১২ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশের নির্বাচনে লড়ছে না বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দলের বিপুল সমর্থ ঊোট তারা কোনও পক্ষকেই ভোট দিতে পারবে না। রাজনৈতিক মহল বলছে, ৩২.৯ শতাংশ আওয়ামী লীগ সমর্থক। জামাতের পক্ষ রয়েছে ১৩.২ শতাংশ সমর্থক, প্রাক্তন শাসকদলের ৪১.৩ শতাংশ এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। অন্যদিকে বাংলাদেশের ১৭ বছর পর ফিরে এসেছেন তারেক হরমান। তারেক রহমান ফেরায় দলের নেতা কর্মীরা তারা ভোটের অনেকটাই খুশী। ভোটের আগে তারেক বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন। প্রচারের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক সাড়াও পাচ্ছেন। সাম্প্রতিক কিছু সমীক্ষাও সে কথাই বলছে। বুলেট প্রুভ গাড়ি থেকে কপ্টার সব মাধ্যমেই যাচ্ছেন প্রচারে। ভোটের আগে বাংলাদেশে চলছে সেয়ানে সেয়ানে টক্কর। বিএনপি এমন জায়গায় আছে তারা একক আধিপত্যের স্বপ্ন দেখছে। আমজনতা থেকে রাজনৈতিক নেতাদের মনোভাব দেখে মনে হচ্ছে তারেক রহমানই বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের মহিলাদের নিয়ে জামাতের আমিরের একটি স্ট্যাস প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও জামাতের তরফ থেকে বলা হচ্ছে হ্যাক হয়েছিল আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট। বিএনপি সেই প্রতারকে কাজে লাগিয়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছে।
সমীক্ষায় স্পষ্ট এগিয়ে আছে বিএনপি। রাজনীতির মাঠে যখন তখন হাওয়া ঘুরতে পারে। বাংলাদেশের বেসরকারি পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ইনোভেশন কনসাল্টিং সমীক্ষার নাম দিয়েছে ‘পিপল্স ইলেকশন পাল্স সার্ভে’। এখনও পর্যন্ত তিন দফায় সমীক্ষা হয়েছে। প্রথম দফার ফলাফল জানা গিয়েছিল গত বছরের মার্চ মাসে। দ্বিতীয় দফার ফলাফল প্রকাশ করা হয় গত সেপ্টেম্বরে। শুক্রবার ঢাকার একটি অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সংস্থা তাদের সমীক্ষার তৃতীয় দফার ফলাফলও প্রকাশ্যে এনেছে। গত ১৬ জানুয়ারি থেকে ২৭ জানুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের ৫১৪৭ জনের সাক্ষাৎকারের ওপর তৈরি হয়েছে তৃতীয় দফার রিপোর্ট। কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের ৬৪টি জেলার গ্রামাঞ্চল এবং শহরাঞ্চলের মানুষ সমীক্ষায় যোগ দিয়েছেন। তাঁদের নির্বাচন এবং বাংলাদেশের রাজনীতি সংক্রান্ত প্রশ্ন করা হয়েছিল।
সমীক্ষায় যাচ্ছে তারেক প্রধানমন্ত্রী হবেন এমনটা মনে করেন ৪৭.৬ শতাংশ মানুষ। ২২.৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন জামাতের আমির শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসবেন। এ ছাড়া, এনসিপি-র নাহিদ ইসলামকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেখছেন ২.৭ শতাংশ মানুষ। ২২.২ শতাংশ কোনও পক্ষকেই ভোট দেননি। কিছুদিন আগে পর্যন্ত বাংলাদেশের হাওয়া অন্য কথা বলছিল। বিএনপিকে কেউ সমর্থন করছিল না সেভাবে। এখন বাংলাদেশের রাজনতির সমীকরণ ঘুরে গেছে। ইনোভেশন কনসাল্টিং-এর আগের দফার সমীক্ষাগুলির তুলনায় তৃতীয় দফায় বিএনপি-র সমর্থন অনেকটাই বেড়েছে। খালেদা জিয়ার মৃত্যু এবং তারেকের দেশে প্রত্যাবর্তন বিএনপি নেতাদের কাছে বাড়তি অক্সিজেন। আগে যাঁরা নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না, তাঁরাও বিএনপি-কে বেছে নিতে শুরু করেছেন। এমনকি, জামাত বা এনসিপি-র অনেক সমর্থকও বিএনপি-র দিকে ঘুরে গিয়েছেন। আগামী ১২ তারিখ সাধারণ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের আয়োজনও করেছে ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ৬০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে এগিয়েছেন।












Discussion about this post