পদ্মাপারে প্রবল বেগে বইছে ভোটের হাওয়া। আগামী ১২ তারিখ ভোট। এক মাসও বাকি নেই। এবারের ভোটে আওয়ামী লীগ নেই। অনেকে মনে করছেন, বাংলাদেশে নির্বাচন হবে জামাত বনাম বিএনপি। তবে সব কিছু সাদা চোখে দেখা উচিত নয়। সরকারিভাবে ভোটের ময়দানে আওয়ামী লীগ নেই। কিন্তু তারা না থেকেও ভীষণভাবে রয়ে গিয়েছে। বলা হচ্ছে, ১২ তারিখ রিমোর্ট আওয়ামী লীগের হাতে থাকবে। আরও স্পষ্টভাবে হাসিনার হাতে থাকবে। পুরো খেলার রিমোর্ট কন্ট্রোল তাদের হাতে এমনভাবে রয়েছে, যা খালি চোখে ধরা পড়ে না।
দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দলের প্রতীক ফ্রিজ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেত্রী হাসিনা রয়েছেন দিল্লিতে। মনে করা হচ্ছে, তাঁর আমলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও রয়েছেন দিল্লিতে। আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতারা আত্মগোপন করে রয়েছেন। দল যেহেতু নির্বাচনী লড়াইয়ে নেই, তাই তাদের তরফে প্রচারও হচ্ছে না। এত কিছুর পরেও কিন্তু বলতে হচ্ছে যে তারা না থেকেও ভীষণভাবে রয়েছেন। কাগজে-কলমে আওয়ামী লীগ শূন্য। কিন্তু রাজনীতিতে শূন্য বলে কিছু হয় না। আওয়ামী লীগের ভোট কিন্তু মাঠে দাপট দেখাচ্ছে। বল এখন তাদের হাতে।
বাংলাদেশের ভোট নিয়ে ইতিমধ্যে প্রকাশ পেতে শুরু করেছে নানা সমীক্ষা। প্রথম দিকে যে সব সমীক্ষা প্রকাশিত হয়েছিল, সেই সব সমীক্ষার রিপোর্ট ছিল হাসিনার অনুকূলে। কারণ, পদ্মাপারে সেই সময় অদ্ভুত এক ধরনের হাওয়া বইতে শুরু করে। তখনকার প্রকাশিত সব জনমত সমীক্ষার ফল বলেছিল, আওয়ামী লীগ আরও বেশি সংখ্যক আসনে জয়ী হয়ে আবার ক্ষমতা দখল করতে চলেছে। কিন্তু তখনকার পরিস্থিত আর এখনকার পরিস্থিত এক নয়। নতুন একটি সমীক্ষা রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, বিএনপি ৭০ % এবং জামায়াত ১৯ % ভোট পেতে চলেছে। সকলেই বলছে, বিএনপি সরকার গড়তে চলেছে। কোনও কোনও মহল থেকে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে একমুখী। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা ভিন্ন মত পোষণ করছেন। তাদের মতে, বিএনপির প্রাপ্ত ভোটের সম্ভাব্য হার ৭০ শতাংশ বলা হলেও এটা পুরোপুরি তাদের একার নয়।
১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের প্রাপ্ত ভোটের হার ৩০ থেকে ৪৮ %। আর ২০১৪ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত দলের প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল ৩৫ থেকে ৪৫ শতাংশ। এই বিশাল জনগোষ্ঠী কিন্তু আজ অনাথ। তারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিতে পারবে না। আবার তারা বিএনপি, জামাত এবং এনসিপিকে আদর্শগতভাবে মেনে নিতে পারছে না। তাদের উদ্বেগ নিশ্চিন্ত এবং এক নিরাপদ জীবন। দেশজুড়ে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে, সেই অস্থিরতার ইতি ঘটুক। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক শ্রেণির আচরণ রীতিমতো সুবিধা ভিত্তিক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে, তার পিছনে আওয়ামী লীগের বড়ো অঙ্কের ভোট অনুঘটকের কাজ করবে। অনেকে বলছেন, আওয়ামী লীগের ভোটারদের একটা বড়ো অংশ এখন বিএনপির দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে। আর সেই ভোট নিয়ে শুরু হয়েছে বিএনপি এবং জামাতের মধ্যে এক অদৃশ্য লড়াই।
বিএনপি যে আওয়ামী লীগের সেই সব ভোটারদের চটাতে চাইছে না, তার বড়ো প্রমাণ তারেক রহমান। তিনি দেশে ফেরার আগে জামাতকে গাল দিয়েছে। দেশে ফিরেও তিনি অন্যান্য রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে কথা বললেও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একবারের জন্য মুখ খোলেননি। আর এর ফলে আওয়ামী লীগের ভোটাররা বেশ আস্থা পাচ্ছেন। সেটা বুঝতে পেরে জামাত স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। তাদের সঙ্গে চা খাওয়া থেকে শুরু করে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা – সবই হচ্ছে। প্রশ্ন জামাত কি আওয়ামী লীগের ভোটারদের একটা বড়ো অংশকে কাছে টানতে পারবে?
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post