ভাগ্যিস এই বৈষ্ণব কীর্তনটা ছিল। না হলে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের বর্তমান সম্পর্ক কেমন, তা বোঝানো কঠিন হয়ে পড়ত। আগে বৈষ্ণব কীর্তন। পরে পাক-বাংলাদেশ কীর্তন।
“তোমায় হৃদ মাঝারে রাখিব, ছেড়ে দেব না”। এই বৈষ্ণব কীর্তনে একটি পংক্তি রয়েছে। সেই পংক্তিটি এই রকম “ওরে রাধার প্রেমে মাতোয়ারা”। বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের প্রেম আমাদের মনে করিয়ে দেয় রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের কথা। এত প্রেম, ভাবাই যায় না। কয়েকদিন আগে পাকিস্তানের এক নেতার গলায় তো শোনা গেল হুমকি। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের দিকে কেউ চোখ রেখে কথা বললে ওই চোখ উপড়ে ফেলা হবে। ঢাকার প্রতি ইসলামাবাদের এই প্রেম আগে যে ছিল না তা নয়। তবে সেটা বহু যুগ আগে। আর হাসিনা ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর সেই পাকিস্তানের হৃদয়ে আবার সে প্রেম জেগে উঠেছে। গত ১৫-১৬ মাস ধরে আমরা দেখেছি তাদের প্রেমের নমুনা। প্রেম দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে। প্রেম দুই দেশের শীর্ষকর্তাদের মধ্যে। প্রেম আমলামহলে। মানে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে পাকিস্তান তাদের প্রেম ছড়িযে দিয়েছে। পাকিস্তানের জঙ্গিদের প্রতি বাংলাদেশের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রেম তো এখন ওপেন সিক্রেট। প্রেম গভীর না হলে বাংলাদেশের মাটি কোনও অবস্থাতেই জঙ্গিদের বধ্যভূমিতে পরিণত হত না। লালকেল্লার কাছে যে বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছিল তার সুতো ছিল বাংলাদেশে। রবীন্দ্রনাথের ‘মায়ার খেলা’র এই গানটিরও উল্লেখ করতে হয়ে – ‘প্রেমপাশে পড়া ধরেছে দুজনে, দেখো দেখো সখী চাহিয়া /দুটি ফুল খসে ভেসে গেল ওই প্রণয়ের স্রোতে বাহিয়া। ’
এবার পাকিস্তানের প্রেম মুস্তাফিজুরকে নিয়ে। আইপিএল থেকে বাদ পড়া এই ক্রিকেটার খেলবে পাকিস্তান সুপার লিগে। আর পাকিস্তান জানিয়েছে, বাংলাদেশের ম্যাচগুলো যদি শ্রীলঙ্কায় কোনওভাবে আয়োজন করা না যায়, তাহলে তারা ওই ম্যাচগুলো তাদের দেশে আয়োজন করতে পারে। একটা দেশ সে দেশের নাগরিকদের দু’বেলা দু’মুঠো পেট ভরে খাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারে না। তারা আবার ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করতে চায়। অনেকে বলেছেন, এটা নিয়ে তো অবাক হওয়ার তো কিছু নেই। বরং, পাকিস্তান যদি মুস্তাফিজুরকে নিয়ে কোনও কিছু না বলত, তাহলেই অবাক হওয়ার ছিল। বাংলাদেশ-পাকিস্তানের এই প্রেম সম্পর্ক যাতে কোনওভাবে ভেঙে না যায়, তার জন্য তুরস্ক হাতে আঠার গামলা নিয়ে বসে রয়েছে। আমরা আমাদের পাঠককে মনে করিয়ে দিতে চাই যে দিল্লির বুকে যে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল, সেটা তুরস্কের মস্তিষ্ক প্রসূত। প্রশ্ন উঠছে অন্যজায়গায়?
পাকিস্তান কি বাংলাদেশের ওপর তাদের আধিপত্য কায়েম করতে চাইছে? বাংলাদেশ কি জেনেশুনে পাকিস্তানের বশ্যতা স্বীকার করে নিচ্ছেন ? তদারকি সরকার প্রধান কি স্বেচ্ছায় তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে দিচ্ছেন? এটা তো কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না যে তাঁর প্রচ্ছন্ন সমর্থন না থাকলে ইসলামাবাদ এ ভাবে ঢাকার প্রতিটি অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করত না। প্রশ্ন এটাও যে ইউনূস কি ইচ্ছাকৃতভাবে পাকিস্তানের সমকক্ষ হতে চাইছেন? তিনি কী চাইছেন যে বাংলাদেশও একটি ভারত-বিদ্বেষী দেশে পরিণত হোক? দুই দেশের সঙ্গে তুরস্কের মাখামাখিকে দিল্লি একেবারেই ভালো চোখে দেখছে না। তাই, কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাউথব্লক ইজরায়েলের থেকে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, রাডার, ইলেক্ট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম, সহ নানা উন্নত সামরিক প্রযুক্তি সংগ্রহ করছে।
সম্প্রতি ইহুদিভূমিতে বৈঠকে বসে ভারত-ইজরায়েল জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ। ভারতের হয়ে বৈঠকে হাজির ছিলেন প্রতিরক্ষাসচিব রাজেশকুমার সিংহ। আলোচনায় অত্যাধুনিক হাতিয়ার উৎপাদনে সম্মত হয় দুই দেশ। সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে একটি সমঝোতা পত্র সই করে দিল্লি ও তেল আভিভ। সূত্রের খবর, ওই সমঝোতাপত্রে কৃত্তিম মেধা এবং সাইবার নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে। ইজরায়েলের গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, আগামীদিনে উচ্চ প্রযুক্তির ড্রোন,অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের মতো হাতিয়ারগুলির উৎপাদন পুরোপুরিভাবে ভারতে সরিয়ে আনবে তেল ইজরায়েল। এদেশের মাটিতে তৈরি হবে লাইট মেশিনগান এবং অ্যাসল্ট রাইফেল।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post