যে কোন ভাবে মোস্তাফিজুরকে আইপিএলে খেলাতে পারলেই জিতে জেত বাংলাদেশ। কিন্তু আমাদের শেষ পর্যন্ত জিততে হবে, এই ভাবনা থেকে হেরে গেল বাংলাদেশ। শুধু হেরে গেল বললে ভুল হবে। আইসিসি এবং বিসিসিআই এর সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে তাদের অনেক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হতে হবে। যা শুধু বিশ্বকাপ না খেলার জন্য নয়, এর পর ভারত বাংলাদেশ ম্যাচ না হলে বাংলাদেশের আর্থিক ক্ষতিই বেশী হবে এবং যা চলতে থাকবে নতুন করে সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত। ***
দেশে দেশে বিদ্বেষ, ধর্মে ধর্মে বিদ্বেষ, এগুলিকে স্বাভাবিক করার জন্যই তো খেলা এবং খেলোয়াড়।ভারত পাকিস্তানে যুদ্ধের সময়ও কোন পাকিস্তানি ক্রীড়াপ্রেমী বিরাট কোহলি অথবা শচিনের প্রতি ঘৃণা দেখায় নি। নিশ্চিৎভাবে ভারতের ক্রীড়াপ্রেমীরাও পাকিস্তানে বসবাসকারী তাদের প্রিয় খেলোয়াড়দের প্রতি ঘৃণা বা ক্ষোভ দেখায়নি। আসলে
যারা খেলাধুলা করেন তারা উপলব্ধি থেকে বিশ্বাস করতে বাধ্য হবেন যে, খেলা শুধু মাত্র মানবতার সংস্কার বা সংস্কৃতি নয়, খেলা হল ঘৃণা দ্বেষ এবং হিংসার বিরুদ্ধে সর্বশ্রেষ্ঠ ঔষধ। দুটি হিংস্র মানুষকে কিছু ক্ষনের জন্য শান্ত করতে পারে খেলার মাঠ, তাদের কিছুক্ষনের জন্য মাঠে নামিয়ে দিন, দেখুন তারা হিংসা ভুলে এক অপরকে আলিঙ্গন করছে। ভিন্ন ধর্ম এবং ভিন্ন দেশের বিভেদ ভুলাতে একমাত্র ঔষধ হল খেলা, যে ঔষুধের কাজ দেরিতে হলেও উপলব্ধি করা যায়। ক্রিড়াপ্রেমী হিসাবে চাইবো মোস্তাফিজুর আইপিএল খেলুক এবং বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করুক, যারা খেলা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেন তারা ভেবে দেখুক এটা শুধু খেলার ক্ষতি নয়, এটাও আর্থিক ক্ষতিও, কারণ বাংলাদেশও ক্রিকেট অর্থনীতিতে যথেষ্ট অবদান রাখে।আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুরের বাদ পড়াটা, শুধু বাংলাদেশ ভারত অথবা মোস্তাফিজুরের ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, ক্ষতি হল ক্রিকেটের, কারণ মোস্তাফিজুরের মত বড় মাপের খেলোয়াড় পঞ্চাশ একশো বছরে একবারই জন্মগ্রহণ করে। তার খেলা দেখতে না পাওয়াটাও দর্শকদের জন্য ক্ষতি। তিনি উচ্চমানের ক্রিকেটার শুধু নন, তিনি মানুষ হিসাবে অতি সাধারণ এবং সুন্দর মনের মানুষ। বাংলাদেশের এই হিন্দু বিদ্বেষ সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হত্যা আক্রমনের সঙ্গে তিনি তো যুক্ত নন। তাই তার খেলা দেখতে না পারাটা সকল ক্রিকট প্রেমীর কাছেই ক্ষতি। কিন্তু এই ক্ষতির জন্য দায়ী কি ভারত নাকি বাংলদেশের অস্থির ধর্মভিত্তিক রাজনীতি। সে দেশের সরকার অন্য সব বিষয় নিয়ে যত চিন্তিত, তার এক শতভাগের এক ভাগও চিন্তিত নন সে দেশের সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার নিয়ে। সে দেশে যে সংখ্যালঘুদের উপর নির্মম অত্যাচার হচ্ছে তার খবর জাতি সংঘের কাছে আছে, কিন্তু তারা তো নিরপেক্ষ নন, তারা আমেরিকার স্বার্থ দেখতে ব্যস্ত, তাই বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর যাই ঘটে যাক তারা তাই নিয়ে বিশেষ প্রতিবাদ করেন না। বলতে গেলে ভারত ছাড়া আর কেউ নেই বাংলাদেশে সংখ্যলঘুদের উপর অত্যাচারের প্রতিবাদ করতে। তবে শোনা যাচ্ছে বাংলাদেশে যদি ভোট হয়, যদিও না হওয়ার আশঙ্কাই বেশী। ভোট পর্যবেক্ষনে প্রতিনিধি দল পাঠাতে অস্থিকার করেছে জাতিসংঘ। হিন্দুদের আওয়ামীলীগ ট্যাগ দিয়ে এই যে অত্যাচার তাদের জীবন্ত জালিয়ে দিয়ে আনন্দ উল্লাস তা কি অন্যদেশের নজরে নেই? নিশ্চয় আছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার বলছে তারা তাদের দেশের খেলোয়াড়দের সুরক্ষার কারণে ভারতে বিশ্বকাপ খেলবে না, কারণ ভারতে নাকি উগ্রহিন্দুবাদের প্রভাব অনেক বেশী। আসলে বিশ্বকাপ খেলা থেকে বাংলাদেশ যদি সরে দাঁড়ায় বা এই ভাবে যদি খেলার সংস্কৃতি বন্ধ করে দেওয়া যায়, তাতে বাংলাদেশের একটি সম্প্রদায় যে খুশি হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ভারতে খেলতে না এলেও ভারত থেকে চাল আমদানি করতে কোন অসুবিধা নেই বাংলাদেশের। কারণ ভারত থেকে অনেক কম দামে চাল পাওয়া যাচ্ছে। আসলে বাংলাদেশের অর্থনীতি শেষ। গত এক বছরে যে মানের লুঠপাঠ হয়েছে তাতে বাংলাদেশ আরও পঞ্চাশ বছর পিছিয়ে গেছে। আর এর প্রভাব পড়ছে যারা লুঠ পাঠ করতে পারেনি আর যারা সংখ্যালঘু হিন্দু তারা। সেই সঙ্গে যারা সাধারণ কর্মজীবি।












Discussion about this post