রাজনীতির মাঠ বড়ো পিচ্ছিল। রাজনীতিতে একটা শব্দ প্রায় শোনা যায় – সম্ভাবনা। ফলে কী হতে পারে বলে একটা অনুমান করা যেতে পারে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি সেই অনুমানকে ভ্রান্ত প্রমাণ করে। পদ্মাপারের রাজনীতিতে এই দুটি যেন আরও বেশ করে ধ্রুব সত্য বলে প্রমাণিত হচ্ছে। হাসিনা দিল্লিতে থাকাকালীন বাংলাদেশের ভোট নিয়ে বেশ কয়েকটি সমীক্ষা প্রকাশিত হয়। সেই সব সমীক্ষায় দেখা যায় হাসিনার দল আওয়ামী লীগ বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় বসতে চলেছে। হাসিনা পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন। বাস্তব পরিস্থিতি যখন দেখিয়ে দিল আওয়ামী লীগের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কোনও সুযোগ নেই, তখন বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির হাওয়া মোরগের ঝুঁটি ঘুরে গেল। এক নয়, একাধিক প্রশ্ন ঘুরতে শুরু করে। সেই সব প্রশ্নের মধ্যে সব থেকে যে প্রশ্ন সব থেকে বেশি মাইলেজ পেল, তা হল আওয়ামী লীগের ভোট কার পক্ষে যাবে? এদিকে, ভোটের দিন আওয়ামী লীগ কর্মীদের কী দায়িত্ব হবে, সে ব্যাপারে নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন হাসিনা। বলেছেন, ১২ তারিখ তারা যে বুথে না যায়। বঙ্গবন্ধুর কন্যার ওই কৌশলের লক্ষ্য ভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। ত্রয়োদশ নির্বাচনে যদি আওয়ামী লীগের একজন সমর্থকের ভোট ব্যালটবাক্সে না পড়ে, সে ক্ষেত্রে ভোটের ফলাফলের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে। আন্তর্জাতিকমহল কোনওভাবেই এই ভোটের ফলাফলকে স্বীকৃতি দেবে না।
এই রকম টানটান উত্তেজনার মধ্যে প্রকাশিত হল একটি সমীক্ষা। সমীক্ষা তৈরি করেছে যৌথভাবে কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) ও বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজ (বিইপিওএস)। বুধবার, ৪ অক্টোবর সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সমীক্ষা রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাবুল হক আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লন্ডনের ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের অর্থনীতি বিভাগের ভিজিটিং প্রফেসর ড. এম. নিয়াজ আসাদুল্লাহ। কী কী বিষয় রাখা হয়েছিল এই সমীক্ষায়? বিষয়ের মধ্যে ছিল ভোটারদের অংশগ্রহণ, অগ্রাধিকার, নেতৃত্ব সংক্রান্ত ধারণা ও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে জনমত বিশ্লেষণ। স্ট্রাটিফাইড র্যান্ডম স্যাম্পলিং পদ্ধতিতে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই ধাপে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মোট ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটার অংশগ্রহণ করে।
আরও একটি সমীক্ষা রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। সেই রিপোর্ট অনুসারে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭০% মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে প্রস্তুত। নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ১৯ আর জাতীয় নাগরিক পার্টিকে ২. ৬ শতাংশ মানুষ ভোট দিতে চায়। ইউএএসডি জরিপে প্রশ্ন করা হয়, জাতীয় নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন? ভোট দেবেন না ০.২ শতাংশ মানুষ। প্রশ্ন করা হয়েছিল, কোন সরকার দল গঠন করবে। জবাবে ৭৭% মানুষ বিএনপির পক্ষে মত দিয়েছেন। ১৭ % মনে করে আগামীদিনে জামায়াত সরকার গঠন করবে। মাত্র ১ % মানুষ মনে করেন আগামী দিনে সরকার গঠন করবে এনসিপি। জানতে চাওয়া হয়েছিল, গত নির্বাচনে কাকে ভোট দিয়েছিলেন বা দেওয়ার ইচ্ছা ছিল। জবাবে ৩৫ শতাংশের জবাব ছিল তাঁরা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন। আর ২৭ শতাংশ ভোট দিয়েছেন আওয়ামী লীগকে। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিতে চেয়েছিলেন পাঁচ শতাংশের বেশি।
বাংলাদেশের ভোট নিয়ে পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে (পেপস) একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তাদের সমীক্ষা রিপোর্ট অনুযায়ী, ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, বিএনপির প্রতি সমর্থন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। দলের প্রতি সমর্থন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন ৪৭ শতাংশ মানুষ। পেপস তৃতীয় রাউন্ডের আগের দুটি রাউন্ডে প্রকাশিত সমীক্ষা রিপোর্টে যারা জামায়াত বা জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষে ছিলেন, তাদের একটি বড়ো অংশ বিএনপির দিকে ঘুরে গিয়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post