কথা ছিল, সারা বিশ্ব বাংলাদেশের কাছে আসবে। ইউনূস ম্যাজিকে বাংলাদেশ হয়ে উঠবে সোনার বাংলা। ফুলে ফেঁপে উঠবে বাংলাদেশের অর্থনীতি, বিদেশি বিনিয়োগের জোয়ার আসবে। কিন্তু হয়েছে ঠিক উল্টোটা। ডিসেম্বরে পয়েন্ট টু পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.৪৯ শতাংশে উঠেছে, যা নভেম্বরে ছিল ৮.২৯ শতাংশ। টানা তিন মাস ধরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, যা কৃষি সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতাকে তুলে ধরছে। অথচ অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যকালের মেয়াদ দেড় বছর পেরিয়ে গিয়েছে। সাফল্যের শিখরে নিয়ে যাওয়ার বদলে তিনি বাংলাদেশকে কার্যত খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছেন। এখন জাতীয় নির্বাচন হতে মাত্র মাস খানেক বাকি, তবুও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নির্বাচন হওয়ার নয়। ক্রমাগত ভারত-বিরোধিতাকে পুঁজি করে যে ইউনূস সরকার একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল, তাঁরাই এখন ভারত থেকে চাল, পিঁয়াজের পর ডিজেল কেনার ছাড়পত্র দিল। তাও ১ লক্ষ ৮০ হাজার টন ডিজেল। ভারতীয় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড বা এনআরএল থেকে এই ডিজেল আমদানির প্রস্তাব মঙ্গলবারই অনুমোদন করেছে বাংলাদেশের ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। এর জন্য বাংলাদেশের মোট ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই এখন ঠাট্টা করে বলছেন, এটাই আসল ইউনূস ম্যাজিক।
ইউনূস ম্যাজিকের আরেকটি নমুনা হল আসন্ন নির্বাচন। আদৌ যে ওই নির্বাচন সুষ্ঠভাবে হবে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। প্রথমত সেনাবাহিনীর মধ্যেই একটা অংশ এখন আসন্ন নির্বাচনের দায়িত্ব নিতে নারাজ। তাঁদের মতে, এই নির্বাচন অবাধ ও অন্তর্ভূক্তিমূলক হচ্ছে না, তাই এই বিতর্কিত নির্বাচনের দায়িত্ব নিয়ে নারাজ বাংলাদেশ সেনার ওই অংশ। তাঁরা ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের কাছে দরবারও করে এসেছেন। এটা যেমন একটা ইস্যু, তেমনই বিশ্লেষকদের একাংশের মতে নির্বাচন ভণ্ডুল করতে বাংলাদেশে হিংসাত্মক আন্দোলন চালাচ্ছে কট্টরপন্থী কয়েকটি গোষ্ঠী। এই গোষ্ঠীগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে জামায়তে ইসলামী বাংলাদেশ। আসলে তাঁরাই এই নির্বাচনকে ভন্ডুল করতে চাইছে। বাংলাদেশে বিগত কয়েকদিনে যে ভাবে সংখ্যালঘু হিন্দুদের হত্যার ঘটনা ঘটছে, তার পিছনে এই গোষ্ঠীগুলির ভূমিকা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এই পরিকল্পনারই অঙ্গ হিসেবে সোমবার জামাত গোষ্ঠী জানিয়ে দিল, “দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নেই”। জামাতের আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থাৎ, নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া নিয়ে ইউনূস সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে দিল জামায়তে ইসলামী। আবার দেখুন, বাংলাদেশে নির্বাচনের গাড়ি গতি বাড়ালেও মনোনয়ন পত্র বাছাই পর্বেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। কেউ কেউ প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কাজে কোনও বিশেষ দলের প্রতি পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে সরব হতে শুরু করেছেন। এদের মধ্যে প্রথমসারিতে সেই জামাত এবং তাঁদের ঘনিষ্ট সহযোগী এনসিপি। এই পরিস্থিতিতে কেউ আবার সাফ জানাচ্ছেন, বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও অবাধ ভোট হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ ভোট পিছিয়ে দেওয়ার পায়তারা চলছে একটি মহলে।
বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে দিন কয়েক আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল জাতীয় পার্টির একাংশ। সোমবার সেই শঙ্কার কথা সরাসরি না বললেও ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বলল জামায়াতে ইসলামী। আবার জাতীয় নাগরিক পার্টি তথা এনসিপি-র মুখ্য সমন্বয়ক ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারির অভিযোগ আরও গুরুতর। তাঁর দাবি, প্রশাসন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের দিকে হেলে পড়েছে ভোটের শুরুতেই। এ বিষয়ে সকলেরই অভিযোগের তির অবশ্য বিএনপির দিকে। বিশেষ করে তারেক রহমান দেশে ফেরার পর বাংলাদেশে একটা বিরাট পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীর একাংশ তারেকের দিকে ঝুঁকে গিয়েছে বলে অভিযোগ। আসলে বাংলাদেশ এখন এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণের মুখে দাঁড়িয়ে। একদিকে ইন্টারন্যাশনাল খিলাড়ি ইউনূসের নেতৃত্বে দেশের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত বেহাল। পররাষ্ট্রনীতিও মুখ থুবড়ে পড়েছে। সেদিক থেকে মুখ ঘোরাতেই নির্বাচনের ঘোষণা করেছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস। মানুষও নির্বাচন নিয়ে মেতে উঠেছে। কিন্তু গোপনে যে ষড়যন্ত্র চলছে, তাতে নির্বাচন না লাটে ওঠে। সেটাই এখন আশঙ্কা রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post