যমুনা এখন টার্গেট। দিনভর উত্তপ্ত যমুনা। বিষয়টি ঠিক কি? জানা যায়, ওসমান হাদির মৃত্যুর বিচার চেয়ে নতুন করে যমুমার সামনে জড়ো হয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা। তাদের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডা হয়। সেই ছবি যেমন ধরা পড়েছে, একইভাবে পুলিসকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীরা বলছে, যদি আমাদের গায়ে ফুলের টোকা দেওয়া হয়, তবে আগামী কালকের মধ্যে ঢাকা শহরে ৫০ লক্ষ মানুষ নেমে পড়বে। নির্বাচন এক সপ্তাহ বাকি। তার আগে এই পরিস্থিতি। আসলে কোনদিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশের আবহ? যত সময়এগোচ্ছে ক্রমশ ইউনূসকে ঘিরে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে।
জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্তের দাবিতে যমুনার সামনে ইনকিলাব মঞ্চ। অর্থাৎ তাদের দাবি, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্ত করতে হবে। বর্তমান সরকারের তদন্ত নিয়ে তারা সন্দিহান। এমনকি বর্তমান সরকারের ভিতরে নাকি কেউ কেউ ঢুকে আছেন, যারা চান না এই তদন্ত হোক। জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। শুরুর দিকে ইনক্লাব মঞ্চের ৮ থেকে ১০ জন নেতাকর্মী কর্মসূচিতে অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ছিলেন ইনক্লাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা, এবং ওসমান হাদীর স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পা। অবস্থানরত আন্দোলনকারীরা বলেন, হাদি হত্যার ঘটনা নিয়ে জাতিসংঘের অধীনে একটা নিরপেক্ষ তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিতে হবে। যতক্ষণ না দেওয়া হবে তারা অবস্থান কর্মসূচি ছেড়ে যাবে না। এদিকে আবার ইন্টার কন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে ৪০ থেকে ৫০ জনকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলন রোখার চেষ্টা করে। এতে যান চলাচল স্তব্ধ হয়। প্রধান উপদেষ্টার আশ্বাস বাণী শুনতে চাইছেন আন্দোলনকারীরা। এমনটাই তাদের দাবি। আব্দুল্লাহ আল জাবের পুলিশের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পুলিশ তাদের বোঝানোর চেষ্টা করে যাতে আন্দোলন তুলে নেয়। না হলে তাদের ওপর বল প্রয়োগ করতে বাধ্য হবে। এরপরই জাবের বলেন, সর্বোচ্চ আপনারা কি করতে পারেন? আমাদের ওপর জলকামান ছুরবেন? আমাদের উপর লাঠির আঘাত করবেন? তখন পুলিশ বলে, এই কয়েকজন মানুষের উপর তো জলকামান ছোরা যায় না। এরপরই জাবের বলেন, কত মানুষ হলে আপনারা জল কামান ছুড়বেন? আপনি সেই সংখ্যাটা বলুন। আমি দু’ঘণ্টার মধ্যে তত মানুষ যদি জোগাড় করতে না পারি, তবে এই জায়গা ছেড়ে দেব। পাশাপাশি তিনি বলেন, আমাদের ওপর ফুলের টোকা দিলেও আমরা অবরুদ্ধ করে দেবো ঢাকা। হাদির সমর্থকরা ঢাকা অবরুদ্ধ করে দিতে পারে। অর্থাৎ প্রবল একটা হুমকি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে পুলিসকে। যদিও পুলিশকে অ্যাকশন নিতে হয়েছে। ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। তাদের আটকানোর চেষ্টা করে। এমনকি জলকামান ছোড়ে পুলিশ।
এখন প্রশ্ন হল, হাদের হত্যার ঘটনার সঙ্গে সরকারের বিরুদ্ধে সন্দেহ ছুড়ে দেওয়ার অর্থ কি? সরকার তো হাদির হত্যার ঘটনায় যথেষ্ট উদ্যোগী ছিল। তাকে শহীদ সম্মান দিয়েছে। এমনকি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাজের পাশে তাকে সমাধিস্থ করা হয়েছে। তবে সন্দেহের তীর কেন সরকারের দিকে যাচ্ছে? কেন তারা জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে এই তদন্তের দাবি জানাচ্ছে? এরমধ্যে জাবেরের বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশকে তার হুমকি, সেটা অনেককেই বাংলাদেশের নির্বাচন হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন। তবে কি নির্বাচন বানচালের রোড ম্যাপ আগেই তৈরি করা হয়েছে? কারণ ওসমান হাতে মৃত্যু সদ্য ঘটেনি। হঠাৎ করে তাদের কেন এত তৎপরতা? নাকি নির্বাচন জাতীয় সুষ্ঠুভাবে না হয়, তারই এটা চেষ্টা মাত্র? নাকি কোনও পক্ষ তাদের প্রভাবিত করছে? যদি সেটা হয়ে থাকে, তবে ভয়ঙ্কর দিন এগিয়ে আসছে আগামী বাংলাদেশের জন্য।












Discussion about this post