যবে থেকে দেশে পা রেখেছেন, তবে থেকেই বাংলাদেশের রাজনীতি বদলে গিয়েছে। সমস্ত মহল এখন তারেক জ্বরে কাবু। যখন নির্বাচন আর মাত্র কয়েকদিন বাকি, ঠিক সেই সময় তারেক রহমান দেশের মাটিতে পা রাখলেন। আর উল্টোদিকে খবরের শিরোনামে উঠে এলেন সজীব ওয়াজেদ জয়। দীর্ঘ নিরবতা ভেঙে জয় স্পষ্ট বার্তা দিলেন, আমার মা ছাত্র জনকে হত্যা করেনি। সম্প্রতি আলজাজিরাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ ঠিক কি কি করেছিল। ২০২৪ সালের ৫ই অগাস্টের পর থেকে একটা প্রশ্ন বারবার উঠেছে। সেটা হল, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কি হবে? পাশাপাশি এই প্রশ্নও ওঠে যে আদেও কি বাংলাদেশে ফিরবে আওয়ামী লীগ? কিংবা শেখ হাসিনা কি বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখবেন আর কখনও? এমনকি শেখ হাসিনাকে ২০২৪ সালের ৫ই অগাস্টের পর থেকে একটা প্রশ্ন বারবার করেছে বিভিন্ন গণমাধ্যম। যেখানে যেখানে তিনি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেটি হল, তার পরে দলের দায়িত্ব কে নেবেন? একাধিকবার উত্তর দিয়েছেন। আবার কখনও তিনি নীরব থেকেছেন। এরমধ্যে আল জাজিরাতে সজীব ওয়াজেদ জয় একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে বসে সজীব এই সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। পুত্র জয়ের ভাষায়, নেত্রী হাসিনার যুগের সমাপ্তি! তবে কি বড় পরিবর্তন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বে?
জয়কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ২০২৪ সালের আন্দোলন যেভাবে দমন করা হয়েছে, তার মায়ের নির্দেশে যে শত মানুষ নিহত হয়েছে, সেই বিষয়টি কিভাবে দেখছেন? কিংবা এই বিষয়টি কি স্বীকার করছেন? জয় অবশ্য স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সেই সরকার আন্দোলনকে মিস হ্যান্ডেলড করেছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, তার মা শেখ হাসিনা কখনোই আন্দোলনকারীদের হত্যার নির্দেশ দেননি। যদি তিনি নির্দেশ দিতেন, তাহলে তার মা এখনও প্রধানমন্ত্রী থাকতেন। তখন জয়ের দিকে প্রশ্ন আসে, শত শত মানুষের মৃত্যু কি শুধুমাত্র মিস হ্যান্ডেলড বলে ঢাকা সম্ভব? তখন জয় বলেন, যদি শেখ হাসিনার সত্যিই ক্ষমতা আকড়ে ধরে রাখতে চাইতেন, তবে তিনি এখনো ক্ষমতায় থাকতেন। তিনি রক্তপাত চাননি। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। এমনকি দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সেটা উড়িয়ে দেন। নির্বাচন ও দলের অবস্থান নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন জয়। পাশাপাশি তিনি বলেন, যতগুলি নির্বাচন হয়েছে স্বচ্ছভাবে হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন বয়কট করেছিল বিরোধীরা। যেটা তাদের সিদ্ধান্ত ছিল। এখানে আওয়ামী লীগের কোনও হাত নেই। এমনকি তিনি বলেন,আওয়ামী লীগকে রাতারাতি উধাও করে দেওয়া সম্ভব নয়। এরপরই সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, তবে কি শেখ হাসিনা ভারতে থেকে যাবেন? তখন জয় বলেন, না। তিনি এখনই দেশে ফিরে যেতে চান। দেশে ফিরে অবসর নিতে চান। এদিকে অনেক আগে শেখ হাসিনা একাধিক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, তিনি টুঙ্গিপাড়া দিয়ে অবসর নিতে চান। এদিকে জয়ও এদিন বলেন, তার মা অবসর নিতে চান। তখন জয়কে প্রশ্ন করা হয়, তাহলে কি শেখ হাসিনার রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে নিচ্ছেন? জয় বলেন, কোনও মানুষের সারা জীবন বেঁচে থাকতে পারে না। তবে আওয়ামী লীগ বহু বছর ধরে মানুষের মনে বেঁচে থাকবে। ফলে শেখ হাসিনা থাকবেন কি থাকবেন না সেটা মানুষই ঠিক করবেন। অনেকেই মনে করছেন, আওয়ামী লীগ বিএনপির পথে হাঁটবে। যেমন বিএনপিতে তারেক রহমান হাল ধরেছেন, ঠিক একইভাবে আওয়ামী লীগের হাল ধরবেন জয়। পাশাপাশি শেখ হাসিনা নির্দেশনা দেবেন। এখন দেখার, শেষমেশ কি পরিস্থিতি তৈরি হয়।












Discussion about this post