আর মাত্র এক সপ্তাহ পর বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন। তবে আওয়ামী লীগ-সহ বিরোধী রাজনৈতিক মহলের দাবি এই নির্বাচনের অনেক আগেই আসন্ন ভোটের ফলাফল ঠিক করে রেখেছে ইউনূসের সরকার। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। ফলে এর গুরূত্ব অনেকটাই বেড়েছে। এই আবহেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে গোলাম আজমের পুত্রের সাক্ষাৎ ঘিরে বাংলাদেশে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার ৩ ফেব্রুয়ারি তাঁদের সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন গুমের শিকার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী। এও জানা গিয়েছে, তিনি নিজের লেখা ‘বিভীষিকাময় আয়নাঘর’ এবং তাঁর বাবা গোলাম আযমের লেখা আত্মজীবনী ‘জীবনে যা দেখলাম বইটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে উপহার দিয়েছেন। তবে প্রশ্ন উঠছে, আচমকা কেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ভবনে এত তৎপরতা বৃদ্ধি পেল? রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর সঙ্গে গোলাম আজমের পুত্রের সাক্ষাৎ—হঠাৎ করে বঙ্গভবনে কী ঘটছে? এই বৈঠকের পেছনে কি কোনো রাজনৈতিক বার্তা আছে, নাকি এটি নিছকই একটি আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ?
ঘটনা হল, দুই একদিন আগেই রাষ্ট্রতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্ব। এবার সাক্ষাৎ করলেন গোলাম আজমের পুত্র। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই সাক্ষাতগুলির সম্ভাব্য তাৎপর্য কি হতে পারে সেটা নিয়েই চলছে জল্পনা-কল্পনা। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই খবর সামনে আসার পর যেটা নিয়ে বেশি চর্চা চলছে, সেটা হল খেলা যে কি হচ্ছে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। উল্লেখ্য, যুদ্ধাপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে মৃত একাত্তরের রাজাকার বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা গোলাম আজমের ছেলে আব্দুল্লাহিল আমান আজমিকে ডিবি পুলিশ আটক করেছিল ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে। এই বিষয়টি জানার আগে জানতে হবে গোলাম আজম আসলে কে। বাংলাদেশের ইতিহাস বলছে, ১৯৭১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে স্বাধীন বাংলাদেশ হওয়ার মুক্তিযুদ্ধের সময় একটা গোষ্ঠী পাকিস্তানকে সাহায্য করেছিল। জামায়াতে ইসলামীর সৃষ্টি দুই গোষ্ঠী আলবদর এবং আল শামস নামে ওই দুই গোষ্ঠী গঠন করেছিলেন তৎকালীন জামাত প্রধান গোলাম আজম। তাঁর নেতৃত্বেই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে নারকীয় অত্যাচার চালিয়েছিল এই দুই সংগঠন। লক্ষ লক্ষ হিন্দু মহিলাদের ধর্ষণ ও খুন করেছিল এই দুই সংগঠন। পরবর্তী সময় অর্থাৎ নব্বইয়ের দশকে গোলাম আজমের পুত্র আব্দুল্লাহিল আমান আজমি বাংলাদেশ থেকে কার্যত হিন্দু নিধন যজ্ঞ চালিয়েছিলেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠালেও ক্ষমতার পালাবদলের পর গোলাম আজমের পুত্র আব্দুল্লাহিল আমান আজমিকে মুক্তি দেয় ইউনূস সরকার। এ হেন এক মুক্তিযুদ্ধবিরোধী নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। যা নিয়ে তোলপাড় বাংলাদেশের রাজনীতি।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, নিশ্চই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনও বার্তা দিতেই তিনি বঙ্গভবনে গিয়েছিলেন। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, হয়তো আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতির কি ভূমিকা থাকবে, তিনি কবে কিভাবে পদত্যাগ করবেন সেটাই হয়তো জানাতে গিয়েছিলেন গোলাম আজমির পুত্র। তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিভবনকে ঘিরে দুই-দুটি ঘটনা নিশ্চই একটা বড় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের বার্তা দিচ্ছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেছেন আমান আযমী। সেখানে তিনি একটি ছবি প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘রাষ্ট্রপতি খুব আগ্রহ সহকারে উপহার নিলেন এবং উল্টেপাল্টে দেখলেন। উনার মূল্যবান সময় থেকে আমাকে অনেক সময় দেওয়ার জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি’। কিন্তু বিষয়টি কি এখানেই থেমে থাকবে, আদৌ না। এর পিছনে রয়েছে সেই জামাতের একটা অদম্য অভিপ্রায়। যে কারণে জামাত নেতৃত্ব দিন দুয়েক আগেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেছিলেন, এবার সেই কারণেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন সাবেক জামাত আমিরের পুত্র আমান আযমী।












Discussion about this post