বাংলাদেশের স্থলসেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান এখন বেশ চিন্তায় রয়েছেন। তাঁর এই চিন্তা খুব স্বাভাবিক। ২৪-য়ের জুলাই-অগাস্টের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মূল ধারার রাজনীতিতে নিয়ে এসেছেন, তারা যদি আগামীদিনে বাংলাদেশে ক্ষমতা দখল করতে না পারে, তাহলে তাঁর যে বিপদ অবসম্ভাবি। জেনারেল ওয়াকার গত কয়েকমাস ধরে তাঁর বাহিনীর বেশ কয়েকজনকে সেফ এগজিট দিয়েছেন। বাতাসে খবর ছড়িয়েছে যে তাদের মধ্যে কয়েকজন ভারতেও আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকে আবার তাদের নিজের পছন্দের দেশে চলে গিয়েছেন। সেনাপ্রধান ওয়াকার জানেন, বাংলাদেশে জাতীয় রাজনীতিতে ক্ষমতার পালাবদল ঘটে গেলে, তাঁর সুবিধের অবসান হবে। তাই, তিনি কোনও অবস্থাতেই নিজেকে অনিরাপদ অবস্থায় রাখতে চাইছেন না।
সেনাপ্রধান ওয়াকার তদারকি সরকার প্রধানকে ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, যে তাঁর ইউনিট আর রাস্তায় থাকতে রাজি নয়। তারা ব্যারাকে ফিরে যেতে চাইছে। কিন্তু হাসিনা আমলে হওয়া গুম খুন, হত্যা, অপহরণের অভিযোগে বাহিনীর একাংশকে যেভাবে বিচারের কাঠগড়ায় তুলেছেন, তাতে বাহিনীর মধ্যে প্রবল অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সেনাপ্রধান নিজেও যেমন চিন্তায় রয়েছেন, সমান চিন্তা এবং উদ্বেগে তাঁর সহকর্মীরাও। এই অবস্থায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধানের পাকিস্তান সফর ঘিরে নতুন করে কৌতুহল তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কি পাকিস্তান সেনাকে তাদের রোল মডেল হিসেবে বেছে নিয়েছে?
একটা কথা কিন্তু পরিষ্কার। তা হল বাংলাদেশের রাজনীতিতে যত বেশি অস্থিরতা থাকবে, তাতে বেশি করে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবে ওয়াকারবাহিনী। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দুভাবে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকে। একটি হল দেশে কৃত্তিম অস্থিরতা তৈরি করে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করা। আর জাতীয় রাজনীতি স্বাভাবিকভাবে অস্থির হলে তারা নিজেদের অবস্থান বেশ পোক্ত করে রাখে। তারপর তারা ত্রাতার ভূমিকায় উত্তীর্ণ হয়। প্রশ্ন হচ্ছে বাহিনী কি আগামীদিনে বাংলাদেশে জাতীয় রাজনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে?
শোনা যাচ্ছে সেনাপ্রধানের ইচ্ছে নেই তারেক রহমানের বিএনপি ক্ষমতায় আসীন হোক। তার কারণ হিসবে উঠে আসছে, তারেকের দেশে ফেরার বিষয়ে বাহিনী কিন্তু সবুজ সংকেত দিতে চায়নি। আন্তর্জাতিক মহলের চাপের কাছে নতিস্বীকার করে তারা তারেক জিয়াকে বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে সবুজ সংকতে দেয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে সেনাপ্রধান ওয়াকারের বড়ো অবদান জামাতের মতো একটি মৌলবাদী দলকে সংবাদের শিরোনামে নিয়ে আসা। যে সব দল ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করে, তাদের মূল ধারায় নিয়ে আসেন সেনাপ্রধান ওয়াকার। বাকি যারা এই ধরনের রাজনীতি করে না বা রাজনীতি করা পছন্দ করে না তাদেরকেও তিনি ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করার জন্য বাধ্য করেছিলেন। সেটা করে বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে তিনি অস্থির করে তুলেছিলেন।
বাংলাদেশ বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ যে দ্বিদলীয় ব্যবস্থা চলছিল, সেই ব্যবস্থায় একটা সমঝোতা ছিল যে ধর্মের ভিত্তিতে যে সব দল বাংলাদেশে রয়েছে, তাদের কোনওভাবেই মূল ধারার রাজনীতিতে আসতে দেওয়া যাবে না। ওয়াকারের ব়ড়ো অবদান তিনি এই সব ধর্মভিত্তিতে রাজনীতি করা দলগুলিকে মূল ধারার রাজনীতিতে নিয়ে আসা। তারেক রহমানকে দেশে ফিরতে দেওয়া তারেক রহমানের পুরো পরিকল্পনার মধ্যে ছিল না। সেনাপ্রধানের ইচ্ছা ছিল তার নিজের পছন্দের গোষ্ঠীর মধ্যে কোনও রকমে একটা নির্বাচন করিয়ে ভোটের ফল বাহিনীর অনুকূলে আনা। যাতে আগামীদিনের সরকারের ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ থাকে। তারেক দেশে ফিরে আসার সবুজ সংকেত দিয়ে সেনাপ্রধান যে কী ভুল করেছেন, এখন সেটা তিনি ভালোই বুঝতে পারছেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post