ওরা বিপ্লবী। ওরা একটি নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। দেশ শাসনের দায়িত্বভার তুলে দিয়েছে একজন ‘সিদ্ধপুরুষ’-য়ের হাতে।
ভুল হল। ওটা হবে ‘সেদ্ধপুরুষ’। গত ১৫-১৬ মাস ধরে দেশটাকে উনুনে তিনি সেদ্ধ করেছেন। যে উনুনে দেশটা সেদ্ধ করে নিজে সিদ্ধপুরুষ হয়েছেন, সেই উনুনে আবার কয়লার জোগান দিয়ে এসেছেন ওই জুলাই বিপ্লবীরা। নিন্দুকেরা বলে ওরা জুলাই জঙ্গি।
সব দেশেই তো নিন্দুক থাকে। সব নিন্দুকদের এক দোষ। যত দোষ নন্দ ঘোষ। এই নিন্দুকেরা কোনও কিছুর মধ্যে ভালো দেখতে পারে না। এরা এমনই এক চক্ষু হরিণ। এই যে একটি দেশকে দায়িত্ব নিয়ে রসাতলে পৌঁছে দেওয়া, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বৈরি মনোভাব তৈরি করা, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে শত্রুতা করা, দেশের অর্থনীতিকে তলানিতে পৌঁছে দেওয়া, কর্মসংস্থানের হার তলানিতে নিয়ে যাওয়া – এটা কি কম দায়িত্বের কাজ। সবাই এই দায়িত্ব নিতে পারে না। সবাইকে এই দায়িত্ব দেওয়ায় যায় না। একটি সরকার বেছে বেছে সেই সব যোদ্ধাদের কাঁধে এই দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন, যারা দেশটাকে পিছনের দিক থেকে প্রথম সারিতে নিয়ে যাবে। মাঝখান থেকে এক জুলাই যোদ্ধার অপমৃত্যু হল। সেই মৃত্যু যে সরকারকে কতটা যন্ত্রণা দিয়েছে, কতটা দুঃখ দিয়েছে, সেটা সরকারি বয়ান থেকে শুরু করে সরকারে উপদেষ্টাদের বয়ান শুনলে পরিষ্কার হয়ে যায়। সেই মৃত্যু সরকারকে রীতিমতো চাপে ফেলে দিয়েছে। ওই ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে একধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। যদিও নিউজ বর্তমান সেই সব ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি। সরকার একদিকে যেমন চাপে, একই সঙ্গে সরকার রীতিমতো সন্ত্রস্ত। তাই সরকার ওই সব বিপ্লবীদের নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি গ্রেফতার হওয়া এক জুলাই যোদ্ধার জামিনেরও ব্যবস্থা করেছে। এদিকে জুলাই যোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে (১৭) অবশেষে জামিন দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ-১–এর বিচারক অমিত কুমার দে। জুলাই যোদ্ধা পরিচয় দেওয়া তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে গত ২৫ ডিসেম্বর এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানকে ৩ জানুয়ারি গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের এক দিন পর মাহদী ও ১১ দিন পর সুরভী জামিন পান।
গত সোমবার আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে বসে। বৈঠক পৌরহিত্য করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী। সূত্রের খবর, সাম্প্রতিক দুটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টি বৈঠকে উঠে আসে। দায়মুক্তি কীভাবে হতে পারে, তা নিয়ে সোমবারের বৈঠকে আলোচনা হয়। সূত্র জানিয়েছে, এ সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর যে কয়বার দায়মুক্তি দিয়ে আইন ও অধ্যাদেশ জারি হয়েছে, তা পর্যালোচনা করা হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়পর্বের ঘটনার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের যেভাবে দায়মুক্তি দিয়ে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, জুলাই যোদ্ধাদের সেভাবেই দায়মুক্তি দিয়ে অধ্যাদেশ জারি করা যেতে পারে।
বাইট – জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী
TC
এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ৪ জানুয়ারি তিন দফা দাবি তুলে ধরে। এর মধ্যে ছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতাকে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। একটি সূত্র জানিয়েছে, এ দাবি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয় উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সৈনিকেরা জীবনবাজি রেখে দেশকে ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে মুক্ত করেছে। তারা অবশ্যই দায়মুক্তির অধিকার রাখে। আমরা আগে থেকেই এ বিষয়ে কাজ করছি।’ তিনি বলেন, আরব বসন্ত বা সমসাময়িককালে বিপ্লব বা গণ-অভ্যুত্থানে জনধিক্কৃত সরকারগুলোর পতনের পর যেসব দেশে এ ধরনের দায়মুক্তির আইন হয়েছে, সেসব অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া হবে। এ ছাড়া দেশের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদের আলোকে এবং অতীতে বাংলাদেশে করা এ ধরনের একটি আইন পর্যালোচনা করে আইন মন্ত্রণালয় খসড়া অধ্যাদেশ তৈরি করবে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে উপদেষ্টামণ্ডলীর বৈঠকে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মামলা ও গ্রেপ্তার না করতে ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর একটি বিবৃতি দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তখন বলা হয়েছিল, গণ-অভ্যুত্থানকে সাফল্যমণ্ডিত করতে ছাত্র-জনতা সক্রিয়ভাবে আন্দোলনের মাঠে থেকে কাজ করেছে। বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, রাস্তাঘাট বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।












Discussion about this post