কথাতেই আছে ওস্তাদের মার শেষ রাতে।
কে এই ওস্তাদ, আর তাঁর ওস্তাদি চালটাই বা কী, সেটা অবশ্যই আমাদের পাঠক এবং দর্শকদের জানিয়ে দেওয়া হবে। যাকে কেন্দ্র করেই এই চাল, আগে তা নিয়ে দু-চার কথা।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচন নিয়ে তদারকি সরকার বেশ চাপে। সরকারকে বলা হয়েছিল আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে। তারা সেটা করেনি। উল্টে দলটি প্রতীক বাজেয়াপ্ত করেছে। ফলে, ফেব্রুয়ারির ভোটযুদ্ধে আওয়ামী লীগ যে নেই সেটা একরকম পরিষ্কার। ফলে বাংলাদেশবাসী আশা-ভরসা হয়ে উঠেছে জিয়ার বিএনপি। দেশে ফিরে তারেক জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেছিলেন তাঁর একটা পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর নিজের কথায় I Have a plan.
কী প্ল্যান, সেটা অবশ্য তারেক জিয়া পরিষ্কার করে কিছু জানাননি। তবে তাঁকে ঘিরে দেশবাসীর মধ্যে যে একটা আশা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কারণ, আপামর বাংলাদেশবাসী গত ১৫-১৬ মাস ধরে দেখে এসেছে নৈরাজ্যের সব জ্বলন্ত উদাহরণ। যে বাংলাদেশ ছিল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, সেই বাংলাদেশ হয়ে উঠেছে দ্বেষের মাটি। আইনের শাসন খাতায় কলমে। সংখ্যালঘুদের সঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠদের মধ্যে আগে যে সখ্যের পরিবেশ ছিল সেটা অতীত। সংখ্যালঘুরা এখন সফট টার্গেট। বাংলাদেশে জন্ম নিয়েছে মবক্র্যাসি। আর মাথা চাড়া দিয়েছে মৌলবাদ।
ঢাকার সঙ্গে এখন মাখামাখি ইসলামাবাদের। সেটা এতটাই যে দুই দেশের সামরিক কর্তাদের মধ্যে ভাব বিনিময় থেকে শুরু করে তথ্য আদান প্রদান, দুই দেশের সেনাকর্তাদের একে অন্যের দেশে সফর। এক কথায় যা যা হওয়ার কথা ছিল না, সেই সব কিছু হয়েছে। যেটা সব থেকে বেশি আতঙ্কের, তা হল বাংলাদেশ হয়ে উঠেছ জঙ্গিদের ইডেন গার্ডেন। আর সব কিছু বসে দেখেছেন যমুনাভবনের বাসিন্দা যিনি কিছু হলেই দেশোবাসীর উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। ইদানিং তাকে খুব একটা মিডিয়ার সামনে আসতে দেখা যাচ্ছে না। তাঁর একটা কারণ হিসেবে উঠে এসেছে যে তিনি এখন তল্পিতল্পা গোটাতে ব্যস্ত। শত হলেও তিনি ফ্রান্স থেকে এসেছিলেন। একদিনের জন্য তো আর আসেননি। স্বপ্ন ছিল বেশ কয়েকবছর পদ্মাপারে থাকবেন। রাজত্ব করবেন। কিন্তু সব হিসেব যে সবসময় মেলে না, সেটা তিনি বুঝে উঠতে পারেননি। মনে হয় না নতুন করে বাংলাদেশের এই ‘বামন অবতার’-রের সঙ্গে আমাদের পাঠক বা দর্শকদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার দরকার আছে।
তিনি কিছুতেই নির্বাচনের দিন তারিখ ঘোষণা করতে রাজি হচ্ছিলেন না। ভারত-সহ আন্তর্জাতিকমহলের চাপে পড়ে তাঁকে নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করতে হয়েছে। নির্বাচন ঘোষণা না করলেও তাঁর যেমন বিপদ ছিল, নির্বাচন ঘোষণা করেও তাঁর এখন সমানবিপদ। কিন্তু তাঁর আর কিছুই করার ছিল না। কারণ, ভারত-সহ আন্তর্জাতিকমহল পদ্মাপারে ইউনূস জমানার অবসান চাইছে। সকলের এখন একটাই লক্ষ্য – যেভাবে হোক পদ্মাপারে গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। সে কারণে ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন হতে চলেছে। আর শেষ মুহূর্তে এসে বাংলাদেশের ‘বামন অবতার’-রের মুখে চুনকালি লেপে দিল জাতিসঙ্ঘ। তারা জানিয়ে দিল, বাংলাদেশের ভোটে তারা তাদের কোনও প্রতিনিধি পাঠাবে না।
সোমবার জাতিসঙ্ঘের রুটিন নিউজ ব্রিফিংয়ে জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব স্তেফান দুজারিকের কাছে জানতে চাওয়া হয়, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁরা কোনও প্রতিনিধি পাঠাচ্ছেন কি না? জবাবে দুজারিক বলেন, “ জাতিসঙ্ঘ নিজে নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠায় না যদি না সাধারণ পরিষদ বা নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে কোনও ম্যান্ডেট থাকে। এটি এখন আমাদের কাজের অংশ নয়। তবে ঢাকায় জাতিসঙ্ঘের দফতর থেকে নির্বাচনের বিষয়ে বাংলাদেশকে টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেওয়া হবে। তবে সেটাও অনুমোদন সাপেক্ষে। ”
রুটিন ব্রিফিংয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানে দেশে ফেরা নিয়েও তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়। বেশ রসিকতার সঙ্গে জবাব দিয়েছে দুজারিক। তিনি বলেন, “ আমরা খবরের মূল্যায়ন করি না। সাংবাদিকেরাই খবরের মূল্যায়ন করেন। ” তবে বাংলাদেশের জনগণ যেন নিজেদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি অবাধে প্রকাশ করতে পারে, সেই প্রক্রিয়াকে জাতিসঙ্ঘ সমর্থন করবে বলে মন্তব্য করেন স্তেফান দুজারিক।












Discussion about this post