একবার পালাবদল হয়ে গিয়েছে। দ্বিতীয়দফায় পালাবদল ঘটতে চলেছে। সেই পালাবদল কেমন হবে, পালাবদল দেশ তথা দেশবাসীর স্বার্থে হবে কি না, তা নিয়ে এখন থেকেই নানা প্রশ্ন ঘোরাঘুরি করতে শুরু করেছে। প্রশ্ন উঠছে, এই সম্ভাব্য পালাবদল কি ভোটে জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের প্রভাবেই হবে? না কি এ ক্ষেত্রেও ডিপ স্টেট হয়ে উঠবে চালিকা শক্তি? জুলাই-অগাস্টের তথাকথিত জনতার জনজাগরণের পিছনে যে ডিপ স্টেট প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল, এখন সেটা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। নেপাল, শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রেও তারা একই পদক্ষেপ করেছিল। কিন্তু সেখানার মানুষ ডিপ স্টেটের এই ষড়যন্ত্র ধরে ফেলে। ফলে, সাময়িক সময়ের জন্য এঁকটা অস্থিরতা তৈরি হলেও দেশবাসী স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সেই অস্থিরতাকে প্রশমিত করে। দেশ শাসনের দায়িত্ব পায় জনগণের নির্বাচিত একটি সরকার।
কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ডিপস্টেট বেশ সফল। বলা হচ্ছে, এটা হয়েছে সে দেশে কিছু অংশের মানুষের জন্য। দেশের প্রতি ভালোবাসা থাকলে, মানুষের মন এবং হৃদয়ে জাতীয়তাবোধ থাকলে কখনই একটি বৃহৎশক্তি এভাবে সফল হতে পারে না। একটি স্বার্থাণ্বেষী গোষ্ঠী ভীষণভাবে চেয়েছিল এমন একটি পালাবদল যে পালাবদলে জাতীয় স্বার্থ বিঘ্নিত হবে। প্রশ্নের মুখে পড়ে যাবে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব। ইউনূস আসলে ডিপ স্টেটের দাবার বোড়ে। আমেরিকা চেয়েছিল বাংলাদেশের মসনদে এমন একটি মানুষকে বসাতে, যে আসলে তাদের এজেন্ট হয়ে কাজ করবে। তাদের স্বার্থে যা যা পদক্ষেপ করার, সেটা সে করবে।
যে আশা নিয়ে আমেরিকা ইউনূসকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল, তাদের সেই আশা পূরণ হয়নি। উল্টে ইউনূস একের পর এক মার্কিন স্বার্থবিরোধী কাজ করে গিয়েছে। তার সব থেকে বড়ো প্রমাণ, পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতা। বাংলাদেশ একটি ভারত-বিরোধী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের আকাশে, পরিবর্তনের যে হাওয়া বহমান, তা কি স্বতঃস্ফূর্ত? না কি এই হাওয়ার সুতো বাধা আছে বিশেষ ব্যক্তির কাছে। না কি সুতো রয়েছে পর্দার আড়ালে থাকা কোনও ব্যক্তির কাছে। অনেকগুলো ঘটনা বাংলাদেশে ঘটে চলেছে।
অনেকেই ভাবছেন নির্বাচন আসন্ন। ক্ষমতার সমীকরণ বলছে অন্য কথা। সংস্কারের দোহাই দিয়ে তদারকি সরকার প্রধান ক্ষমতায় তাঁর মেয়াদ আরও বাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে চলেছেন। প্রশ্ন হল তিনি কার প্রতিনিধি? তিনি কীভাবে ক্ষমতায় টিকে যেতে চাইছেন? তাঁর পরবর্তী কৌশল কি রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হওয়া? বিএনপি হোক বা জামায়াত, যে দলই সরকার গঠন করুক না কেন, ইউনূসের পরের লক্ষ্য হলে জয়ী দলের শীর্ষনেতৃত্বকে কোনওরকমে বুঝিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হওয়া। না কি তাঁর লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী পদ? বাংলাদেশের ভোটের মুখে এই রকম একাধিক প্রশ্ন ঘোরাঘুরি করতে শুরু করেছে।
এখন তো বলা হচ্ছে, তদারকি সরকার প্রধান, বিএনপি, জামায়াত এবং মৌলবাদী শক্তি একই মুদ্রার এ পিঠ আর ও পিঠ। এদের নিয়ন্ত্রণ করার চাবিকাঠি রয়েছে আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের হাতে। তাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের উন্নয়ন বা জনকল্যাণ নয়। তাদের উদ্দেশ্য ভূরাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তাদের যা করার তারা সেটা করবে।
দক্ষিণ এশিয়ায় ডিপ স্টেট বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ছাড়া অন্য কোনও দেশকে কবজা করতে পারেনি। তাঁর কারণ হিসেবে উঠে আসছে, এই দুই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকের মধ্যে জাতীয়তাবোধের অভাব। কোনও কোনও মহল থেকে বলা হচ্ছে, এই দুই দেশের নাগরিকদের একাংশ মাতৃভূমির সঙ্গে বেইমানি করেছে। করেছে বিশ্বাসঘাতকতা। আর আমেরিকা তার সুযোগ নিয়েছে।
এদিকে, জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত বাম ও মধ্যপন্থী মতাদর্শের তরুণ নেতারা শুক্রবার আনুষ্ঠানিক ভাবে নতুন দল গড়ার কথা ঘোষণা করবেন বলে সে দেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো জানিয়েছেন। বিকেল সাড়ে ৩টেয় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে নতুন এই রাজনৈতিক মঞ্চের আত্মপ্রকাশ ঘটবে বলে প্রকাশিত খবরে জানানো হয়েছে। তবে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত নতুন দলের নাম চূড়ান্ত হয়নি। উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তায় একে ‘নতুন রাজনৈতিক প্রয়াস’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তবে ভোটের মনোনয়নের দিন ইতিমধ্যেই পেরিয়ে যাওয়ায় নতুন দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে না।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post