বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। সরকার ব্যাপকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। গণভোটের প্রচারও শুরু হয়েছে। এদিকে এনসিপিকে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, গণভোটের প্রচার করতে গাড়ি নিতে নেমে পড়েছে তারা। বাংলাদেশে নির্বাচনের আগেই প্রতিরোধের ঘোষণা হাসিনার। বড় প্ল্যানে ময়দানে আওয়ামী লীগ। ভোট বয়কটের ডাক দিল তারা। এখন প্রশ্ন উঠছে, আওয়ামী লীগের এই ভোট বর্জনের ডাক, ঠিক কতটা প্রভাব ফেলবে নির্বাচনে?
বাংলাদেশে জোরকদমে প্রচারে নেমেছে রাজনৈতিক দলগুলো। তারমধ্যে শেখ হাসিনার দল ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছে। তারা বলছে, নো বোট, নো ভোট। এমনই স্লোগান শেখ হাসিনার। অর্থাৎ নির্বাচনে নৌকা না থাকলে ভোট নয়। এই স্লোগানকে সামনে রেখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কটের ডাক দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা। প্রসঙ্গত, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসেই শেখ হাসিনার দল বা আওয়ামি লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। শুধু তাই নয়, তার অনুপস্থিতিতে ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়েছে শেখ হাসিনাকে। এই আবহে আওয়ামী লীগের তরফে প্রকাশিত দেড় পাতার আবেদনের গোড়ায় জাতির উদ্দেশে হাসিনার আর্জি, ফ্যাসিস্ট ইউনূস জঙ্গি পাহারায় ভোট করাতে চায়। সেই ভোট দিতে যাবেন না। যে ব্যালটে নৌকা প্রতীক থাকবে না, যে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করতে পারবে না, সেখানে আমাদের সমর্থক ভোটাররা কোনও ভোট কেন্দ্রে যাবেন না। এই দেড়-দু পৃষ্ঠার বিবৃতিতে এমনই বক্তব্য আওয়ামী লীগ নেত্রীর। এমনকি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গণতন্ত্র প্রিয় দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, ভয়, ভীতি, হত্যা, সন্ত্রাস, গ্রেফতার, হুমকি, অত্যাচার, দমন পীড়ন, অপহরণ, নিষ্ঠুর মব সন্ত্রাস, গণ পিটুনি যায় করুক না কেন, গণ ভোট দিতে যাবেন না। এর আগে শেখ হাসিনা রয়টার্সকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন হাসিনা। সেখানে তিনি ভোট বয়কটের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এখন সেটা বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে হাসিনা পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় বলেছিলেন, ভোট প্রতিরোধ করা হবে। এখন সেগুলি সত্যি হতে যাচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল আওয়ামী লীগ। অর্থাৎ এটা পরিষ্কার হয়ে গেল, আওয়ামী লীগের ভোট আর কোনও রাজনৈতিক দলের ভোট বাক্সে যাবে না। কারণ এর আগে নানা আলোচনা চলছিল যে আওয়ামী লীগের ভোট হয়তো জামায়েত-ই ইসলামীর ভোট বাক্সে যেতে পারে। এমনকি অনেকে বলছিলেন, বিএনপির মধ্যেও যেতে পারে। সেক্ষেত্রে নানারকম উদাহরণ টানা হচ্ছিল। কিন্তু যেভাবে আওয়ামী লীগ বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দিল তাতে এটা স্পষ্ট হয়ে গেল, আওয়ামী লীগ ভোট বয়কট করেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশে আওয়ামী সমর্থক যারা, তারা বিকল্প বাছাই করবে না। অন্তত তেমনটাই বলার চেষ্টা করেছেন শেখ হাসিনা। তবে ভোট বয়কটের মাধ্যমে কতটা প্রতিবাদ জানানো হবে, এতে কতটা প্রভাব পরবে, সেটা নিয়ে বিস্তর আলোচনা রয়েছে। পাশাপাশি এই আলোচনাও চলছে, নির্বাচিত হয়ে যে সরকার ক্ষমতায় আসবে, সেখানে আদেও কি আওয়ামী লীগ জায়গা করতে পারে। এদিকে অনেকে ধরেই নিয়েছেন, তারেক রহমানই হতে চলেছেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। অর্থাৎ বিএনপি জিততে চলেছে। সেই কারণে তারেককে বহু অংশে গুরত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ জামায়েত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে দ্বিধা তৈরি করে ফেলেছে। এখন দেখার, শেষমেশ বাংলাদেশে নির্বাচন হলেও কি পরিস্থিতি তৈরি হয়!












Discussion about this post