আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি পদ্মাপাড়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। যত সময় ঘনিয়ে আসছে, ততই তৎপরতা বাড়ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রশাসনের। এদিকে বসে নেই আওয়ামী লীগও। তারা ভোটের মাঠে না থেকেও চর্চায় রয়েছে। দিল্লিতে আয়োজন হয়েছে সংবাদ সম্মেলন। যার রেশ, প্রভাব আছড়ে পড়ছে ঢাকায়। এই পরিস্থিতিতে আদেও নির্বাচন হবে কিনা, সেটা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। এমনকি এই সংশয় প্রকাশ করেছেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। ভারতের সাবেক হাই কমিশনার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা। শ্রিংলার দাবি, বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন দেখতে চায় ভারত। যেখানে সমস্ত রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ থাকবে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি সেই দিকেই যাচ্ছে কিনা যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। এমনকি নির্বাচন হবে কিনা, সেটা নিয়ে প্রবল সন্দেহ প্রকাশ করেন। এদিকে নয়া দিল্লির ফরেন ক্রসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার আয়োজন করা হয় বিশেষ সংবাদ সম্মেলন। যার শিরোনাম ছিল সেভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ। যেটা মূলত আোয়ামী লীগের সংবাদ সন্মেলন। আর সন্মেলন থেকে শেখ হাসিনার কড়া বার্তা। অন্যদিকে ত্রিমুখী চাপে মহম্মদ ইউনূস।
নয়া দিল্লিতে আয়োজিত ওই সম্মেলনে শেখ হাসিনার হাজির থাকার কথা ছিল। কিন্তু তিনি সশরীরে হাজির থাকেননি ঠিকই, তবে অডিও বার্তা দিয়েছেন। যেখানে তার দাবি ছিল, পাঁচ দফা। এই পাঁচ দফা শুধুমাত্র রাজনৈতিক দাবি নয়, বরং এটি একটি বিকল্প রাজনৈতিক রোড ম্যাপ। যা সরাসরি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বৈধ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। নির্বাচন রুখে দিতে নেতা, কর্মীদের সরাসরি নির্দেশ দেননি তিনি। তবে তিনি কূটনৈতিকভাবে কিছু বক্তব্য রেখেছেন। এর আগেও তিনি এই বক্তব্য রেখেছেন। বলেছেন, নো বোট, নো ভোট। অর্থাৎ যেখানে নৌকা চিহ্ন নেই। সেখানে ভোট দেওয়ার দরকার নেই। মূলত আওয়ামী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি এমন বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সমুদ্রের রক্তে লেখা সংবিধান পুনরুদ্ধার করতে হবে। জনগণের সহায়তায় আবারও সমৃদ্ধ দেশ ফিরিয়ে আনবে আওয়ামী লীগ। কি বলেছেন তিনি শুনুন
অর্থাৎ আওয়ামী লীগকে এখন কৌশলে এগোতে হচ্ছে। এদিকে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে যে পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেগুলোর জন্য বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচিত সরকার যে বিপদে পড়বে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। ড্রোন তৈরি করতে চাইনা ইলেকট্রনিক টেকনলজি গ্রুপ কর্পোরেশন ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এই বিষয়টি আবার ভালো চোখে নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। দায়িত্ব গ্রহণ করেই ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেনট ক্রিস্টেনসন জানান, চীনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ইস্যুতে সম্পর্ক রাখলে, সেটা ঝুঁকিপূর্ণ। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এই বিষয়ে উদ্বিগ্ন। এমনকি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ওয়াশিংটন সফরে যান। তাকেও নাকি এই প্রকল্প থেকে সরে আসার কথা বলা হয়। অন্যদিকে প্রকল্পে অগ্রগতির জন্য জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চিনা রাষ্ট্রদূত। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যকে দায়িত্ব জ্ঞানহীন ও ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন,ঢাকার যে কোনও দ্বিপক্ষীয় যুক্তিতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না যুক্তরাষ্ট্র। ফলে এখন ত্রিমুখী পায়ে মুহাম্মদ ইউনূস। এখন দেখার, সেই চাপ কীভাবে সামাল দেন!












Discussion about this post