হাতে মাত্র ৩২ দিন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ভোট। এই ভোটের দিকে নজর রয়েছে সব দেশের। ভারত যেমন তাকিয়ে রয়েছে, তাকিয়ে রয়েছে পাকিস্তান। কড়া নজর রেখেছে আমেরিকা। তদারকি সরকার প্রধান মুহম্মদ ইউনূস এবং নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা এই ভোট অবাধ ও সুষ্ঠু করতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু ভোট-পূর্ব পরিস্থিতি কিন্তু আশ্বাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। প্রার্থী খুন হয়েছে। সে দেশের এক সাংবাদিককে গলার নলি কেটে খুন করা হয়েছে। জুলাই-অগাষ্ট অভ্যুত্থানের সময় লুঠ হওয়া অস্ত্র চলে গিয়েছে সমাজবিরোধীদের হাতে। ফলে, ভোটের দিন রক্ত ঝড়বে না, এটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
যদিও সরকার এবং নির্বাচন কমিশন থেকে প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। নানা প্রান্তে শুরু হয়েছে ধরপাকড়। বেইনি অস্ত্র কারবারীদের বিরুদ্ধে সরকারের তরফে করা হয়েছে একাধিক পদক্ষেপ। তারপরেও ৩৫ দিনে ১১ জন হিন্দু সংখ্যালঘু খুন হয়ে গিয়েছেন। বাংলাদেশে বইতে শুরু করেছে তাজা রক্তের স্রোত। এই অবস্থায় সে দেশের লক্ষাধিক মানুষ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচিত করবেন তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে।
আসন্ন ভোটে আওয়ামী লীগ যে নেই সেটা পরিষ্কার। জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে বাংলাদেশের একটি বৃহৎ রাজনৈতিকদলকে বাদ দিয়ে। অনেকেই মনে করছেন, দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে সরকার গঠন করতে চলেছে জিয়ার দল বিএনপি। আসন্ন ভোটে জামাত একটা ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে চলেছে। যদি দেখা যায় বিএনপি কোনওভাবেই ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারল না, সে ক্ষেত্রে তাদের কোনও একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট গঠন করতে হবেই। জামায়াতও তাদের সমমনোভাবাপন্ন দলগুলিকে এক ছাতার তলায় আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারির লড়াই দ্বিমুখী। বিএনপি গোষ্ঠী বনাম জামায়াত গোষ্ঠী। ১২ তারিখ ভোটপর্ব মিটে যাওয়ার পর থেকে শুরু হবে গণনা। গণনার সময় অশান্তির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সব কিছুর দায় নিয়ে বিদায় নিতে হবে ইউনূসকে।
এদিকে পাবনা – ১ এবং পাবনা-২ আসনে নির্বাচন সংক্রান্ত সব কাজ আপাতত স্থগিত থাকছে। সংসদীয় কেন্দের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় ওই দুই কেন্দ্রের ভোটের কাজ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, আপিল বিভাগের আদেশ অনুসারে, ওই আদালত নতুন করে নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আপাতত ওই দুই কেন্দ্রে নির্বাচন কাজ স্থগিত থাকবে। এই রকম টান টান হাইভোল্টেজ ম্যাচ শুরু হওয়ার মুখে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে তলব করল আমেরিকা।
খলিলুর দেশ ছেড়েছেন একেবারে গোপনে। তাঁর এই সফর নিয়ে সরকারের তরফে কোনও বিবৃতি জারি করা হয়নি। কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার মতো একজন ভিভিআইপি আমেরিকা গিয়েছেন, সেই খবর কি আর চাপা থাকার কথা নয়। চাপা থাকেনি। কিন্তু কী এমন হল, যার জন্য তড়িঘড়ি আমেরিকা দৌড়তে হল খলিলুরকে? নির্বাচনের মাত্র এক মাস দু’দিন কেন আমেরিকা বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে তলব করল, তা নিয়ে ইতোমধ্যে জাতীয় রাজনীতিতে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। শুরু হয়েছে চর্চাও। প্রশ্ন উঠছে আসন্ন ভোট নিয়ে বিশেষ বার্তা দিতেই কি খলিলুরকে তলব করল ওয়াশিংটন ডিসি?
একাধিক সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে খলিলুরকে মার্কিন প্রশাসন তাদের অভিমত জানিয়ে দেবে। একটি প্রান্ত থেকে দাবি করা হচ্ছে খলিলুরের আমেরিকা সফরের উদ্দেশ্য বাণিজ্য নিয়ে সে দেশের সঙ্গে কথা বলা। যদিও সেই তত্ত্ব খারিজ করে দিচ্ছে খলিলুরের সঙ্গে দুই মার্কিন কূটনীতিকের সাক্ষাৎকার। ঠিক ছিল বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বৈঠক করবেন পল কাপুর এবং সার্জিও গোরের সঙ্গে। পাশাপাশি আমেরিকার সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা। কিন্তু বিশেষ কারণে সার্জিও গোর দিল্লি চলে গিয়েছেন। একটি সূত্র বলছে, পাঁচ হাজার বাংলাদেশিকে সে দেশে ফিরিয়ে দিতে চায় আমেরিকা। ভোটের মুখে আমেরিকা যাতে এই কঠোর সিদ্ধান্তে উপনীত না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে চায় ঢাকা। সে কারণে অতি দ্রুততার সঙ্গে খলিলুর আমেরিকা গিয়েছেন।












Discussion about this post