‘লার্জার দ্য ইমেজ’ কিছু কিছু ক্ষেত্রে যে ব্যুমেরাং হয়ে ফেরে, সেটা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন তদারকি সরকারে আইনি উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বিগত ১৬ মাসে যে কোনও ইস্যুতে সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খোলা, কথায় কথায় টুইট করা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতি সক্রিয়তা যে হীতে বিপরীত হতে পারে, সেটা আগে বুঝতে পারেননি এই আইনি উপদেষ্টা। বুঝলেন যখন তখন বন্দুক থেকে গুলি বেরিয়ে গিয়েছে। তাই, এখন তাঁকে খেদোক্তি করতে হচ্ছে। নিজেই জানিয়েছেন, যে গত ১৬ মাসে যদি সরকারের কোনও উপদেষ্টা সব থেকে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়ে থাকেন, তবে সেটা তিনি।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ, সিজিএস আয়োজিত রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে’ আমন্ত্রিতদের মধ্যে ছিলেন তদারকি সরকারের এই আইনি উপদেষ্টা। ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আসিফ বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন বাক স্বাধীনতা সবার আছে। শুধু সরকারে যাঁরা আছে, তাঁদের নাই। এই গত ১৬ মাসে সব থেকে বেশি সাইবার বুলিং কার… কার এগেনস্টে হয়েছে? আমার এগেনস্টে হয়েছে। চ্যালেঞ্জ করে বললাম আপনাদের। এবং এটা প্রতিনিয়ত অনুভব করি। তো এরকম প্রোগ্রামে আসলে একটু সুযোগ পাই বাক স্বাধীনতা প্রয়োগের। ভেরে রেয়ার্লি। প্রথম চার মাসে শুধু চারটা ডেডিকেটেড ভিডিও করা হয়েছে আমাকে টার্গেট করে।’
আসিফ বলেন, ‘আমি নিজে বহু বছর ধরে সংস্কারের জন্য লড়াই করেছি। আমরা যখন সংস্কার নিয়ে সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করি, তখন অবশ্যই সমালোচনার কিছু যৌক্তিক দিক থাকে। কিন্তু অনেক সময় এই সমালোচনা নির্দয় পর্যায়ে চলে যায়। ধরুন ১০টি বিষয়ের মধ্যে সরকার যদি ৪টি কাজ করে, তাহলে অন্তত সেই ৪টিকে স্বীকৃতি দিন। এরপর বাকি ৬টি কেন করতে পারল না, সে বিষয়ে কঠোর সমালোচনা করুন, সমস্যা নেই। কিন্তু একেবারেই কিছু হয়নি এমনভাবে কথা বললে দুঃখ লাগে। তখন মনে হয় সমালোচনাটা সততার জায়গা থেকে হচ্ছে নাকি সেটি একটি পেশা বা আত্মতৃপ্তির বিষয়ে পরিণত হয়েছে।’
বিচার বিভাগের সংস্কারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমরা সারাজীবন বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলেছি। এখন বিচার বিভাগে পদ সৃষ্টি, বদলি, পদোন্নতি, বাজেট অ্যালোকেশন ও বাজেট ব্যবস্থাপনার সব ক্ষমতা উচ্চ আদালতের হাতে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে এমনটা কখনো হয়নি। আমাদের সবচেয়ে দুঃসাহসী কল্পনাতেও যা ছিল, তার সবটুকুই বিচার বিভাগকে দেওয়া হয়েছে। এটি কোনো ম্যাজিক লাইট নয় যে সঙ্গে সঙ্গে সব বদলে যাবে, তবে আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি হয়েছে।’
আইন উপদেষ্টা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি ১৫ বছর ছিলাম পাকিস্তানের দালাল, ওভার নাইট আমি ভারতের দালাল হয়ে গেছি। আমার আমেরিকায় বাড়ি আছে, আমার পরিবার চলে গেছে অলরেডি আমেরিকায়। প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করে বলেছি আজ থেকে ছয় মাস আগে, কেউ খুঁজে বের করতে পারেনি। যেই মিথ্যুক, যে যে বদমাইশ এগুলো প্রচার করেছে, তাদের কেউ কিছু বলেছেন? এর চেয়ে বড় সাইবার বুলিং হয়? একটা মানুষ যার জীবনে সততা সবচেয়ে বড় অহংকার, তার বিরুদ্ধে এ ধরনের ক্যাম্পেইন করা হয়েছে।’
জুলাইয়ের মামলাগুলোয় জামিনের ব্যাপারে তার হাত নেই দাবি করে উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশে যত জামিন হয়েছে জুলাইয়ের ঘটনায়, এই জামিনের ৯০ শতাংশ হয়েছে হাইকোর্ট থেকে। হাইকোর্টে যে জামিন দেন, জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে যদি কোনো ভুল থাকে সেটা বিচারকের দোষ। বিচারকদের অনেকেই আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট আমলে নিয়োগ পাওয়া, তাদের সরানোর দায়িত্ব ছিল প্রধান বিচারপতির অধীনে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলে। এখানে আইনমন্ত্রী কিছু করতে পারেন না। আমি কি হাইকোর্টের বিচারককে সরাতে পারি?’












Discussion about this post