হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশের চিত্রটা কি, তা আর নতুন করে বলার দরকার পড়ে না। যে দেশটার সঙ্গে বছর খানেক আগেও সম্পর্ক ছিল হার্দিক, সেই দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ক্রমেই তিক্ত হয়ে উঠেছে। এর জন্য দায়ী অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ইউনূস। তিনি দেশবাসীকে যে আশার আলো দেখিয়েছিলেন, যে সব আশ্বাস দিয়েছিলেন, সেগুলির যে মিথ্যের সুতো দিয়ে সুনিপুণ করে তৈরি করা, সেটা এখন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। এটা লজ্জাজনক যে একজন সরকার প্রধান দায়িত্ব নিয়ে দেশটাকে অন্ধকার থেকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে তুলেছেন। দেশের অর্থনীতি খাদের কিনারায় চলে গিয়েছে। শিল্প নেই। একের পর কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। দেশে বাড়ছে বেকার। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দ্বেষ। পদ্মাপারের বেশ কয়েকজন উঠতি নেতা লাগাতার ভারত-বিরোধী স্লোগান দিয়ে চলেছেন। হুমকি দিয়েছেন সেভেন সিস্টার্স কেড়ে নেওয়ার। এমনকী ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে তাদেরকে ভারত-বিরোধী কাজে যুক্ত করার মতো হুমকিও এসেছে। পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও নিপীড়ন। অথচ সরকার কিন্তু হাতে হাত গুটিয়ে বসে রয়েছে। একটি সরকারের যে দায়িত্ব পালন করার কথা, পদ্মাপারের সরকার সেটা করছে না। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যে আচরণ করার কথা ছিল, যে ভূমিকা তাদের নেওয়ার কথা ছিল, তারা সেটা নেয়নি। সরকারের বিদেশ নীতি হয়ে গিয়েছে বিদ্বেষনীতি। যদি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গী বদলে যায়, তাহলে মৌলবাদী শক্তি যে মাথাচাড়া দেবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
কার্যক্ষেত্রে সেটাই হয়েছে। পদ্মাপারের বসবাসকারী সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিশানা করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত ৩৫ দিনে ১১জন হিন্দু সংখ্যালঘু খুন হয়েছেন। আগামীদিনে সংখ্যাটা যে বাড়বে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এসব কিছুর সঙ্গে নতুন করে ভারতের উদ্বেগ বাড়িয়েছে পাকিস্তানের সঙ্গে সে দেশের ঘনিষ্ঠতা। দুই দেশে সামরিক কর্তারা ঘন ঘন বৈঠক করেছেন। বাংলাদেশের পরিত্যক্ত সেনাঘাঁটি পরিদর্শন করেছেন পাকিস্তান সেনার বড়ো কর্তারা। বাংলাদেশের নজর যেমন ভারতের সেভেন সিস্টার্স, সমান নজর সে দেশের উঠতি শশ্রু-গুম্ফহীন নেতাদেরও। ভারতের এই স্পর্শকাতর জায়গায় বাংলাদেশ যাতে কোনওভাবে ছোবল দিতে না পারে, তার জন্য সাউথব্লক পদক্ষেপ করেছে। নতুন তিনটি সেনাঘাঁটি তৈরি করা ছাড়াও সীমান্তে নজরদারি আরও কঠোর করেছে। আগে সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে ছিল বিএসএফ। তাদের পাশাপাশি ভারতীয় সেনাকেও সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে। এই রকম ঠাণ্ডা-গরম পরিস্থিতির মাঝে এল বড়ো খবর।
বঙ্গোপসাগরে ভারত জারি করেছে নোটাম। নোটাম জারি করা হয়েছে ৫০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। নোটাম জারি করা হয় বিশাখাপত্তনম থেকে। জারি থাকবে আগামী ১২ এবং ১৩ জানুয়ারি। মেয়াদ ১২ জানুয়ারি ভোররাত সওয়া ২টো থেকে ১৩ জানুয়ারি সকাল ৯টা পর্যন্ত। এই সময়কালে ওই এলাকা দিয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল নিষিদ্ধ। অনুমান করা হচ্ছে, নৌসেনা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করবে। এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর নোটাম জারি করেছিল ভারত। সে দফায় ওড়িশার চাঁদিপুর থেকে বঙ্গোপসাগরে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পিনাকার সফল পরীক্ষা চালায়। একই সঙ্গে গত ২৩ ডিসেম্বর সাবমেরিন থেকে ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হয়ষ সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, সেদিন ডিআরডিও কালাম-৪ সিরিজের পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় ভারত।
অপরদিকে পাকিস্তান আবার উত্তর আরব সাগরে নোটাম জারি করে। যদিও তাদের নোটামের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। নোটাম জারি করা হয় ৮ এবং ৯ জানুয়ারির জন্য। নোটামের মেয়াদ ছিল ৮ জানুয়ারি ভোররাত ৩টে থেকে ৯ জানুয়ারি দুপুর ১টা পর্যন্ত।












Discussion about this post