপগ্রহ থেকে চিন পাকিস্তানকে রিয়েল টাইম ডেটা দিয়ে সাহায্য করেছিল বলে দাবি করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবুও ভারতকে আটকাতে পারেনি পাকিস্তান।
কূটনৈতিকদের মতে, চিন-আফগানিস্তান-পাকিস্তান ত্রিপক্ষীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক এবং চিন-বাংলাদেশ-পাকিস্তান সহযোগিতা ব্যবস্থাকে কাজে লাগানোর জন্য উভয় দেশকেই আহ্বান জানিয়েছে বেজিং। আবার আফগান ইস্যুতে নিজেকে একজন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে বেজিং। অর্থাৎ, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে ভারতের প্রভাবকে কমিয়ে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে চিন এখন পাকিস্তান ও বাংলাদেশের দিকে নজর দিয়েছে। কিন্তু মোদি-জয়শঙ্কর জুটিও বসে নেই। সূত্রের খবর, পরিকল্পনা তৈরিই আছে, শুধু সময়ের অপেক্ষা।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post