মাঠে হাওয়া থাকলে বল ভালো সুইং করে। স্পিনার, ফাস্ট বোলাররা সেই হাওয়াকে কাজে লাগিয়ে ব্যাটারকে নাস্তানাবুদ করে। তারা ফিল্ডার সে ভাবেই সাজায়। পিচে পড়ে বল কোন দিকে ঘুরবে, সেটা খুব সহজে ব্যাটাররা বুঝতে পারে না। বলের লাইন আর লেংথ বোঝা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। তাই অভিজ্ঞ ব্যাটাররা সব বল কিন্তু ব্যাটে লাগান না। পিচে বল পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা বোঝার চেষ্টা করে কোন দিকে যাবে – অফ সাইডে না লেগ সাইডে? অফসাইডে গেলেও সেটা উইকেট থেকে কতটা দূরে যেতে পারে? আবার লেগ সাইডে গেলে লেগস্ট্যাম্প থেকে কতটা দূরে যাবে। হাওয়া বুঝে বোলাররা বল সুইং করান। আর ব্যাটার বলের লেংথ দেখে জাজ করেন কোনটাকে ছেড়ে দেবেন, কোনটাকে ব্যাটে ব্যবহার করবেন। তাদের খেলাটা বেশ জমে ওঠে।
এবার উল্টো ছবিটা একবার দেখে নেওয়া যাক। বোলার বেশ দক্ষ। কিন্তু ব্যাটসাম্যান হলেন টেল এন্ডার। মাঠে ভালো হাওয়া। বল বেশ ঘুরেছে। ফাস্ট বোলার একটা ইনকাটার এমনভাবে ছেড়ে দিলেন যে অনভিজ্ঞ ব্যাটার বলের লাইন আর লেংথ বুঝতেই পারলেন না। এলেন এবং প্যাভিলিয়নে ফিরে গেলেন। স্কোরবোর্ডের তাঁর নামের পিছনে লেখা থাকল একটা বড়ো শূন্য।
আসিফ নজরুলের কথাই ধরা যাক। ওনার পরিচয় উনি একজন লেখক, রাজনীতিবিদ, সংবিধান বিশেষজ্ঞ। একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতেন। তিনি কোন আক্কেলে ২২ গজে হঠাৎ বল নিয়ে নেমে পড়লেন, সেটা বোধগম্য হচ্ছে না। আর বল ডেলিভারি করেছেন এমন এক ব্যাটসম্যানকে, যে বলের লাইন আর লেংথ খুব ভালো বোঝে। বল পিচে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বুঝে যায় বলটা কোনও দিকে ঘুরবে। এমন অনভিজ্ঞ বোলারকে পাড়ার ক্রিকেটেও খেলানো যায় না। আন্তর্জাতিক ম্যাচ তো পড়ের কথা।
কী বলেছেন, তদারকি সরকারের এই দূর্বল বোলারটি?
তদারকি সরকারের এই উপদেষ্টা বলছেন, ‘ভারতের কোনও জায়গাতে খেলার পরিবেশ নেই। আইসিসি সিকিউরিটি টিমের এই বক্তব্য সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেছে যে ভারতে বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার কোনওরকম পরিস্থিতি নাই। ক্রিকেটের ক্ষেত্রে আমাদের কোনও ডেভেলপমেন্ট নাই। আমরা দুইটা চিঠি দিয়েছি। চিঠি দেওয়ার পর আমরা আইসিসির যে উত্তর আমরা প্রত্যাশা করছি। এর মধ্যে একটি জিনিস ঘটেছে, আপনাদের জানানোর প্রয়োজন। সেটা হচ্ছে আইসিসির যে সিকিউরিটি টিম আছে, সিকিউরিটির দায়িত্বে যারা আছে, তারা একটি চিঠি দিয়েছে। সেই চিঠিতে বলা হয়েছে তিনটা জিনিস হলে বাংলাদেশ টিমের নিরাপত্তা আশঙ্কা বাড়বে। একটা হচ্ছে বাংলাদেশ টিমে যদি মুস্তাফিজ অন্তর্ভুক্ত হয়। দুই হচ্ছে, বাংলাদেশ… যে দলের যে সমর্থকরা আছে, ওনারা যদি বাংলাদেশের জাতীয়… জাতীয় যে জার্সি আছে.. আমাদের ন্যাশনাল জার্সি আছে এটা পরে যদি ঘোরাফেরা করে, আর থার্ড হচ্ছে ইলেকশন যত এগিয়ে আসবে তত বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা আশঙ্কা বৃদ্ধি পাবে।’
আসিফ নজরুলের কথাই ধরা যাক। দিনদুপুরে একটা মিথ্যে কথা বলে বসলেন। তাও যদি পাড়ার কোনও ক্লাবের বিরুদ্ধে বলতেন, তা হলে কথা ছিল। মিথ্যে কথা বলেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার বিরুদ্ধে। তদারকি সরকারের এই আইনি উপদেষ্টা আইসিসিকে একটা ফুলটস বল ডেলিভারি করে ফেলেছেন। বুঝতে পারেনি যে ফুলটস বলটা আইসিসি মেরে একেবারে স্টেডিয়ামের বাইরে বের করেত দেবে। আসিফ নজরুল এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন। আইসিসিকে ফাঁসাতে গিয়ে এখন নিজেই ফেঁসে গিয়েছে। সব থেকে বড়ো বিষয়, তাঁর মতকে ‘থার্ড আম্পায়ার’ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ব্যক্তিগত মতামত বলে চালিয়ে দিয়েছে।
আসল ভুলটা অন্যজায়গায় করে ফেলেছেন আসিফ। মাঠে নামার আগে ভালো করে নেট প্র্যাকটিশ করতে হয়। সেটা না করেই সরাসরি আইসিসির বিরুদ্ধে তাকে মাঠে নামিয়ে দেওয়া হল।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post