বাংলাদেশে হিন্দু হত্যা এবং ওই সম্প্রদায়ের মানুষের উপর লাগাতার হিংসার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত-সহ একাধিক দেশ। যদিও প্রথম সরব হয়েছিল বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়ন ও নির্যাতন নিয়ে সে দেশের ৩২ জন বিশিষ্ট নাগরিক বিবৃতি দিয়েছিলেন। ওই বিবৃতিতে তাঁরা বলেছেন মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। তাঁদের এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে নিতে হবে। এরপরই বাংলাদেশে হিন্দু হত্যা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের উপর লাগাতার হিংসার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম। শফিকুল আলম লিখেছেন, অন্যান্য অনেক বাংলাদেশির মতো আমিও প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এসব ঘটনার ফলে যে ভয় ও মানসিক আঘাত সৃষ্টি হয়, বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে—যারা আমাদের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ—তা আমি উপলব্ধি করি। তিনি আরও বলেছেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মুসলিম—সব সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমার কাছে ব্যক্তিগত দায়িত্বের বিষয়। প্রতিটি রিপোর্টকৃত ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সাড়া দিচ্ছে, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করছে এবং আইন যেন ন্যায্য ভাবে প্রয়োগ হয় তা দেখছে। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য প্রেস সচিবের এই মন্তব্যকেই কার্যত খণ্ডন করেছেন তাঁরই সহকারী ফৈয়াজ আহমেদ। তিনি দাবি করেন, কিছু মিথ্যা এবং অপপ্রচারের ফলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হচ্ছে বাংলাদেশে।
আসলে বাংলাদেশে এখন পরিকল্পিত হিন্দু নিধন চলছে। বিগত একমাসে একাধিক ঘটনা ঘটেছে হিন্দু নিধনের। দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ড দিয়ে শুরু, তারপর একের পর এক ঘটনা সামনে এসেছে। গত শনিবার সমীর দাস নামে এক যুবককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল বাংলাদেশে। রবিবার রাতে অটো নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন সমীর। অভিযোগ, দাগনভুঁইয়ার বাজারের কাছে তাঁর উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে একদল দুষ্কৃতী। প্রথমে তাঁকে বেদম মারধর করা হয়। শেষে ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। অন্যদিকে জেলেবন্দি অবস্থায় ইউনুসের বাংলাদেশে মৃত্যু হল এক হিন্দু সঙ্গীতশিল্পীর। তাঁর নাম প্রলয় চাকী। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলায় গত ১৬ ডিসেম্বর সকালে তাঁকে পাথরতলার বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে পাবনা জেলা কারাগারে ছিলেন প্রলয়। অভিযোগ, বন্দি অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। অভিযোগ, বন্দি থাকাকালীন পুলিশি নির্যাতনেই কি মৃত্যু হল পদ্মাপাড়ের বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পীর। এই সমস্ত ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশ এবং বিদেশী রাষ্ট্রগুলির তরফে অসোন্তষ সৃষ্টি হলেও ইউনূসের সরকারের কোনও হেলদোল নেই। একদিকে প্রেস সচিব শফিকুল আলম স্বীকার করলেও, তাঁরই সহকারী সেটা খণ্ডন করছেন। অর্থাৎ, বাংলাদেশ এখন মগের মূলুক।












Discussion about this post