“গুড। রেজাল্টস গুড! ফল ভালো খুব ভালো। টিনিয়ন দ্বীপের হেডকোয়াটার্সে এই দুটি শব্দের অপেক্ষায় বিনিদ্র রাত কেটে গিয়েছে। অবশেষে খবর এলো। কয়েক মিনিটের মধ্যে খবর চলে গেল ওয়াশিংটনে। সেখান থেকে আটলান্টিক মহাসাগরে ক্রুইজার অগাস্টায়, যে জাহাজে প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান পটসড্যাম কনফারেন্স সেরে ফিরছিলেন। ”
বাদল সরকারে ত্রিংশ শতাব্দী নাটকের এই ছবির সঙ্গে ভারতের মিসাইল পরীক্ষার খবর যেন এক সূত্রে গাঁথা। ভারত যে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিটি ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হয়েছে, তার আরও একবার প্রমাণ পাওয়া গেল মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন সকালে পৌনে ১১টায় ওড়িশার চাঁদিপুর থেকে ভারত র্যামজেট শক্তির ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষামূলকভাবে উৎক্ষেপণ করে। ক্ষেপণাস্ত্রটির পুরো নাম সলিড ফুয়েল ডাক্টেড র্যামজেট। এর ফলে বিশ্বে হাতেগোনা কয়েকটি দেশের র্যামজেট ক্লাব-এ নাম লেখালো ভারত।
এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক এই ক্ষেণাস্ত্রের বিশেষত্ব আসে।
র্যামজেট হলো এমন একটি জেট ইঞ্জিন প্রযুক্তি যা সুপারসনিক (শব্দের চেয়ে দ্রুতগতি সম্পন্ন) ক্ষেপণাস্ত্রের প্রাণভোমরা। এর বিশেষত্ব হল এটি হালকা ও গতিশীল। কোনও জটিল টার্বাইন না থাকায় এটি অত্যন্ত হালকা। প্রচণ্ড গতিতে লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারে। এর রয়েছে বাতাস নির্ভর থ্রাস্ট। এর ফলে ক্ষেপণাস্ত্রের সামনের দিক থেকে আসা বাতাসকে প্রচণ্ড গতিতে টেনে নিয়ে সেটি দিয়ে ইঞ্জিনে থ্রাস্ট করে। ফলে ক্ষেপণাস্ত্রের গতি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্রের অব্যর্থ নিশানা। শত্রুপক্ষের বিমান ও ড্রোনকে মাঝ আকাশে ধ্বংস করতে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর। ডিআরডিও-র (DRDO) তৈরি সলিড ফুয়েল ডাক্টেড র্যামজেট ব্যবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্রের গতি ও কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।ডিআরডিও জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটির প্রতিটি প্রক্রিয়া এবং কারিগরি মাপকাঠি নিখুঁতভাবে কাজ করেছে। এই প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার ফলে ভারতের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর গতি ও কার্যকারিতা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।
ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নিশ্ছিদ্র করতে কেন্দ্রিয় সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে ৭.৮৫ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। প্রতিরক্ষাখাতে এই বিপুল পরিমাণ বরাদ্দ এক কথায় বেনজির দৃষ্টান্ত। বর্তমান লক্ষ্য হলো ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রকে সুপারসনিক থেকে হাইপারসনিক (শব্দের ৫ গুণের বেশি গতি) স্তরে উন্নীত করা। র্যামজেট প্রযুক্তির এই সাফল্য সেই লক্ষ্যপূরণের পথে একটি বড় মাইলফলক।অপারেশন সিঁদুর এবং সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের এই সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিরক্ষা সমীকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রকেও সুপারসনিক থেকে হাইপারসনিক (শব্দের পাঁচগুণের চেয়ে গতিসম্পন্ন) করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে র্যামজেট প্রযুক্তিসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্রও তৈরি করে ফেলল ভারত। ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সময় ডিআরডিওর বিজ্ঞানীরা লাইভ নজরদারিতে ছিলেন।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, র্যামজেট প্রযুক্তি প্রচলতি সলিড প্রপেলান্ট রকেটের ক্ষেত্রে ক্ষেপণাস্ত্রকে নিজস্ব অক্সিডাইজার বহন করতে হয়। এর ফলে ক্ষেপণাস্ত্রের ওজর অনেকটাই বেড়ে যায়। কিন্তু র্যামজেট প্রযুক্তি বায়ুমণ্ডল থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে। ফলে, ক্ষেপণাস্ত্রের ওজম কমে গিয়ে হালকা হয়ে যায়। পাশাপাশি এর গতি কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি অস্ত্র ব্যবস্থায় বেশি পরিমাণ পেলোড বহনের সুযোগ তৈরি হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ভারতে বায়ুসেনার শক্তি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। ভারতের যুদ্ধবিমানের পাইলটরা নিরাপদ দূরত্ব থেকে শত্রুপক্ষের দিকে হামলা চালাতে পারবে। এর ফলে পাইলটদের ঝুঁকি অনেকটাই কমবে। শত্রুপক্ষকে ঘায়েল করার বর্তমান কৌশল হল চোখের আড়াল থেকে অর্থাৎ beyond range থেকে আক্রমণ করা। এই ক্ষেপণাস্ত্র সেই রাস্তাকে আরও প্রশস্ত করে দিল।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post