হাসিনার রাজত্ব শেষ হওয়ার পরে বাংলাদেশের পদ্মা দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গেছে। আন্দোলনের নামে জুলাই যোদ্ধাদের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের ক্ষমতায় এসেছিলেন প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস। তার রাজত্বকালে ঠিক দেড় বছরের মাথায় বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে জাতীয় নির্বাচন। আর সেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সদ্যপ্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান বিএনপি দলের চেয়ারম্যান দায়িত্ব পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর দাবিদারি রাখছেন। আর সুখৌশলে সেই তারেক ই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য ইউনূসের পোষ্যপুত্র অর্থাৎ জুলাই আন্দোলনের ছাত্র নেতাদের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা করে দিলেন। এটাই কি তারেকের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিরাট কৌশল? হাসিনার পতনের পর ইউনূসের হাত ধরে বাংলাদেশে শুরু হয়েছে নয়া অধ্যাদেশ। তারই মধ্যে নির্বাচনের প্রাক্কালে তারেক দিলেন নয়া প্রতিশ্রুতি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যোগ দেওয়া আন্দোলনকারীদের মুক্তিযোদ্ধাদের আসনে বসাতে চায় বিএনপি। সরকার গঠন করতে পারলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবার-পরিজনকে দেখভালের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রকের অধীনে আরও একটি বিভাগ খুলে দেওয়া হবে বলেই জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।রবিবার ঢাকার খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বিএনপি। যেখানে উপস্থিত ছিলেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এদিন ওই সভা থেকেই খালেদা-পুত্র বলেন, ‘আমরা যাঁকে হারিয়েছি, তাঁকে তো ফিরিয়ে আনা যাবে না। কিন্তু যাঁরা পিছনে রয়ে গিয়েছেন, তাঁদের পরিবার-পরিজনদের সকল সুযোগ-সুবিধা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কারণ আপনারাও মুক্তিযোদ্ধা, আপনারাও যোদ্ধা।’১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের দেখভালের জন্য বাংলাদেশে এই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রক তৈরি হয়েছিল। তারেকের মতে, শেখ হাসিনার ‘ফ্য়াসিবাদী সরকারের’ বিরুদ্ধে যাঁরা লড়াই চালিয়েছেন তারাও একই ধারার যোদ্ধা। এদিন ঢাকায় আয়োজিত বিএনপির এই সভায় নিজেদের কষ্টের কথা, স্বজন হারানোর কথা তুলে ধরে শহিদ পরিবারগুলি। যা শুনে এক পলকে চোখ মুছতে দেখা যায় তারেক রহমানকে। নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বার্তার সঙ্গে আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যোগ দেওয়া আন্দোলনকারীদের জন্য একটি বিশেষ অধ্যাদেশ অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। ওই অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্য়ুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের কাউকে কোনও দিন ওই সময়কালে করা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য কোনও রকম ফৌজদারি মামলায় জড়ানো যাবে না। এবার ইউনূসের মতো জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদদের নিয়ে বড় প্রতিশ্রুতি তারেকের। স্বাধীন বাংলাদেশে ইতিহাসে জুলাই যোদ্ধাদের রক্ষা করার যে সংবিধান তৈরি হয়েছিল তার হাত ধরেই তারেকের নতুন চালে হাসিনাকে দেশত্যাগের জন্য সেই জুলাই সন্ত্রাসীদের কেই আজ তারেক রহমান নিজের ক্ষমতা দাখিল করার জন্য জুলাই যোদ্ধা আখ্যা দিয়ে রক্ষা করার দায়িত্ব নিতে চলেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও বিএনপি’র বাংলাদেশের ক্ষমতায় ফেরার এটা এক নতুন কৌশলের অধ্যায় মাত্র। এখন দেখার বিষয় বাংলাদেশের আপামর জনতা বিএনপি চেয়ারম্যান তথা তারেক রহমানের বার্তা পেয়ে কোন দিকে এগোয়।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post