অস্থির বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে নেওয়া হবে গণভোট। ২৪-য়ের জুলাই-অগাস্টের পর থেকে পদ্মাপারে যে ডামাডোল তৈরি হয়েছিল, দেশবাসী সেই ডামাডোলের অবসান চাইছে। তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন জানিয়েছেন, ভোট পর্ব যাতে উৎসব মুখর পরিবেশে হয়, তার জন্য তারা আপ্রাণ চেষ্টা চালাবে। আইন-শৃঙ্খলার যাতে কোনও অবনতি না হয়, সে দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। কোনও কোন কেন্দ্রে স্পর্শকাতর, কোন কোন কেন্দ্র অতি স্পর্শকাতর, তা চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে যৌথভাবে তদারকি সরকার এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।
শুধুমাত্র ঢাকা মহানগর এলাকার ২ হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় থাকবেন ২৫ হাজার পুলিশ সদস্য। ঢাকার চারটি স্থানে ‘কট্রোল রুম’ বসিয়ে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নজরদারি করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় থাকবেন তিনজন পুলিশ সদস্য। সাধারণ কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন দুজন পুলিশ সদস্য। পাশাপাশি একটি ভেন্যুতে একাধিক কেন্দ্র থাকলে সেখানে মোতায়েন থাকবেন পাঁচজন পুলিশ সদস্য। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় থাকা প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র থাকবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সারা দেশে থাকা ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। নিরাপত্তাঝুঁকি রয়েছে এমন কেন্দ্রগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ এবং ঝুঁকি নেই এমন কেন্দ্রগুলোকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে ধরে নিরাপত্তার পরিকল্পনা নিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এই হিসাবে ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ১ হাজার ৮২৮টি। আর সাধারণ কেন্দ্র রয়েছে ৩০৩টি। পুলিশের বাইরে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় ১০ জন আনসার সদস্য ও সহকারী সেকশন কমান্ডার পদের একজন আনসার সদস্য অস্ত্রসহ থাকবেন। এ ছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তার নিরাপত্তায় একজন অস্ত্রসহ আনসার সদস্য থাকবেন।
পুলিশ সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের একটি প্রথম সারির গণমাধ্যম বলছে, ঢাকা মহানগর ভোটকেন্দ্রটিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিদেশি পর্যটকদের বেশিরভাগ ঢাকায় থাকবেন। দেশের পাশাপাশি বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি সব থেকে বেশি থাকবে এই কেন্দ্রে। নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য হয়েছে কি না সেটা এই কেন্দ্রের নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে স্পষ্ট হয়ে যাবে।
এই রকম টানটান হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে ভারতীয় স্থলসেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী প্রতিবেশী দেশটি নিয়ে তাঁর ইউনিটের অবস্থা স্পষ্ট করে দিলেন। বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের কিছুটা ইতিবাচক, কিছুটা উদ্বেগের। সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিনিধি সেনাপ্রধানকের কাছে জানতে চান, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে সাউথব্লক হুমকি হিসেবে দেখছে। এই ক্ষেত্রে বাহিনীর ভূমিকা কী? বাহিনী এই সম্পর্ককে কীভাবে দেখছে ? জবাবে সেনা প্রধান বলেন, প্রথমত বাংলাদেশ ক্ষমতায় কী ধরনের সরকার রয়েছে, তা আমাদের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তারা যে সব পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেই সব পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদি না স্বল্পমেয়াদি। তাছাড়া বাংলাদেশের তিন বাহিনী এখনও পর্যন্ত যে সব পদক্ষেপ করেছে, তা ভারতের বিরুদ্ধে নয়। তাঁর এই মন্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নাম না করে পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল দ্বিবেদী। তিনি বলেন, ‘সিঁদুর অভিযানের সময় পাকিস্তানে স্থল অভিযানের জন্য প্রস্তুত ছিল সেনা। পাকিস্তান যদিও কোনওরকমের ভুলচুক করত, তাহলে তার বড়ো মাসুল তাদের দিতে হত। ’ পাকিস্তানের জন্য তাঁর বার্তা, ‘সীমান্তে জঙ্গি কার্যকলাপ এবং জঙ্গি শিবিরের ওপর নজরদারি চালাচ্ছে সেনা। এখনও আটটি শিবির রীতিমতো সক্রিয় রয়েছে। দুটি আন্তর্জাতিক সীমান্তের ওপারে এবং ছটি রয়েছে নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে। আমাদের বিশ্বাস সেখানে জঙ্গি প্রশিক্ষণও রয়েছে।’ সেই সঙ্গে সেনাপ্রধান বলেন, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকারের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে বলেও তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়ে দেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post