বাংলাদেশের পাকিস্তান প্রেম উত্তলে উঠছে। অন্তত তাদের সঙ্গে বর্তমান যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের, তাতে এই চিত্রটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পাকিস্তানের বিভিন্ন নেতার মধ্যে যেমন উৎসুক লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার স্বয়ং এটা নিয়ে উৎসুক। এমনকি পাকিস্তান বর্তমানে বাংলাদেশের এতটাই আপন যে, বাংলাদেশ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে পারল না তখন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নাকি ঘোষণা দিয়েছেন, বাংলাদেশকে খেলতে না দিলে আমরা ভারতের সঙ্গে ম্যাচ খেলব না। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা কি দুই দেশের বন্ধুপূর্ণ সম্পর্ক? নাকি ভারত-বাংলাদেশের এখন যে সম্পর্ক, সেটাকে কাজে লাগাতে চাইছে পাকিস্তান? দ্বিতীয় সন্দেহটা যদি সত্যি হয়ে থাকে, তবে এখন পাকিস্তানকে পাশে পেয়ে বাংলাদেশ যা যা বলেছে, সেগুলি পরবর্তীকালে ভারত সঠিক জবাব দিলে কি করবে বাংলাদেশ? পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানিয়ে পোস্ট দিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। কিন্তু কেন?
বাংলাদেশের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল একটি সম্প্রতি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি লেখেন, ধন্যবাদ পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বলেছেন, বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে তাঁর দেশ ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুধবার মন্ত্রিসভার সদস্যদের তিনি বলেন, আমরা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলব না। কারণ খেলার মাঠে কোনও রাজনীতি থাকা উচিত নয়। আমরা খুব ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো উচিত। আমি মনে করি এটি খুবই উপযুক্ত সিদ্ধান্ত। কিন্তু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সোশ্যাল মিডিয়ার কোনও হ্যান্ডলেই এই পোস্ট লক্ষ্য করা যায়নি। এটা কিছু গণমাধ্যমের অপপ্রচার। আর সেটাকেই সত্য মনে করে, এবং তার মধ্যে নিজের খানিকটা বক্তব্য ঢুকিয়ে এমন একটি পোস্ট দিয়ে ফেললেন বাংলাদেশের আইন উপদেষ্টা। যদিও এই পোস্টের তীব্র নিন্দা করছেন বাংলাদেশের বহু মানুষ। যা রাজনীতি সচেতন। যারা মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি, পাকিস্তান আসলে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে চাইছে বাংলাদেশকে কাজে লাগিয়ে। যখন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে, তখন পাকিস্তান প্রতিনিয়ত উস্কে থাকছে বাংলাদেশকে। যার ফলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও তলানিতে গিয়ে পৌঁছছে। পাশাপাশি উপদেষ্টামণ্ডলীর তরফ থেকে যখন সরাসরি পাকিস্তান প্রেম দেখানো হয়, সেক্ষেত্রে অনেক বড় বার্তা যায়। এদিকে এক সপ্তাহ বাকি রয়েছে বাংলাদেশের নির্বাচন। এরপরই নতুন সরকার আসবে বাংলাদেশে। তখন অন্তবর্তীকালীন সরকারের কোনও অস্তিত্ব থাকবে না। কিন্তু তাদের এই ক’মাসে করে যাওয়া কিছু কর্মকাণ্ডের জবাব দিতে হবে বাংলাদেশকে। কিন্তু নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে এইভাবে আসিফ নজরুলের পাকিস্তানপ্রীতি অন্য বার্তাও দিতে পারে। তবে কি পাকিস্তান সেফ এগজিট দেবে অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের? কারণ নির্বাচনের পর উপদেষ্টামণ্ডলী অনেকেই সেফ এগজিটের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে দেখেছেন বলে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু পাকিস্তান কি আদেও সেই সেফ এগজিট দিতে রাজি হবে? কারণ কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তান নিজেদের স্বার্থে বাংলাদেশকে সাপোর্ট করছে। কিন্তু যাদের কদিন ক্ষমতা থাকবে না, তাদের কেন পাকিস্তান সেফ এগজিট দেবে?
সম্প্রতি ভারত-আমেরিকার সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়েছে। ভারতের উপর থেকে শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নিয়ে গিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে বাংলাদেশের নির্বাচনে যে বিএনপি জিতবে, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এদিকে বিএনপি ভারতের দিকে ঝুঁকেছে। ফলে সবমিলিয়ে এই মুহুর্তে ভারত বিরোধীতা করলে, তারা যে বিপাকে পড়বে, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post