ঢাকায় পৌঁছেছেন বাংলাদেশে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। মঙ্গলবারই তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। জানা যাচ্ছে, আগামী বৃহস্পতিবার নিজের পরিচয়পত্র বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চলেছেন। এর আগে কূটনৈতিক শিষ্টাচার মেনে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে ঢাকা বিমানবন্দরে নতুন রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান মার্কিন দূতাবাস এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। কূটনৈতিক সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই পরিচয়পত্র পেশের মধ্য দিয়ে ঢাকা মিশন শুরু করবেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। বাংলাদেশের নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে তাঁর বাংলাদেশে আসা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রায় একই সময়ে ভারতে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজে যোগ দিলেন সার্জিও গোর। তবে তিনি শুধু ভারতে নিযুক্ত মার্কন রাষ্ট্রদুতই নয়, তিনি একই সঙ্গে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ মার্কিন দূতের দায়িত্বও সামলাবেন। অর্থাৎ, এই অঞ্চলে তিনিই বস। সেই অর্থে সার্জিও গোর, বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতেরও উপরে বসে থাকবেন। আর ভারতে পা রেখেই সার্জিও গোর কি বলেছেন সেটা একবার শুনে নিন। তাহলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে।
ভারতে নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর সোমবার নয়া দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন। এরপরই তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত রসায়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, প্রকৃত বন্ধুদের মধ্যেও দ্বিমত থাকতে পারে, কিন্তু তাঁরা সব সময় আলোচনার মাধ্যমে সেই মতপার্থক্য মিটিয়ে ফেলেন। উল্লেখ্য, সার্জিও গোর ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তিনি বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সারা বিশ্ব ভ্রমণ করেছি এবং আমি হলফ করে বলতে পারি যে, প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব অত্যন্ত গভীর ও অকৃত্রিম। আমাদের দুই দেশ শুধু অভিন্ন স্বার্থেই নয়, বরং সর্বোচ্চ পর্যায়ের এক দৃঢ় সম্পর্কের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই ধরণের বক্তব্য একজন রাষ্ট্রদূত ওয়াশিংটনের অনুমতি ছাড়া দিতেই পারেন না। এ ক্ষেত্রে ধরেই নেওয়া যেতে পারে, ট্রাম্পের অনুমতিক্রমেই তিনি ভারতে এসে এ দাবি করেছেন। কারণ তাঁর ভাষণের শেষ পর্যায়ে সার্জিও গোর নিজেই বলেছেন, আমার কার্যকালে আমার লক্ষ্য হবে, আমরা সত্যিকারের কৌশলগত বন্ধু হিসেবে একে অপরের সঙ্গে কাজ করতে বধ্যপরিকর।
এটা তো গেল ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত তথা দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বিশেষ দূতের কথা। এবার আসা যাক বাংলাদেশে নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতের কথায়। তিনি চার বছর আগে, অর্থাৎ শেখ হাসিনার আমলে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ক কাউন্সেলরের দায়িত্ব পালন করে গিয়েছেন। ঢাকা যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস একটি ফেসবুক পোস্টে লিখেছে, আমার স্ত্রী এবং আমি এমন একটি দেশে ফিরে আসতে পেরে আনন্দিত, যে দেশের সঙ্গে আমাদের অনেক সুন্দর স্মৃতি জড়িত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের সিনিয়র কর্মকর্তা ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকা মিশনে পিটার হাসের উত্তরসূরি হলেন। তিনি ঢাকায় অষ্টাদশ মার্কিন দূত ছিলেন। এই পিটার হাসকে নিয়ে বাংলাদেশে কম বিতর্ক হয়নি। ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক ভারতীয় হাই কমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী কিছুদিন আগে দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে এই দাবি করেছিলেন, বাংলাদেশে গত ৭ই জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ‘ভারতের কঠোর অবস্থানের কারণেই ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে কার্যত গা ঢাকা দিতে হয়েছিল’। এই পিটার হাস বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত থাকাকালীন হাসিনা সরকারকে উৎখাতের সর্বত চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেটা তিনি পারেননি ২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনে হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে। কিন্তু পিটার হাস ঢাকা ছাড়েন ঠিক গণঅভ্যুত্থানের আগে। সেটাও একটা রহস্য। এবার বাংলাদেশে এলেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন, যিনি আবার প্রকাশ্যে চিনের বিরোধিতা করেন। তাঁকেই বাংলাদেশে পাঠানো এবং মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ট সার্জিও গোরকে ভারতে পাঠানো এবার একটা অন্য মাত্রা দিল।












Discussion about this post