বিশ্ব জেনে গিয়েছে বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের মধ্যে বিমান পরিষেবা শুরু হতে চলেছে। আগামী ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ থেকে প্রথম বিমান পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। ২০১৮ সালে পরিষেবা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দীর্ঘ সাত বছর বাদে পুনরায় চালু হতে চলেছে বিমান পরিষেবা। বুধবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে বাংলাদেশের বিমান সংস্থা জানিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে ঢাকা থেকে করাচি পর্যন্ত সপ্তাহে দু’টি আন্তর্জাতিক বিমান পরিচালনা করা হবে। প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার এবং শনিবার করে এই রুটে বিমান চলবে। এই দু’দিন ঢাকা থেকে স্থানীয় সময় রাত ৮টায় বিমান ছাড়বে। তা করাচিতে পৌঁছোবে পাকিস্তানের স্থানীয় সময় রাত ১১টায়। আবার, করাচি থেকে ঢাকার উদ্দেশে ওই বিমান রওনা দেবে স্থানীয় সময় রাত ১২টায়। তা ঢাকায় পৌঁছোবে স্থানীয় সময় ভোর ৪টে ২০ মিনিটে। এবার একটু ঘড়ির হিসেব দেখে নেওয়া যাক।
বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের মধ্যে সময় পার্থক্য এক ঘণ্টার। বাংলাদেশ পাকিস্তানের থেকে ১ ঘণ্টা এগিয়ে। পাকিস্তানে যখন রাত ৯টা সেই সময় বাংলাদেশে ঘড়িতে তখন রাত ১০টা। ঢাকা থেকে যে বিমান রাত ৯টা ছাড়বে, করাচিতে সেই বিমান পৌঁছবে রাত ১টা। যেতে সময় লাগবে মোট চার ঘণ্টা। একই ভাবে পাকিস্তানের ঘড়িতে যখন রাত ১২টা সেই সময় বাংলাদেশের ঘড়িতে তখন রাত ১টা। করাচি থেকে কোনও বিমান রাত ১টায় ছাড়লে বাংলাদেশে পৌঁছবে ভোর ৪টে ২০ মিনিটে। সময় লাগছে ৩ ঘণ্টা ২০ মিনিট। যাওয়ার চেয়ে ৪০ মিনিট সময় কম লাগছে। নতুন রুটের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ঢাকা থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বিমান চালানোর অনুমতি দিয়েছে ইসলামাবাদ। মেয়াদ ৩০ মার্চ পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে দেখা হবে বিমানের চাহিদা, জনপ্রিয়তা ও কার্যকারিতা। ফল ইতিবাচক হলে পাকাপাকিভাবে ঢাকা-করাচি বিমান চলবে।
কিন্তু এই পরিষেবার ভাগ্য পুরোপুরি ভারতের হাতে। কারণ, সব থেকে সংক্ষিপ্ত রুটে যেতে হলে ভারতের আকাশপথ ব্যবহার করতে হবে। বিমান পরিষেবার ক্ষেত্রে যা পরিচিত ওভারফ্লাইট হিসেবে। ওভারফ্লাইটের অনুমতি না দিলে তিন ঘণ্টার যাত্রা পরিণত হবে আট ঘণ্টায়। ঢাকা-করাচি আকাশপথের দূরত্ব প্রায় ২,৩৭০ কিলোমিটার। সব চেয়ে সোজা এবং অল্প সময়ের রুট মধ্য ভারতের আকাশপথ দিয়ে যাওয়া। ২০১৯ থেকে দিল্লি-করাচি আকাশপথ নিষিদ্ধ। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টা ভিন্ন। দুই দেশের মধ্যে এয়ার সার্ভিস এগ্রিমেন্ট রয়েছে। সেই চুক্তিতে রয়েছে ওভারফ্লাইটে অধিকার। নির্ধারিত রুট এবং অনুমতি স্থগিতে শর্তাবলী নিয়ন্ত্রণ করে।
ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের বিষয়গুলি ১৯৭৮ সালের চুক্তি অনুসারে দেখা হবে। ’ অর্থাৎ, বিমান পরিষেবা শুরু করার বিষয়ে সবুজ সংকেত যাবে দিল্লি থেকে। না গেলে যেখানে যেতে লাগবে তিন থেকে সা়ড়ে তিন ঘণ্টা, সেটা বেড়ে দাঁড়াবে আট ঘণ্টা। দিল্লি অনুমতি না দিলে বিমানকে ভারতের চারপাশ ঘুরে যেতে হবে। হয়তো বিমানকে মায়ানমার, থাইল্যান্ড মালয়েশিয়া বা আরব সাগর দিয়ে যেতে হবে। এতে জ্বালানির খরচ বাড়বে। সেই খরচ পোষাতে গেলে টিকিটের দাম বাড়াতে হবে। যাত্রীদের চূড়ান্ত অসুবিধের মধ্যে পড়ে হবে। টিকিটের দাম লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
ঢাকা থেকে করাচি যাওয়ার জন্য সরাসরি কোনও বিমান সেবা ভারতীয় আকাশপথ ব্যবহার করে না। তবে যদি কোনও ফ্লাইটে ভারতীয় আকাশপথ ব্যবহার করা হয়, তা সাধারণত ট্রানজিট সেক্টরের মাধ্যমে হয়ে থাকে। যেমন দিল্লি বা মুম্বই। এই পরিস্থিতিতে বিমান চলাচলে থাকে সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলী। নিতে হয় অনুমতি। ফলে, পাকিস্তান বা বাংলাদেশ চাইলেই অসামরিক বিমান পরিষেবা শুরু করতে পারে না। ভারত ওভারফ্লাইটের অনুমতি না দিলে পরিষেবা মুখ থুবড়ে পড়বে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post