হাতে আর মাত্র কয়েকদিন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পদ্মাপারে শুরু হবে ভোট গ্রহণ পর্ব। বাংলাদেশে মোট ভোটার ১২৭.৬ মিলিয়ন। বিদেশি বসবাসকারী বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন। বাংলাদেশের ৩০০ কেন্দ্রে ভোট পরিচালিত হবে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে রাজনৈতিক জনাদেশ নিয়ে সরকারে ফেরার পথে এটি অন্যতম বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এর আগে ২০২৬-এর এপ্রিল মাসে নির্বাচন করানোর পরিকল্পনা করেছিলেন ইউনূস। কিন্তু, দ্রুত নির্বাচন করানোর জন্য তাঁর উপর ভিতর এবং বাইরে থেকে ক্রমাগত চাপ ছিল। এই পরিস্থিতিতে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ঘোষণা।
হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশ শাসনের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ইউনূস। কিন্তু অস্থিরতা বিন্দুমাত্র প্রশমিত হয়নি। সময় যত গড়িয়েছে, অস্থিরতার পারদ তত তপ্ত হয়েছে। প্রথম দিকে অস্থিরতা ছিল রাজনৈতিক। পরে সেই রাজনৈতিক অস্থিরতা পরিণত হয় সাম্প্রদায়িক হানাহানিতে। বাংলাদেশ জন্ম দেয় এক নতুন শব্দের মবক্র্যাসি। সেটা যে কত ভয়ঙ্কর, তার সাক্ষী যেমন বাংলাদেশ। এই অবস্থায় পদ্মাপারে ভোট হয় কি না, তা নিয়ে ঘোর সন্দেহ ছিল। তদারকি সরকার প্রধান মুহম্মদ ইউনূসের বিন্দুমাত্র ভোটে আগ্রহ ছিল না। তিনি চেয়েছিলেন যেন –তেন উপায়ে তাঁর পদটি টিকিয়ে রাখতে। কিন্তু বাধ সাধে ভারত আর আমেরিকা। তবে আমেরিকার উদ্দেশ্য কিন্তু একেবারেই ভিন্ন। আমেরিকা মনে করেছিল ইউনূসের মাথায় হাত বুলিয়ে তারা তাদের স্বার্থ পূরণ করতে পারবে। কিন্তু বিগত ১৫-১৬ মাসে তদারকি সরকার প্রধান যে তাদের কোনও স্বার্থ পূরণ করতে পারেনি সেটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। আমেরিকা এখন চাইছে ইউনূস বিদায় নিক। বাংলাদেশে পালাবদল অত্যন্ত জরুরি। তাই, নির্বাচন। কিন্তু এই নির্বাচনে সেনার ভূমিকা কী হবে, সেটাই কিন্তু বড় প্রশ্ন।
সেনার তরফ থেকে কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার শুরু হয়েছে। তাদের একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল। ভিডিওর শিরোনাম –‘আপনার দেশ, আপনার অপেক্ষায়। আস্থা ও বিশ্বাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী’। ভিডিও থেকে দেশবাসীকে বার্তা দেওয়া হয়েছে, যে বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, দেশের প্রত্যেক নাগরিক যাতে তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তার জন্য বাহিনীর তরফে যথাযথ পরিবেশ তৈরি করা হবে। মানুষ যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারে, সে দায়িত্ব সেনাবাহিনী স্বেচ্ছায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে। দরকার একটা ভালো নির্বাচন। বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক তাঁদের পছন্দের প্রার্থী ভোট দেবেন।
প্রশ্ন হল আচমকা বাহিনীর তরফ থেকে কেন এইরকম একটি ভিডিও করা হল? বেশ কয়েকটি যুক্তি উঠে আসছে। প্রথমটি হল বাহিনী তার হৃতগৌরব ফিরে পেতে চাইছে। তদারকি সরকারের বদান্যতায় বাংলাদেশ সেনার মান-সম্মান ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। আগে দেশবাসী বাহিনীক শ্রদ্ধা, সম্ভ্রমের চোখে দেখত। এখন তারা বাহিনীকে ঘৃণার চোখে দেখে। দলমত নির্বিশেষে সবাই বাহিনীর ভূমিকায় সরব। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমনটা কোনও সময়ে হয়েছে বলে কেউ মনে করতে পারছে না। আরও একটি যুক্তি উঠে আসছে। সেটা হল ভোট বানচাল করার ষড়যন্ত্র। অনেকে বলছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট বানচাল করতে তৎপর একটি স্বার্থাণ্বেষি গোষ্ঠী। এই গোষ্ঠী আসলে চাইছে ইউনূস ক্ষমতায় থাকুক। তাহলে তারা তাদের স্বার্থ পূরণ করতে পারবে। বিগত মাসগুলিতে তারা বহু স্বার্থ পূরণ করতে পারলেও এমন অনেক স্বার্থ রয়ে গিয়েছে, যা তারা পূরণ করতে পারেনি। ইউনূস আরও কিছুদিন থেকে গেলে সেটাও তাদের পূর্ণ হয়ে যাবে। প্রশ্ন হল, আওয়ামী লীগের কী হবে? তাঁর থেকেও বড়ে প্রশ্ন জামাত যদি ক্ষমতা দখল করে তাহলে কী হবে? বাংলাদেশের শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ চায় না জামাত ক্ষমতায় আসীন হোক। তাহলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব প্রশ্নেচিহ্নের মুখে পড়ে যাবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post