সেনাপ্রধান বরাবর এমন অভিনয় করেছেন, যেন তিনিই শুধু দেশকে ভালোবাসেন। দেশের উন্নত ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই তিনি দায়িত্ব নিয়ে,নির্বাচিত সরকারের পতন ঘটিয়েছেন। তার ক্ষমতার কোন লোভ নাই। কিন্তু এখন সবাই জেনে গেছে যে তিনিই পিছন থেকে সব কলকাঠি নাড়ছেন, বা তাকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনিই দেশকে ধ্বংসের কারিগর।তিনি দেশকে উগ্রবাদ এবং পাকিস্তানের মত অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিয়েছন জেনে বুঝে এবং প্রচুর অর্থের বিনিময়ে। যাতে বাংলাদেশও পাকিস্তানের মত সেনার অঙ্গুলি হেলনে চলে।মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ্যে কোন শক্তি ক্ষমতায় বসলে তার যে বহু বিপদ তা তিনি ভালো করেই বুঝে গেছেন। তিনি জামাত ইউনূস এবং ছাত্ররা মিলে যে খেলা শুরু করেছিলেন তা বুঝে ফেলেছে জনগন। ফলে প্রকাশ পাচ্ছে আসল সত্যি, আর তাই এখন আর সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে কারো কোন বক্তব্য নেই, নেই হাসনাত না ওয়াকার, হাসনাত হাসনাত স্লোগান। তিনি কি ভোট বাঞ্চাল করতে শেষে হাদির মত, তার পুত্র সম হাসনাতকেও বলি দেবেন। কারণ হাদির কেস ধামাচাপা পড়েছে তারেক জিয়ার দেশে ফেরার ফলে, কিন্তু হাসনাতের যদি একই পরিনতি হয়, তখন দেশে ভোট হওয়ার মত পরিস্থিতি আগামী দশ বছরেও তৈরী হবে কিনা সন্দেহ। সেনাপ্রধান যে নির্বাচন চাইছে না তার আরও অনেক কারণ আছে, সেগুলি আলোচনা করার আগে জেনে নিই ইউনূস সাহেবের কি ইচ্ছে। ইউনূস সাহেবের চেহারাটি ভীষণ মজার, তিনি মনে মনে যা কিছুই ভাবুন না কেন, তার মুখে সদা বোকা বোকা হাসি দিয়ে সব ঢেকে রাখতে পারেন। আর যেহেতু তিনি সুদের কারবারী, তাই কথার জালে আর চতুরতা দিয়ে সামনের ব্যক্তিকে ভুলিয়ে দেওয়ার অসীম ক্ষমতা তার আছে। আর যখন তাতে কাজ হয় না, তখন তিনি পদত্যাগের নাটক সাজান। তিনি ক্ষমতায় আসার পরপরই, হিন্দুদের উপর অত্যাচার নিয়ে এক বার বলেছিলেন, আপনারা আমার কথা শুনছেন না,ফলে আমার সম্মান থাকছে না, মানে আমি বলছি হিন্দু্দের বা আর যারা সংখ্যালঘু আছে তাদের উপর ধর্মীয় কারণে কোন অত্যাচার হচ্ছে না, কিন্তু ঘটনা ঘটছে তার উল্টো। তিনি মন্দিরে মন্দিরে গিয়ে প্রমান দিচ্ছেন যে তিনি কতটা সম্প্রীতি রক্ষায় স্বচেষ্ট। সেবার তো এমন রটে গেল যে তিনি জামাতী আর তৌহিদি জনগনের কারণে বিদেশ থেকেই বিদায় নিচ্ছেন। কিন্তু তিনি রয়ে গেলেন আর সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার আরও বেড়ে গেল। তার পর নাহিদ কে দিয়ে ঘোষনা করলেন যে তিনি পদত্যাগের কথা চিন্তা করছেন, কারণ দেশবাসী এবং ছাত্ররা তার উপর আস্থা রাখতে পরাছে না, বিভিন্ন দল থেকে তার উপর সমালোচনার ঝড় বয়ে আসছে। সব দল তাকে সমর্থন না দিলে তিনি সরে যাবেন। এই গুলি ছিল তার পদকে সুরক্ষিত রাখার কৌশল। আবার মব কিভাবে সৃষ্টি করতে হয়, আর তাকে কিভাবে আরও উস্কানি দিতে হয়, তাও তিনি শিখিয়ে দিয়েছিলেন তখন, যখন তার উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল যে, উপদেষ্টামন্ডলীতে আওয়ামীলীগের দালাল রয়ে গেছে। তখন তিনি যা বলেছিলেন তা শুনার পর, তিনিই যে বাংলাদেশে মবের সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোশক তা বুঝতে কি আর কারো অসুবিধা থাকে। ভোট না হওয়ার আরও একটি ইঙ্গিত হল যে, শোনা যাচ্ছে তিনি এই ২০২৬ এর মার্চে জাপান সফরে যাবেন। জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের স্ত্রী আকি আবে রবিবার (১১ জানুয়ারি) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ঐ সময় প্রধান উপদেষ্টা এ কথা জানিয়েছেন।প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। ফলে প্রশ্ন তো থাকছেই, ভোট ১২ই ফেব্রুয়ারীতে হলে তিনি কিভাবে মার্চে সরকারী সফরে জাপান যাওয়ার ঘোষনা দিলেন। এর পর আসি সেনাপ্রধানের কথায়। সেনাপ্রধান বরাবর এমন অভিনয় করেছেন যেন তিনি শুধু দেশকে ভালোবাসেন। দেশের উন্নত ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই তিনি নির্বাচিত সরকারের পতন ঘটিয়েছেন। তার ক্ষমতার কোন লোভ নাই, তিনি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান, যদিও কোন দিকে তা তিনি বলেন নি। কিন্তু এখন সবাই জেনে গেছে যে তিনিই পিছন থেকে সব কলকাঠি নাড়ছেন, বা তাকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনিই চাননি একটি ক্ষমতাশালী দল নির্বাচিত হয়ে দেশের শাসনভার গ্রহণ করুন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী যারা, তাদেরকেই হাতে ধরে রাজনীতির খোলাময়দানে নামিয়েছেন।তিনি চেয়েছেন অস্থিরতা বজায় থাক, আর তার সুযোগ নিক সেনাবাহীনি। তারা যে অকাম কুকাম করেছে তার বিচার যেন কোন দিনই না হয়। আর তা একমাত্র সম্ভব জামাতের মত কোন দল ক্ষমতায় এলে, পরিস্থিতি সেদিকেই আগাচ্ছিল, তাই তারেক রহমানকে দেশে ফেরাতে তারা আপত্তি জানিয়েছিল, এবং সেই আপত্তি তখনও বোজায় ছিল, যখন কিনা খালেদা জিয়া মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। সেনাপ্রধান সবসময় চেয়েছেন সেই দলকে ক্ষমতায় দেখতে, যাদের সঙ্গে দর কষাকষিতে তিনি জিততে পারেন। কিন্তু তার হিসাব বদলে দিচ্ছে তারেক রহমানের দেশে ফেরাটা। তবে শেষ পর্যন্ত ভোট হয় কিনা তা দেখার জন্য আর একটা মাস অপেক্ষা করতে হবে সকলকে।












Discussion about this post