১২ ফেব্রুয়ারি।
আজ ৬ ফেব্রুয়ারি। ঠিক ছয়দিন বাদে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোট গ্রহণ শুরু সকালে সাড়ে সাতটা থেকে। ওই দিন শুরু হবে ভোট গণনা। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে এখন ব্যস্ততা চরমে। এই ভোট নিয়ে বহু প্রশ্ন উঠে এসেছে। সেই সব প্রশ্নের মধ্যে রয়েছে ভোট হওয়া নিয়ে। সেনাবাহিনী কতটা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে, তা নিয়ে কম চর্চা হয়নি। তদারকি সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, ভোট অবাধ ও সুষ্ঠু করতে তারা বদ্ধপরিকর। বাংলাদেশের ভোট নিয়ে কমবেশি সকলের কৌতুহল ক্রমেই বাড়ছে। তদারকি সরকারের তরফে বলা হয়েছে, এই ভোট হবে উৎসবমুখর পরিবেশে। সেনাবাহিনীও সেটাই চাইছে। ভোট এবং ভোট পূর্ববর্তী পর্বে যাতে হিংসা ছড়িয়ে পড়তে না পারে, তার জন্য বাহিনী সজাগ রয়েছে। তবে পদ্মার গভীরে একটি চোরা স্রোত বইছে। সেই স্রোত হল আতঙ্কের। আতঙ্কিত বাংলাদেশে বসবাসকারী সংখ্যালঘুরা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি এই নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনের শিরোনাম ‘Bangladesh’s Hindu minority in fear as attacks rise and a national election nears’ । প্রতিবেদনের ছত্রে ছত্রে রয়েছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বিশেষ করে হিন্দুরা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি দিনটি তাদের কাছে আতঙ্কের।
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসিনার ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর দু হাজারে বেশি সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৬১টি খুনের ঘটনা। গণধর্ষণের ঘটনা ২৮টি। বিভিন্ন উপাসনালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে ৯৫টি। বাড়ি ঘর, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলা,ভাঙচুর, লুঠপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে মোট ১০২টি। ৩৮টি ঘটনা অপহরণ, চাঁদাবাজি, নির্যাতনের। হামলা, হত্যার হুমকি, সেই সঙ্গে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ৪৭টি। ৩৬টি ঘটনা ঘরবাড়ি, জমি, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান দখলের। এই সময়ে কথিত ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে ৩৬জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২০২৪-য়ের ৪ অগাস্ট থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই হাজার ১৭৪টি সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি বছর জানুয়ারি মাসের প্রথম ২৭ দিনে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৪২টি। এর মধ্যে হত্যার ঘটনা ১১টি।
২৭ বছর বয়সী দীপু দাসের কথা আমাদের সকলের মনে আছে। এএফপির প্রতিবেদনে তাঁর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। দীপু দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয় হজরত মহম্মদকে অবমাননার। একজন সাধারণ হিন্দু শ্রমিক। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে। কাজ করতেন একটি পোশাক কারখানায়। মিথ্যে অভিযোগে মোল্লাপন্থীরা তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলে। পরে তাঁর দেহ গাছে উল্টো করে ঝুলিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। পাশবিকতার শেষ এখানেই নয়। গোটা ঘটনা তারা মোবাইলে বন্দি করে পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি নিউজ বর্তমান। সেই ভিডিও দেখে মেরুদণ্ড দিয়ে ঠাণ্ডা রক্তের স্রোত বয়ে যায়। সেটাই শেষ নয়। তারপর এই ধরনের ঘটনা আরও ঘটেছে। দেশের বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ হয়। ন্যায় বিচারের দাবি ওঠে। চাপে পড়ে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। কিন্তু প্রশ্ন হল এটি কি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা?
ভয়ে অনেকে মুখ খুলতে চান না। বাংলাদেশের নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলায় চৌগ্রামে একটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। এক মহিলাকে কে বা কারা ধর্ষণ করে। কী বলছেন মহিলা শুনুন –
বর্তমান পরিস্থিতি দাবি করে নির্যাতনের বিরুদ্ধে মহিলাদের গর্জে ওঠা। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারি কি হবে? ভোট না কি সংখ্যালঘু নিধন যজ্ঞ?












Discussion about this post