বহুল চর্চিত, বহুপঠিত এবং বহুশ্রুত বাংলার এই প্রবাদটির কথা নিশ্চই আমাদের সকলের জানা – ‘নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। ’
প্রবাদটির অর্থ – অভাব এতটাই যে পান্তাভাত খাওয়ার জন্য নুন আনতে গেলে পান্তাভাত শেষ হয়ে যায়। এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে মানুষ এতটাই গরিব যে লবণ কেনার মতো সামর্থ্য তাদের থাকে না।
এর বিপরীতেও একাধিক প্রবাদ রয়েছে।
‘রাজার বেটা রামদাস, খোলা খায় ফেলে শাঁস।’
অর্থের গরিমা এমন যে শাঁস ফেলে দিয়ে খোলা খাচ্ছে।
হালফিল বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দুটি প্রবাদই প্রযোজ্য। প্রথমটি নিয়ে কিছু কথা।
বাংলাদেশের অর্থনীতি যে তলানিতে চলে গিয়েছে, তা সকলেই জেনে গিয়েছে। এতটাই তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে যা বলার কথা নয়। সরকারের ঋণ ছাড়িয়ে গিয়েছে ২১ ট্রিলিয়ন টাকা। এটা ‘নিউজ বর্তমান’-য়ের তৈরি করা হিসেব নয়। এই হিসেব পেশ করেছে সে দেশের অর্থবিভাগ। কী বলা হয়েছে রিপোর্টে, একবার দেখে নেওয়া যাক।
গত বছরের জুনের শেষে বাংলাদেশ সরকারের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১.৪৪ ট্রিলিয়ন টাকা। যা একবছর আগের ১৮.৮৯ ট্রিলিয়ন টাকার তুলনায় ১৪% বেশি। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ০৯. ৪৯ ট্রিলিয়ন টাকা, যা মোট ঋণের ৪৪. ২৭ শতাংশ। যা গত পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে এসেছে। ২০২১ সালে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ছিল ০৪. ২০ ট্রিলিয়ন টাকা। বৈদেশিক ঋণের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে। যা গত অর্থবছরের ১০. ৭৬ ট্রিলিয়ন টাকা থেকে প্রায় ১১% বেড়ে ১১. ৯৫ মিলিয়ন ট্রিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। ২০২১ সালে সংখ্যাটা ছিল ০৭. ২২ ট্রিলিয়ন টাকা। ২০২৫ সালে আর্থিক খাত ছিল বড় চাপের মধ্যে। খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংক খাতের পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়ে। তবে দুর্বল পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হওয়ায় ২০২৬ সালে ঋণপ্রদান ও আর্থিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে কিছুটা শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
ব্যাঙ্কিং খাত পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। খেলাপি ঋণের পরিমাণ হ্রাসের পরিবর্তে কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর কারণ হিসেবে উঠে এসেছে রাজনৈতিক প্রভাব, দূর্বল সরকার এবং সুশাসন। সুদের হার বৃদ্ধি করা হলেও বিনিয়োগ প্রত্যাশিত হারে বাড়েনি। উল্টে ক্ষুদ্ধ ও মাঝারি উদ্যোক্তরা ঋণ নিতে গিয়েও পিছিয়ে আসেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঋণের সুদ ৯ শতাংশ থেকে ১৪-১৬ শতাংশ হওয়ার কারণে অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী উদ্যোক্তারা বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, যার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে কর্মসংস্থানে।
দেশের এই সকরুণ অর্থনীতির চিত্রটা রাতারাতি বদলাবে না বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্টমহল। কিন্তু তদারকি সরকারের তাতে বিন্দুমাত্র হেলদোল নেই। এই অবস্থায় পাকিস্তানের থেকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান কেনার কথা চিন্তা করছে বাংলাদেশ। দুই দেশের সেনাবাহিনীর পদস্থকর্তাদের মধ্যে এই নিয়ে একপ্রস্থ আলোচনাও হয়ে গিয়েছে। বাংলাদেশ কিনবে JF-17 থান্ডার যুদ্ধবিমান। এই বিমান যৌথভাবে তৈরি করেছে চিনের চেঙডু এয়ারক্র্যাফট ইন্ডিস্ট্রি কর্পোরেশন এবং পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স, সংক্ষেপে পিএসি।
বর্তমানে পাকিস্তান সফর করছেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সর্বাধিনায়ক এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। তিনি পাকিস্তান বিমানবাহিনী সর্বোচ্চকর্তা এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবার সিদ্দিকীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পাকিস্তানের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম দ্য ডন জানিয়েছে, দুই এয়ার চিফ মার্শালের মধ্যে JF-17 থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
কী এই যুদ্ধবিমান?
JF-17 থান্ডার একটি হালকা যুদ্ধবিমান। সব ধরনের আবহাওয়ার সঙ্গে খুব সহজেই মানিয়ে নিতে পারে। সামরিক পরিভাষায় এটি একটি মাল্টি রোল ফাইটার জেট। ভূমিতে আঘাত হানা, শত্রুর ঘাঁটির ওপর নজরদারি চালিয়ে যাওয়া এবং নির্ভুলভাবে হামলা চালাতে সক্ষম এই যুদ্ধবিমানটি টেকঅফের সময় সর্বোচ্চ ১২ হাজার ৭০০ কেজি ওজন বহন করতে পারে। এর সর্বোচ্চ প্রায় দুই হাজার ২০৫ কিলোমিটার।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post