আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নির্বাচন। ভোটের দিন যতই এগিয়ে আসছে উত্তেজনার পারদ ততই চড়তে শুরু করেছে। প্রথমত, ভোট ঘোষণার কোনও ইচ্ছে তদারকি সরকারের ছিল না। তিনি চেয়েছিলেন অসদুপায়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে। তাঁর সেই ইচ্ছা এবং আশাচয় জল ঢেলে দিল ভারত সহ আন্তর্জাতিকমহল। সমস্যা হল, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেও তাঁর বিপদ আরও বেড়েছে। তদারকি সরকার প্রধানের আরও একটা ইচ্ছা ছিল। সেই ইচ্ছে হল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনও রকমে একটা তালগোল পাকিয়ে যদিও গোলেমালে ফাঁকতালে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায়। তার সেই ইচ্ছাতেও এবার জল ঢেলে দিল ইওরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ)। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইইউ বাংলাদেশে একটি পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রবিবার ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস আইজাবস বৈঠক করেন। পরে তিনি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের বিভিন্ন প্রশ্নে উত্তর দিচ্ছিলেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে নির্বাচনী প্রস্তুতি, সমতা ভিত্তিক, অর্থাৎ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রেস সচিব বলেন, ‘তদারকি সরকার প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে ইভারস আইজাবস জানিয়েছেন, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ঐতিহাসিক হিসেবে দেখছে। এ কারণেই তারা বড়ো আকারের প্রতিনিধিদল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন অনেক দেশেই তাদের প্রতিনিধিদল পাঠায় না। কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের বড়ো বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব রয়েছে। বাংলাদেশকে তারা ঘনিষ্ঠ বন্ধু দেশ হিসেবে দেখে। ’
এদিকে, ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মিলিত হন ইভারস। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে তাদের ২০০ সদস্যের এক প্রতিনিধিদল কাজ করবে। ইভারস আইজাবস বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘ মেয়াদে দায়িত্বরত পর্যবেক্ষকেরা ডিসেম্বরের শেষ থেকেই বাংলাদেশে কাজ করছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি স্বল্প মেয়াদের দায়িত্ব পালন করা পর্যবেক্ষকরা তাদের কাজে যোগ দেবেন। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যসহ সব মিলিয়ে নির্বাচনের সময় ইইউর ২০০ পর্যবেক্ষক মাঠে থাকবেন।’
ইভারস স্বীকার করে নিয়েছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালী গণভোট বাংলাদেশের তদারকি সরকারের কাছে একটি চ্যালেঞ্জ। ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য বলেন, ‘কমিশন আমাদের জানিয়েছে যে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা তাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। তবে কমিশন বিষয়টি যথাযথভাবে সামাল দিতে পারবে বলে আমরা আশা করি।’ নির্বাচনের সময়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে কোনও অবনতি না হয়, সে দিকে তদারকি সরকার নজর দেবে বলে ইভারস স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁর মতে, আসন্ন ভোটে তদারকি সরকারের কাছ এটাই সব থেকে বড়ো চ্যালেঞ্জ। তবে তিনি এটাও জানিয়ে দিয়েছেন, ইইউ শুধু জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে, গণভোট নয়। ইভারসের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে। বৈঠক করেন বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গেও।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, জাতিসঙ্ঘ কিন্তু বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনও প্রতিনিধিদল পাঠাবে না। জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব স্তেফান দুজারিকের কাছে জানতে চাওয়া হয়, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁরা কোনও প্রতিনিধি পাঠাচ্ছেন কি না? জবাবে দুজারিক বলেন, “ জাতিসঙ্ঘ নিজে নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠায় না যদি না সাধারণ পরিষদ বা নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে কোনও ম্যান্ডেট থাকে। এটি এখন আমাদের কাজের অংশ নয়। তবে ঢাকায় জাতিসঙ্ঘের দফতর থেকে নির্বাচনের বিষয়ে বাংলাদেশকে টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেওয়া হবে। তবে সেটাও অনুমোদন সাপেক্ষে। ”
এদিকে, নাহিদ ইসলামের অভিযোগ করে বলেন, যে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে তাঁর আত্মবিশ্বাস নেই। তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন ইভারস আইজাবস। সেই বৈঠকে পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন নাহিদ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মামুদ ও দলের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সেলের প্রধান সুলতান মুহাম্মদ। নাহিদ ইসলাম বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন একটি বড়ো দল পাঠাচ্ছে। তারা চায় সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ, প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন। ফলাফল যাই হোক না কেন, সবাই যেন তা গ্রহণ করে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে নাহিদ বলেন, দেশে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে বলে তিনি মনে করেন না। এটা শুধু তাঁর নিজস্ব মতামত নয়, অনেক রাজনৈতিকদলও সেটা বিশ্বাস করে বলে তিনি মনে করেন না। তাঁর অভিযোগ, বিশেষ একটি রাজনৈতিকদলকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। দলটি পাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সরকারি সুবিধা। এমনকী গণমাধ্যমের একাংশ পক্ষপাতপূর্ণ আচরণ করছে বলে নাহিদের অভিযোগ।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post