‘সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙে’ – ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে এই নীতি নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এই নীতি এতটাই ক্ষুরধার যে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিশ্চিতভাবে প্রশ্নে বিদ্ধ হবেই হবে। কী রণকৌশল নিলেন শেখ হাসিনা, সেটা অবশ্যই আমরা আমাদের প্রিয় পাঠক ও দর্শকদের সামনে তুলে ধরব। এই আওয়ামী লীগকে নিয়ে যে কদর্য রাজনীতি ইউনূস করলেন, এবার তিনি সেই কদর্য রাজনীতির ফল হাতেগরম পেতে চলেছেন।
এটা আর নতুন করে বলার দরকার পড়ে না যে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ইউনূস প্রতিহিংসার রাজনীতি করেছেন। তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল যে কোনও মূল্যে ক্ষমতায় টিকে থাকা। তার জন্য মৌলবাদী শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। সেই সব গোষ্ঠীর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। স্বার্থাণ্বেষিদের সঙ্গে গোপনে আলাপ-আলোচনা করেছেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তাঁর অঙ্গুলি হেলনে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন দলের প্রতীক ফ্রিজড করেছে। এই পর্যন্ত সব হিসেবে মিলে গিয়েছিল। গোল বাঁধল অন্য জায়গায়। আসলে গোল বাঁধিয়ে দিল একটি ঘটনা। জিয়ার মৃত্যু। ফলে, এখন বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে উল্টো রথ। এখন পদ্মায় যে হাওয়া বইছে, তাতে তারেকের প্রধানমন্ত্রী হওয়া শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা। একই সঙ্গে এটাও জানিয়ে দেওয়া ভালো যে ইউনূসের দুঃশাসনপর্ব শেষ হতে চলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে প্রথম যে ভোটটি পড়বে সেই ভোটেই সূচনা হবে ইউনূসের দুঃশাসনপর্বের পরিসমাপ্তি। কিন্তু ফেব্রুয়ারির ভোটে আওয়ামী লীগ যে অংশগ্রহণ করতে পারছে না, সেটা এখন স্পষ্ট। ফলে, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট হবে বাংলাদেশের একটি বৃহত্তম রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে। অনেকে বলেছে, শীর্ষ নেতৃত্ব সেটা বুঝতে পেরে গিয়েছিল। তাই দলীয় কর্মীদের পরামর্শ দেওয়া হয় আগের মতো ঝটিকা মিছিল না করার। মূলত বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে দলের রণকৌশল কী হবে, সেটা ঠিক করার জন্য এই সব কর্মসূচির ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছিল। তাহলে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভূমিকা কী হবে? আদৌ কি তাদের কোনও ভূমিকায় দেখতে পাওয়া যাবে। দলের নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূলস্তরের কর্মী এবং সমর্থকেরা তো দলনেত্রীর নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে। তারা জানতে চাইছে, ১২ ফেব্রুয়ারি তারা কী ভূমিকা পালন করবে? কারণ, আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশ নেওয়ার কোনও সুযোগ আর থাকছে না। কারণ, মনোনয়ন জমা দেওয়ার তারিখ শেষ। সেগুলি ঝাড়াই-বাছাইয়ের কাজও শেষ। আর কয়েকদিনের মধ্যে শুরু হয়ে যাবে প্রচার।
দলের তরফে নেতা-কর্মী-সমর্থকদের কী বার্তা দেওয়া যায়, তা ঠিক করতে শীর্ষ নেতৃত্ব গত রবিবার, ৫ জানুয়ারি বৈঠকে বসে। বৈঠকে ভার্চুয়াল যোগদান করেন দলের সুপ্রিম কম্যান্ডার হাসিনা। ভোট বয়কট করা হলে আন্তর্জাতিকমহলে নেতিবাচক বার্তা যাবে সে ব্যাপারে নিশ্চিত ছিল শীর্ষ নেতৃত্ব। কারণ, এটা করা মানে একটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে অস্বীকার করা। সেই পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেওয়া। তার থেকে এমন একটা রাস্তায় হাঁটা দরকার যে রাস্তায় হাঁটলে সাপও মরবে, লাঠিও ভাঙবে না। আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ‘নো বোট নো ভোট’। মানে যেখানে নৌকা নেই, সেখানে আওয়ামী নেই।
বিষয়টা আরও একটু খুলে বলা যাক। আওয়ামী লীগ থেকে সরকারের ওপর মহল থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিকমহলে এই বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত। দলীয় কর্মীদের এই মর্মে প্রচার চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর ভোটের দিন দলের নেতা থেকে শুরু করে কর্মী-সমর্থকদের বলা হয়েছে বুথে না যেতে। সেটা হলে ভোট হবে একতরফা। আর ফল প্রকাশের পর সেই ভোট প্রশ্নে বিদ্ধ হবে।
হাসিনা গত কয়েকদিন ধরে বলে এসেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি দলের নেতাকর্মীরা যাতে বুথে গিয়ে তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করেন, সে জন্য বিএনপি এবং জামায়াত নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। এই অবস্থায় আওয়ামী লীগ ‘কম্যান্ডার’ সাফ জানিয়ে দিয়েছে ভোটের দিন দলের কর্মী-সমর্থক এবং আওয়ামীপন্থীদের কাজ হবে বুথে না যাওয়া। দলের শীর্ষনেতাদের তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে বুথ বয়কট যে আদর্শ পথ সেটা তৃণমুলস্তরের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের বোঝাতে হবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post