ওয়ান্ডে ম্যাচ আর টেস্ট ম্যাচের মধ্যে বহু পার্থক্য রয়েছে। একদিনের ম্যাচে ফলাফল দুটি জয় না হলে টাই । কোনও না কোনও একটি দল জিতবে। আর অপর একটি দল হারবে। আর দ্বিতীয়টি হল টাই। টেস্টম্যাচের ক্ষেত্রে জয় পরাজয় ছাড়া রয়েছে ফলোঅন আর ড্র। ১৮৭৭ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত দু হাজারের বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলা হয়েছে। তার মধ্যে টাই হয়েছে মাত্র দুটি ম্যাচ। প্রথমটি ৯ ডিসেম্বর, ১৮৬০ সালে। ওই বছর অস্ট্রেলিয়া মুখোমুখি হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। দ্বিতীয় টাই ১৯৮৬ সালে। ম্যাচ ছিল অস্ট্রেলিয়া বনাম ভারতের। ফলে টেস্ট ম্যাচে টাই বিরলের মধ্যে বিরলতম ঘটনা। প্রথমে যারা ব্যাট করতে নামে তাদের লক্ষ্যই থাকে প্রতিপক্ষকে বিরাট রানের সামনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া। তার জন্য প্রথমে বুঝতে হয় পিচ, তার পর বোলিংয়ের লাইন আর লেংথ। এই দুটো বুঝতে পারলে প্রতিপক্ষ যতই শক্তিশালী হোক না কেন, তাদের বিরাট রানের পাহাড়ের সামনে দাঁড় করিয়ে দেবে।
সংবাদের শিরোনামের সঙ্গে প্রতিবেদনের মিল অনেকটাই। রাজনীতির মাঠে টেস্ট ম্যাচ খেলতে চলেছেন হাসিনা। সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশে ফেরার। কীভাবে দেশে ফিরবেন, কবে ফিরবেন, তা নিয়ে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ছাত্রলীগ, যুবলীগ সহ মূল দলগুলিকে এক সুতোয় গাঁথার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে সম্প্রতি ব্রিটেনের একটি জনপ্রিয় পত্রিকা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনের শিরোনাম ‘The Exile Awami league members plotting a political comeback in Bangladesh – from India. ’প্রতিবেদন থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট যে আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে অবসর নেয়নি। দল কিছুটা সময় নীরব ছিল। নীরব থাকাই তাদের কাছে শ্রেয় মনে হয়েছিল। তারা এখন মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই প্রস্তুতির প্রকাশ্যে একটি ইঙ্গিত মিলেছে দিল্লির একটি বৈঠক থেকে।
সপ্তাহ দুয়েক আগে দিল্লিতে দলনেত্রী হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন যুক্তরাজ্যের বেশ কয়েকজন নেতা। হাসিনার সঙ্গে যাঁরা বৈঠক করেছেন, তাঁরা হলেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ সভাপতি জালাল উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রাক্তন মেয়ার আনোয়ারুজ্জামান খান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আহাদ চৌধুরী এবং যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল খান। ভারতে তারা ছিলেন এক সপ্তাহ। গত ২৬ জানুয়ারি তারা লন্ডন ফিরে যান। হাসিনার সঙ্গে তাঁরা দেখা করেন ২১ জানুয়ারি। এই সফরের মূল আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল হাসিনা সহ আওয়ামী লীগের বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন। তাদের এই সাক্ষাৎকারের পর প্রকাশিত হল দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় আওয়ামী লীগকে নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন। পত্রিকা বলছে, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে একটি বিকল্প রাজনৈতিক কাঠামো তৈরি করতে চলেছে। কলকাতা ও দিল্লি মিলিয়ে দলের কয়েক শো নেতাকর্মী আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমানে বাংলাদেশের যা পরিস্থিতি সেই পরিস্থিতিতে হাসিনা ও আত্মগোপন করে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দেশে ফেরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে। সকলেই অপেক্ষা করছে এক মাহেন্দ্রক্ষণের। দিল্লিতে হাসিনা কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রয়েছেন। তবে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেমে নেই। পত্রিকা জানিয়েছেন, হাসিনা দলের প্রবীণ নেতাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। প্রয়োজন মতো তাদের নির্দেশ দিচ্ছেন। কখনও কখনও কাজ করছেন দিনে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা। প্রয়োজনে তিনি দলের প্রবীণ নেতা, অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের দিল্লি তলব করছেন। তাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। জানিয়ে দিচ্ছে ভবিষ্যতের রণকৌশল।
আওয়ামী লীগ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে না। বলা ভালো, তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এই অবস্থায় দলীয় কর্মীদের মনোবল যাতে ভেঙে না পড়ে, তার জন্য নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের বক্তব্য এই প্রস্তুতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়। দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকা তাঁর বিবৃতি উদ্ধৃত করেছে। প্রতিবেদন লিখছে, “Our leader Sheikh Hasina is in constant communication with our people in Bangladesh: our party activists, party leaders, grassroots leaders and other professional bodies. She’s trying to make our party ready for the upcoming struggle.
তিনি বলেন, হাসিনা আওয়ামী লীগকে একটি বড়ো রাজনৈতিক সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত করছেন। দলের মতে, ২০২৪-য়ের গণঅভ্যুত্থান মোটেই স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন ছিল না এটি ছিল পরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, যেখানে দেশি ও বিদেশি শক্তির একটা ভূমিকা ছিল। দলের নেতারা বলছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা তদারকি সরকারের অভিযোগ পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রতিশোধমূলক। আওয়ামী লীগের কোনও কোনও নেতা মনে করেন ২০১৮ সালের নির্বাচন পুরোপুরি স্বচ্ছ ছিল না। সেই সব নেতাদের মধ্যে একজন হলে তানভির শাকিল জয়। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় দল কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠেছিল। তাদের মনে হয়েছিল ২০১৮-য়ের নির্বাচন হবে স্বচ্ছ। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনও প্রশ্ন উঠবে না। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করবে আত্মসমালোচনার ধারাকে কতটা সামনে আনতে পারবে এবং কতটা গ্রহণ করতে পারবে, তার ওপর।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post