ইউনূসের মাথায় বজ্রপাত?
না কি সোনার কেল্লা ছবির জটায়ুর সেই বিখ্যাত সংলাপ – ভূমিকম্প! ঝঞ্ঝাবৎ! জলোচ্ছাস!
মাথায় বজ্রপাতও বলা যেতে পারে। আবার ভূমিকম্প, ঝঞ্ঝাবৎ বা জলোচ্ছাস বললেও অত্যুক্তি হবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসঙ্ঘের বেশ কিছু সংস্থা সহ ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে থেকে তাঁর দেশকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। যে সব সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেই সব সংস্থার মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু চুক্তি, মানবাধিকার, গণতন্ত্র, লিঙ্গসমতা। বুধবার ৭ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন। প্রেসিডেন্ট বলেন, এই সব সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের বিপরীতে কাজ করছে। আমেরিকা ইতিমধ্যে জাতিসঙ্ঘের সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেসকো থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। এদিকে আবার জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকেও সরে আসার কথা জানিয়ে ছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় দফার মেয়াদ শুরু হওয়ার প্রথম দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসঙ্ঘের জন্য অর্থবরাদ্দ হ্রাস করার সিদ্ধান্ত নেন। এ ছাড়াও কার্বন ফ্রি এনার্জি কমপ্যাক্ট, ইউনাইটেড নেশনস ইউনিভার্সিটি, ইন্টারন্যাশনাল কটন অ্যাডভাইজরি কমিটি, ইন্টারন্যাশনাল ট্রপিক্যাল টিম্বার অর্গানাইজেশন সহ আরও বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে আমেরিকাকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন। সরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ল কমিশন, ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টার পিসিবিল্ডিং কমিশন, জাতিসঙ্ঘ জনসংখ্যা তহবিল এবং ইউএন ইউনিভার্সিটি থেকেও। জাতিসঙ্ঘের বাইরে যে ৩৫টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে ২৪/৭ কার্বন ফ্রি এনার্জি কমপ্যাক্ট, কমিশন ফর এনভায়রনমেন্টাল কো-অপারেশন, গ্রোবাল কাউন্টার টেররিজম ফোরাম, ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি ফোরাম এবং আন্তর্জাতিক সৌরজোট। ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসঙ্ঘের সংস্থা, ইউনেসকো সহ একাধিক সংস্থা থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড়ো অর্থনীতি ও নিঃসরণকারী দেশের সহযোগিতা থেকে সরে গেল বৈশ্বিক জলবায়ু উদ্যোগ ব্যহত হবে। ট্রাম্প জাতিসঙ্ঘের যে সংস্থা থেকে আমেরিকাকে প্রত্যাহার করার কথা ঘোষণা করেন, যে সব সংস্থা থেকে আমেরিকা ইতিমধ্যে সরে এসেছে বা সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেই সব সংস্থার জন্য মার্কিন অর্থবরাদ্দের পরিমাণ অনেক আগেই কমিয়ে দেওয়া হয়। আমেরিকার ওই সিদ্ধান্তে তখনই কিন্তু একটা প্রশ্ন ঘুরতে শুরু করে। হঠাৎ কী এমন হল, যার জন্য আমেরিকা এই খাতে তাদের বরাদ্দ অর্থের পরিমাণ হ্রাস করার সিদ্ধান্ত নিল ?
প্রশ্ন হচ্ছে এর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কোথায়? কেনই বা বলা হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে তদারকি সরকারের মাথায় বাজ পড়ল? মাথায় শুধু বাজ পড়েনি। তদারকি সরকারকে কার্যত অথৈ জলে ফেলে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তা সংক্রান্ত ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, ২০১৮ থেকে বাংলাদেশকে প্রতিবছর আর্থিক সাহায্যা দেওয়া হত ৫০ কোটি ডলারের কাছাকাছি। তার আগের বছরগুলিতে আড়াইশো থেকে তিনশো মিলিয়ন ডলার মার্কিন সহায়তা পেয়ে এসেছে। এই অর্থ যে সব খাতে ব্যবহার করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, গণতন্ত্র ও শাসনব্যবস্থা, পরিবেশ জ্বালানি এবং মানবিক সহায়তা। এখন রোহিঙ্গাদের জন্য অর্থ বরাদ্দ থাকলেও বাকি সব ক্ষেত্রেই আমেরিকা অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে দিয়েছে। নতুন করে যে ৬৬টি সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাচ্ছে তাতে বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকট মোকাবিলার জন্য গৃহীত নানা প্রকল্প ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ যদিও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সহায়তা গ্রহণকারী দেশ নয়। কিন্তু এই সব সংস্থার কারণে বাণিজ্য ও মানবিক ইস্যুতে আন্তর্জাতিক আইনে অনেক কিছুতে সুরক্ষা পায় বাংলাদেশ। এখন আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো দূর্বল হলে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য তৈরি হতে পারে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post