শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর থেকে অন্বর্তী সরকার ৮ ই অগস্ট সিংহাসনে বসেন। তিনি সিংহাসনে বসার পর থেকে এককথায় ভালো তো কিছু হয়নি উল্টো মানুষ অবনতির দিকে চলে যাচ্ছে। গুমোট পরিবেশ তৈরী হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক নেই। পিছনে পিছনে প্রচুর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র চলছে। সামনেই রয়েছে নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আরও বেশী করে বাংলাদেশের অন্দরে রাজনীতি হচ্ছে। পর্দার আড়ালে চলছে অনেক কিছু। পরবর্তী সরকারে যে আসবে, যে সরকারই আসুক যদি কেউ মনে করে তার কাজ করা অনেকটা সহজ একদমই সেটা না। পরবর্ত সরকারের কাজ করাটা আরও কঠিন। ড. ইউনূসতে যারা সহজ, সরল অর্থনীতিবিদ মনে করেছিলেন একেবারেই তিনি ওতো সহজ নন। পরবর্তী যে দল বা সরকার ক্ষমতায় বসবে তাদের অনেক চ্যালেঞ্ডের মুখে পড়তে হবে… যেমন- নতুন প্রশাসনের সামনে আইন শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং একই সাথে দেশ শাসন ও রাজনীতির ক্ষেত্রে পুরনো সংস্কৃতির পরিবর্তন করে তুলে ধরে জনতার মনে আস্থা অর্জন করাই হবে নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের অন্তত তিনটি মানবাধিকার সংগঠন ২০২৫ সালের অর্থাৎ গত এক বছরের যে মানবাধিকার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে বলা হয়েছে, মব ভায়োলেন্স বা সন্ত্রাস বছর জুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।
এসব সংগঠন বলছে, ২০২৫ সাল জুড়ে মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশজুড়ে ভিন্নমত ও রাজনৈতিক ভিন্ন আদর্শের মানুষ এবং মাজারের ওপর হামলা, নিপীড়নের ঘটনা বেড়েছে। এমনকি পুলিশের উপস্থিতিতেও মবের মতো ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। এসব ক্ষেত্রে ব্যবস্থা না নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের নিষ্ক্রিয়তা নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা এবং ভয় আরো বাড়িয়ে দিয়েছে বলেও অনেকে মনে করেন। ঢাকায় দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে হামলা ও আগুন দেওয়ার ঘটনাতেও সরকারের দিক থেকে কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। ইউনূস বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রেও অনেক নিয়ম এনেছে। ভারতকেও তিনি একাধিকবার হুমকী দিয়েছেন। যারা ভাবছেন ক্ষমতায় গিয়ে দেশ চালানো সহজ হবে তা একেবারেই ভুল। প্রত্যেকে ৯ তারিখের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। তাও আবার জাতীয় নির্বাচনেরক ঠিক আগে। ৯ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে চলেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো-র সূত্র অনুযায়ী খবর, চুক্তিতে বেশ কিছু শর্ত থাকতে পারে। চিন থেকে আমদানি কমাতে বলা হতে পারে বাংলাদেশকে। এর বদলে আমেরিকা থেকে সামরিক ও অন্যান্য পণ্য কেনার মতো নানা শর্ত থাকতে পারে, যা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও জলঘোলা হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনের ঠিক আগে একটি অনির্বাচিত সরকারের এমন চুক্তি ভবিষ্যৎ সরকারের হাত বেঁধে দিতে পারে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান জড়িয়ে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ভারতের চেয়ে কম সুবিধা পেলে লাখো চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সব মিলিয়ে, চুক্তির গোপনীয়তা, সময় নির্বাচন এবং সম্ভাব্য শর্ত নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, যার প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতেও। এখন দেখার ভোটের ফলাফল।












Discussion about this post