২০২৪-য়ের জুলাই-অগাস্ট অভ্যুত্থানকে সিঁড়ি করে ক্ষমতা মসনদে আসীন হয়েছিলেন শান্তিতে নোবেলজয়ী মুহম্মদ ইউনূস। তিনি ‘দেশোবাসী’কে এই বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে বাংলাদেশকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবেন। দেশে হবে কর্মসংস্থান। অর্থনীতির চাকা জেট গতিতে এগোবে। সোনার ফসলে তিনি বাংলাদেশকে মুড়ে দেবেন। দেশবাসীও তাঁর কথায় বিশ্বাস করেছিলেন। তাঁর কথায় ভরসা করেছিলেন। কিন্তু দেশশাসনের চাবি যাঁর হাতে গিয়েছে, তাঁর পরিকল্পনা ছিল অন্যরকম। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল তদারকি সরকার প্রধান থেকে রাষ্ট্রপতির পদ দখল করা। তাঁর সেই স্বপ্ন কতটা সফল হবে, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ, জাতীয় রাজনীতির অভিমুখ বদলে গিয়েছে। জাতীয়স্তরের এক নেত্রীর মৃত্যু হয়েছে।
এই মৃত্যু নিয়ে কিন্তু বিতর্ক রয়েছে। বলা হচ্ছে, এটি একটি দীর্ঘ পরিকল্পনার ফল। এই প্রসঙ্গে সর্বশেষ বিজয় দিবসে সেনাভবনের একটি অনু্ষ্ঠান তুলে ধরা হচ্ছে। বিশেষ একটি রাজনৈতিকদলের সর্বোচ্চ নেত্রী অসুস্থ হওয়ার পরেও তাঁকে তাঁর বাড়ি থেকে এক প্রকার জোর করে সেনাভবনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁকে জোরজবরদস্তি খাওয়ানো হয়েছে। অথচ তাঁর খাদ্যতালিকা তৈরি করে দেন চিকিৎসকেরা। অনুষ্ঠানের দিন সেই সব নিয়মের তোয়াক্কা করা হয়নি। তার ফলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবস্থা একটা সময় এমন সঙ্কটজনক অবস্থায় পৌঁছে যায়, যে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা ছাড়া দ্বিতীয় কোনও রাস্তা ছিল না। হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসার জন্য তৈরি করা হয়েছিল মেডিক্যাল বোর্ড। সেই বোর্ডে বিদেশের নামজাদা চিকিৎসকেরা যোগ দেন। একসময় তাঁকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার তোরজোরও হয়। কিন্তু কোনও এক ‘রহস্যজনক’ কারণে তাঁর লন্ডন যাওয়া হয়নি। মৃত্যুর দিন পর্যন্ত তিনি দেশেই ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয় একটি বর্ণময় রাজনৈতিক অধ্যায়ের। দলের ব্যাটন এখন তাঁর পুত্রের হাতে।
কথা হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে। বেগম জিয়া যে দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ, তা সকলের জানা। সেই অসুস্থ অবস্থায় গত সেনাদিবসের দিন তাঁকে তাঁর বাড়ি থেকে জোর করে সেনাভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে এতটাই খাতির-যত্ন করা হয় যে খাতিরের ধাক্কায় তিনি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারপরের ঘটনা আমাদের সকলের জানা। জিয়াকে সুস্থ করে তোলার জন্য চিকিৎসকেরা আপ্রাণ চেষ্টা চালান। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির গতিপথ বদলে দিয়েছে। ফেব্রুয়ারির ভোটে প্রবলভাবে বইবে জিয়া-আবেগের হাওয়া। ফলে, তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হওয়াটা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।
সাউথব্লক এই আচমকা বদলে যাওয়া পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। হাসিনা জমানায় দিল্লি-ঢাকার সম্পর্ক যেমন ছিল, তারেক-যুগে সেই সম্পর্ক সেরকম না হলেও একেবারে যাতে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে না যায়, তার জন্য সময় থাকতে থাকতে জমিতে হাল দেওয়া শুরু করে সাউথব্লক। জয়শঙ্করকে জিয়ার জানাজায় পাঠানোর উদ্দেশ্য শুধু ভারতের তরফ থেকে সরকারিভাবে শোকবার্তা জ্ঞাপন করা নয়, ঢাকার সঙ্গে হার্দিক কূটনৈতিক সম্পর্কের একটা সেতু রচনা করা। সেই সেতু রচনা যেমন পদ্মার ওপারে হয়েছে, হয়েছে পদ্মার এ পারেও। দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়েছিলেন আমাদের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সেখানে তিনি জিয়ার প্রতি তাঁর শেষশ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একদিকে জয়শঙ্কর, অপর দিকে রাজনাথ সিং – এই দুইকে দিয়ে সাউথব্লক ইউনূসের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বাসনাকে পদ্মায় ডুবিয়ে ছাড়লেন। সাউথব্লক ঠাণ্ডা মাথায় এই রকম একটি মারাত্মক পদক্ষেপ করবে, সেটা ঢাকা একবারের জন্য বুঝতে পারেনি। সাউথব্লকের চালে রীতিমতো ধরাশায়ী তদারকি সরকার প্রধান। তিনি বুঝতে পেরেছেন যে তাঁর সময় এবার শেষ হতে চলেছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post