বাংলাদেশের জন্য ভিসা পরিষেবা কড়াকড়ি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিতে হলে ১৫ হাজার ডলারের বন্ড দেওয়ার নিয়ম চালু করা হয়েছে। এই ভয়াবহ নিয়ম চালু করে দিয়েছে বাংলাদেশের উপর। তবে মনে হচ্ছিল, এটাই হয়তো সর্বোচ্চ চাপ। কিন্তু না। এর থেকেও ভয়ঙ্কর একটি চাপ এল। যুক্তরাষ্ট্র থেকে কয়েক হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা। যা নিয়ে নানাভাবে আলোচনা চলছে রাজনৈতিক মহলে। পাশাপাশি এই প্রশ্নও উঠছে, তবে কি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনওভাবে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারছে না বাংলাদেশ? এদিকে আবার বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান আমেরিকা সফর করেছেন। সেখানে বারবার প্রশ্ন ওঠে, পররাষ্ট্র উপদেষ্টার কাজ কেন নিরাপত্তা উপদেষ্টা করছেন? কারণ বারেবারে ট্রাম্পের ভয়ানক খেলায় চাপে বাংলাদেশ।
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশিদের গণহারে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৫ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। জানা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসরত প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাতে চায় ওয়াশিংটন। ট্রাম্প প্রশাসনের অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আসলে যুক্তরাষ্ট্র চায়, বাংলাদেশ যেন মার্কিন পণ্য আমদানি বাড়ায়। দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমায়। ২০২৫ সালের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিষয়টি তাদের অগ্রাধিকারের তালিকায় আছে। অর্থাৎ মহম্মদ ইউনূস সরকারের উপর মোটেই খুশি নয় ট্রাম্প প্রশাসন। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত। উল্টোদিক থেকে চাপ সৃষ্টি করছে বাংলাদেশকে। এদিকে আবার গত বুধবার ওয়াশিংটনে পৌঁছেছে খলিলুর রহমান। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে বৈঠক করার কথা ছিল তাঁর। দক্ষিণ এবং মধ্য এশিয়ার বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পলকাপুরেরও যোগ দেওয়ার কথা ছিল। এই বৈঠকে ভারতের নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতেরও যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি উপস্থিত হতে পারেননি। এদিকে বাংলাদেশে খলিলুর রহমানের সঙ্গে মার্কিন সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি বেঞ্জন লিঞ্চেরও কথা রয়েছে যেখানে বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হবে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন ক্রিসটেনসনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। ১২ জানুয়ারি নতুন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে পা দেবেন। অনেকেই মনে করছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাবে। এদিকে কিছুদিন আগেই ৩০০ বাংলাদেশীকে পাঠানো হয়েছিল। আরও ৩০০ জনকে পাঠানোর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এবং পর্যায়ক্রমে অন্তত ৫ হাজার বাংলাদেশীকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাণিজ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ৮ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, আর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে ২ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করেছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম, তুলো ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসসহ আরও পণ্য আমদানি শুরু করেছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করা কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে উচ্চ শুল্ক পরিশোধ করতে হচ্ছে। এদিকে নিরাপত্তা উপদেষ্টা এমন একটি সময় আমেরিকা সফরে গিয়েছেন, যখন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ভিসা বন্ড তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে, ফলে দেশটিতে বাংলাদেশীদের ভ্রমণ আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের অন্তবর্তী কালীন সরকার কিছুতেই পেরে উঠছে না, আসলে পররাষ্ট্র নীতি কিভাবে নিতে হয়। তাই প্রত্যেকটি দেশ বারেবারে বাংলাদেশকে মাত দিয়ে দিচ্ছে। অনেকেই বলছেন, নির্বাচিত সরকার যতক্ষণ না আসবে ততক্ষণ বাংলাদেশের নাগরিকরা এই পরিস্থিতি ভোগ করবেন। পরিস্থিতি পাল্টানোর জন্য এখনও পর্যন্ত একমাস অপেক্ষা করতে হবে দেশের নাগরিকদের।












Discussion about this post