নেট প্র্যাকটিশ না করে মাঠে নামলে যা হওয়ার তাই হয়েছে।
আইসিসির মতো একটি জাঁদরেল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যে আনতাবড়ি ব্যাটিং করা যায় না সেটা বিশ্বের বাঘা বাঘা ক্রিকেটার জানে। তারা জানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থায় এমন সব ‘বোলার’ বসে রয়েছেন, যাদের প্রতিটি ইনকাটার, ইনসুইং বোঝার আগেই ব্যাটার দেখবে তাঁর মিডল স্ট্যাম্প উড়ে বাউন্ডারির বাইরে চলে গিয়েছে। বডি লাইন বোলিং করে ব্যাটারকে ঘায়েল করার কোনও প্রয়োজন নেই। পাটা উইকেটেও যে বল সুইং করা সম্ভব সেটা আইসিসি ভালো করেই জানে। আর মাঠে হাওয়া থাকলে বোল পিচে পড়ে কোনদিকে যাবে, সেটা একজন আনকোড়া ব্যাটসম্যানের পক্ষে কোনওভাবেই বোঝা সম্ভব নয়। ফলে, ব্যাটার ছক্কা হাঁকানোর জন্য তৈরি। আর বল সোজা হিট করল লেগস্ট্যাম্পে। আইসিসির বিরুদ্ধে খেলতে হলে একজন ব্যাটারকে প্রথমে পিচ বুঝতে হবে। তারপর তাঁকে বুঝতে মাঠের হাওয়া কেমন? মানে বল পড়ে সুইং করবে কি না। ক্রিকেটও কিন্তু এক ধরনের অংকের খেলা। দুইয়ে দুইয়ে চার হলে বল মাঠের বাইরে। সেটা বাউন্ডারি হতে পারে, ওভার বাউন্ডারিও হতে পারে। আর ব্যাটার সুইং বুঝতে ভুল করলে, বলের লাইন এবং লেংথ বুঝতে ভুল করলে সে নির্ঘাত আউট। আসিফ নজরুলের ক্ষেত্রে সেটাই হয়েছে।
আসিফ নজরুল আইসিসির বিরুদ্ধে খেলতে গিয়ে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে গিয়েছেন। তদারকি সরকারের এই আইনি তথা ক্রিকেট উপদেষ্টা বুঝতে পারেননি যে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের এক ইনকাটারে তাকে প্যাভিলিয়নে ফিরে যেতে হবে। ওই যে আগেই বলেছিলাম, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এই অভিভাবক সংস্থার বিরুদ্ধে খেলতে হলে শুধু প্যাড, গ্লাভস পরলেই হয় না। ভালো করে বলের লাইন আর লেংথটাও বুঝতে হয়। আসা যাক আসিফের বোঝবার ভুল কোথায় হল।
বিসিসিআইয়ের নির্দেশে পেসার মুস্তাফিজুরকে আইপিএল থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্স ছেড়ে দেওয়ার পর ২২ গজে শুরু হয়েছে কদর্ষ রাজনীতি। ঢাকায় এক সাংবাদিক বৈঠকে আসিফ নজরুল দাবি করেন আইসিসির নিরাপত্তাদল বিসিবিকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। সেই চিঠিতে তিনটি বিষয়ে দেশের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে।
কী বলছেন আসিফ নজরুল?
তদারকি সরকারের এই উপদেষ্টা বলছেন, ‘ভারতের কোনও জায়গাতে খেলার পরিবেশ নেই। আইসিসি সিকিউরিটি টিমের এই বক্তব্য সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেছে যে ভারতে বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার কোনওরকম পরিস্থিতি নাই। ক্রিকেটের ক্ষেত্রে আমাদের কোনও ডেভেলপমেন্ট নাই। আমরা দুইটা চিঠি দিয়েছি। চিঠি দেওয়ার পর আমরা আইসিসির যে উত্তর আমরা প্রত্যাশা করছি। এর মধ্যে একটি জিনিস ঘটেছে, আপনাদের জানানোর প্রয়োজন। সেটা হচ্ছে আইসিসির যে সিকিউরিটি টিম আছে, সিকিউরিটির দায়িত্বে যারা আছে, তারা একটি চিঠি দিয়েছে। সেই চিঠিতে বলা হয়েছে তিনটা জিনিস হলে বাংলাদেশ টিমের নিরাপত্তা আশঙ্কা বাড়বে। একটা হচ্ছে বাংলাদেশ টিমে যদি মুস্তাফিজ অন্তর্ভুক্ত হয়। দুই হচ্ছে, বাংলাদেশ… যে দলের যে সমর্থকরা আছে, ওনারা যদি বাংলাদেশের জাতীয়… জাতীয় যে জার্সি আছে.. আমাদের ন্যাশনাল জার্সি আছে এটা পরে যদি ঘোরাফেরা করে, আর থার্ড হচ্ছে ইলেকশন যত এগিয়ে আসবে তত বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা আশঙ্কা বৃদ্ধি পাবে।’
আসিফের এই জবাব যে তাঁর নিজস্ব, সেটা নির্দিধায় জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। উপদেষ্টার উপ প্রেস সচিব আজাদ মজুমদারও পরে ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘ক্রীড়া উপদেষ্টা যে চিঠির কথা বলেছেন, সেটা ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে হুমকি পর্যালোচনায় আইসিসির একটি আন্তবিভাগীয় নোট মাত্র। এটা ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধে আইসিসির পাঠানো সরাসরি কোনও জবাব নয়।’












Discussion about this post