প্রতিবেদন শুরু করা যাক একটি ঘটনার উল্লেখ করে।
“আমেরিকাকে ভারত বন্ধু মনে করে, বস্ নয়!! ভারত তার ভাগ্য নিজেই লিখতে জানে!! আমরা জানি কাকে, কীভাবে জবাব দিতে হয়!!”
১৯৭১-য়ের নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে বসে মার্কিন রাষ্ট্রপতি রিচার্ড নিক্সনের চোখে চোখ রেখে ঠিক এই কথাগুলিই বলে এসেছিলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধি। তথ্যসুত্র তৎকালীন মার্কিন এশিয়া বিষয়ক সচিব হেনরি কিসিঞ্জারের আত্মজীবনী।
সেদিনের ভারত মার্কিন যৌথ সাংবাদিক বৈঠক বাতিল করে, নিক্সনের সামনে থেকে গটগট করে উঠে চলে এসে ছিলেন মিসেস গান্ধী। হেনরি কিসেন্ঞ্জার তাঁকে গাড়িতে ওঠার সময়ে বলেছিলেন – “Madam Prime Minister! প্রেসিডেন্ট স্যারের প্রতি আরেকটু ধৈর্য্য দেখালে বোধহয় ভালো করতেন!!
উত্তরে ইন্দিরা তাঁকে বলেছিলেন – “Thank you secretary for your valuable suggestion. Beaing a developing country we have backbone enough to fight the atrocities! We shall prove that days are gone to rule any nation far from thusands of miles.”
কিন্তু দেশটার নাম তো বাংলাদেশ। দেশের সরকার অবৈধ। আর সরকার অবৈধ হলে সরকার প্রধানের যে কোনও সাংবিধানিক বৈধতা থাকে না, সেটা আর নতুন করে বলার দরকার পড়ে না। গত ১৫-১৬ মাস ধরে তদারকি সরকার এমন তদারকি করেছে যে ভারত চটেছে। বিরক্ত আমেরিকা। ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ভোট। সেই ভোট যাতে নিরপেক্ষ এবং অবাধ হয়, তার জন্য তদারকি সরকারকে লাগাতার চাপ দেওয়া হচ্ছে। চাপ দিচ্ছে ভারতও। নানা প্রান্ত থেকে এখন শোনা যাচ্ছে ভোটের ফল তৈরি হয়ে গিয়েছে। ১২ তারিখের নির্বাচন আসলে ভাঁওতাবাজি ছাড়া কিছুই নয়। আওয়ামী লীগ তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছে।
বাংলাদেশ নানা দিক থেকে কোণঠাসা। নানা ইস্যুতে আন্তর্জাতিকমহলে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক এখন কেমন, তা সকলেই জেনে গিয়েছে। এই অবস্থায় মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর নিল কঠিন সিদ্ধান্ত। একটা এক প্রকার সার্জিক্যাল স্ট্রাইকও বলা যেতে পারে। অপরদিকে শুল্ক নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে যে ঠাণ্ডালড়াই চলছে, তা অনেকটাই হয়তো প্রশমিত হতে চলেছে। তবে বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের ক্ষেত্রে ওয়াশিটন নিল কড়া পদক্ষেপ।
এই দুই দেশ সহ ৭৫টি দেশকে সে দেশের অভিবাসন দফতর ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে বি-১ এবং বি-২ ভিসার ক্ষেত্রে ৩৮টি দেশের জন্য পাঁচ থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড সিস্টেম চালু করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেই তালিকাতেও রয়েছে বাংলাদেশ। নতুন করে এবার বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করল ট্রাম্প প্রশাসন। ৭৫টি দেশের তালিকায় নাম রয়েছে রাশিয়া, ইরান, তেহরান, ব্রাজিল, কুয়েত সোমালিয়া, নাইজেরিয়া, ইয়েমেন এবং ইরাক।
সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের এক্সপোস্টে জানিয়েছে, যে সব দেশের অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে জনকল্যাণ ভাতা অগ্রহণযোগ্য হারে নিয়ে থাকে, এমন ৭৫টি দেশের অভিবাসী প্রক্রিয়ায় স্থগিত থাকবে। নতুন অভিবাসীরা মার্কিন সম্পদে ভাগ বসাবে না – সেটা নিশ্চিত না হওয়ার পর্যন্ত স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে। মার্কিন প্রশাসন যদি মনে করে আবেদনকারী ব্যক্তি সরকারি কল্যাণভাতা বা অন্য সরকারি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারে, তাহলে তার ভিসা প্রত্যাখ্যান হতে পারে।
তবে ভারতের সঙ্গে আমেরিকা যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছে, সেটা সার্জিও গোরের কথাতেই স্পষ্ট। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, ভারতের থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় পার্টনার এই মুহূর্তে আর কেউ নেই।












Discussion about this post