মুহাম্মদ ইউনুস জমানায় ইজরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের নামে বাংলাদেশে বাটার শোরুমে তাণ্ডব চালিয়েছিল কট্টরপন্থী ইসলামিক সংগঠনগুলি। এমনকি কোকাকোলা-সহ আরও অনেক সংস্থার কোল্ডড্রিঙ্কসের বোতল রাস্তায় ফেলে নষ্ট করা হয়েছিল। এই সব সংস্থা নাকি ইহুদিদের। মূলত প্যালেস্তাইনের পাশে দাঁড়ানোর জন্যে যে বাংলাদেশিরা নিজেদের দেশেই তাণ্ডব চালিয়েছিল। এবার সেই মুহাম্মদ ইউনূসের সাধের পাত্র তথা বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে এমন এক প্রস্তাব দিয়ে এসেছেন, যা ইসরায়েলকেই সমর্থন করার জোগার। বাংলাদেশের তরফে তিনি গাজায় শান্তি সেনা পাঠানোর প্রস্তাব দিয়ে এলেন। এই প্রস্তাবের বিষয়টি সামনে আসতেই চরম অস্বস্তিতে পড়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ফলে বাধ্য হয়ে মুখ খুললেন মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেসসচিব শফিকুল আলম। ফেসবুকে এক দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে তিনি জানালেন, গাজায় স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনীতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার বিষয়টি কয়েকটি শর্তের ওপর নির্ভর করছে। কোন কোন শর্ত সেটাও তিনি খোলসা করেছেন। তবুও বিতর্ক থামছে না। তবে যেটা জানা গিয়েছে, ওয়াশিংটন কোনও শর্তেই রাজি নয়, বরং বাংলাদেশের প্রস্তাব সরাসরি খারিজ করেছে।
প্রসঙ্গত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী গাজায় আন্তর্জাতিক শান্তি বাহিনী মোতায়েন করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন গাজায় পাকিস্তানি সেনা পাঠানোর জন্য। সে দেশের সেনাপ্রধান আসিম মুনির প্রাথমিকভাবে রাজিও হয়ে যান। কিন্তু দেশে ফিরে তিনি টের পান, এই কাজ খুব একটা সহজ নয়। দেশের অভ্যন্তরেই প্রবল বিরোধের মধ্যে পড়েন পাক সেনাপ্রধান। ফলে এখনও পাকিস্তান গাজায় সেনাবাহিনী পাঠাতে পারেনি। কারণ, ইজরায়েলকে সাহায্য করতে এবং সন্ত্রাসী সংগঠন হামাসকে শেষ করতেই এই আন্তর্জাতিক সামরিক জোটকে গাজায় পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল আমেরিকার। যেটা মেনে নেওয়া পাকিস্তানিদের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন। এই আবহে ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে খলিলুর রহমান মার্কিন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, গাজায় সেনা পাঠাতে চায় বাংলাদেশ। ফলে প্রশ্ন উঠছে, যে বাংলাদেশ ইজরায়েলকে স্বীকৃতিই দেয় না, তারা সেখানে বাহিনী পাঠাতে চাইছে কেন। এই বিতর্কের মধ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, গাজায় স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনীতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
প্রশ্ন উঠেছিল, অন্তর্বার্তী সরকারের মেয়াদ শেষের দিকে, এ অবস্থায় এটি নিয়ে আলোচনা করা যুক্তিসংগত কি না। প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ দিকে চলে আসছে, সরকার কিন্তু থাকছে। মানে কিছু ব্যক্তি চলে যাবে, আরও কিছু ব্যক্তি এসে সেই স্থান নেবেন এবং দেশের এনগেজমেন্ট দেশের স্বার্থ কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে পরিবর্তন হয়ে যায় না। অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও নিজের ফেসবুকে এই বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি লেখেন, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ অব্যাহতভাবে গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার নিন্দা জানিয়েছে এবং অবিলম্বে হত্যাকাণ্ড বন্ধ ও গাজার ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলের সব বাহিনীর সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে আসছে। প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনীতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার বিষয়টি কয়েকটি শর্তের ওপর নির্ভর করছে। যেমন. এই শান্তি বাহিনী অস্থায়ী হতে হবে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ম্যান্ডেটের অধীনে পরিচালিত হতে হবে। পাশাপাশি গাজায় একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকতে হবে; গাজা থেকে সব ইসরায়েলি সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে এবং গাজার দায়দায়িত্ব প্যালেস্তিনীয়দের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। সর্বশেষ জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের এই শর্তের বিষয়ে আপত্তি তুলে বাংলাদেশের প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।












Discussion about this post