বাংলাদেশের বহু চর্চিত জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে অর্থাৎ আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করতে চাইছে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যে সরকার অনির্বাচিত, যে সরকারের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন আছে, তাহলে ঠিক কিসের ভিত্তিতে ইউনূসের সরকার নির্বাচনের মাত্র তিনদিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ ধরণের একটা চুক্তি স্বাক্ষর করতে চাইছে। আবার এই প্রশ্নও উঠছে, মার্কিন প্রশাসনও কিভাবে এমন একটা অনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করছে। এমন খবর সামনে আসতেই বাংলাদেশ জুড়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। আর এই চুক্তির শর্তাবলী বা কাঠামো সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও রকম তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এই গোপনীয়তাই আরও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি নন ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট সই করেছিল ইউনূস প্রশাসন। অর্থাৎ আলোচনার শর্ত বা অগ্রগতি জনসমক্ষে আনা যাবে না। এবার সেটাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় ইউনূস সরকার। কিন্তু এখানেও রয়েছে অদ্ভুত গোপনীয়তা। ফলে প্রশ্ন উঠছে, কি এমন পরিস্থিতি তৈরি হল যে পরবর্তী সরকার নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে নারাজ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষার করতে অনির্বাচিত সরকারের কেন এমন তাড়াহুড়ো সেটা নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। অনেকেই বলছেন, এটা ইউনূস সাহেবের একটা বড় চাল। এই গোপন বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করে বাংলাদেশে নিজের অবস্থান আরও পোক্ত করতে চাইছেন তিনি।
ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা করেছেন। যা নিয়ে প্রবল আতঙ্কিত ইউনূসের সরকার। সেটা থেকে অব্যাহতি পেতেই তড়িঘড়ি আমেরিকার সঙ্গে একটি সমঝোতার পথে হাঁটতে চাইছেন তিনি। এদিকে আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতাপত্র গোপন রাখায় বাংলাদেশের রফতানিকারক সংস্থাগুলি, বিশেষ করে বস্ত্র শিল্পে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই গোপন সমঝোতার শর্তাবলী বাংলাদেশি রফতানিকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। ঘটনা হল, বাংলাদেশের একটি মহলের দাবি, ইতিমধ্যেই ওই নন ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্টের একটি অংশ ফাঁস হয়ে গিয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তির ছত্রে ছত্রে এমন সব বিষয় রয়েছে যা ঢাকার থেকে বেশি সুবিধা পেতে চলেছে ওয়াশিংটন।
বিশ্লেষকদের বক্তব্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর বিশ্বের বহু দেশের বিরুদ্ধে ট্যারিফ আরোপ করে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত করার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনও দেশই বাংলাদেশের মতো নন ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট সমঝোতা স্বাক্ষর করেনি। তাঁরা নিজেদের মতো করে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে বিষয়টির সমাধান করেছে। ভারতের বিরুদ্ধে আমেরিকা দুবার ২৫ শতাংশ করে শুল্ক আরোপ করেছিল। তবুও ভারতের মোদি সরকার মাথা নত করেনি। কিন্তু ইউনূসের সরকার একবার নয়, দুদু-বার করে গোপন চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্য সমাধান করতে চাইছে। ঘটনাচক্রে গত বছর যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের উপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল, তখনই অপ্রকাশযোগ্য চুক্তি করে সেই শুল্ক ২০ শতাংশে নামিয়ে এনেছিল ইউনূসের সরকার। তখনও ভারতের উপর যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপিত ছিল। এবার ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তির রূপরেখা তৈরি হয়ে যাওয়ার পর ভারতের শুল্ক হার নেমে এসেছে ১৮ শতাংশে। যা বাংলাদেশের থেকেও ২ শতাংশ কম। তাই ইউনূসের সরকার উঠে পড়ে নেমেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সেরে ফেলতে। তবে যেটা জানা যাচ্ছে, তাতে এ কথা বলাই যায়, বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার বদলে ইউনূস সরকার যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার দিকেই জোর দিয়েছে। বাংলাদেশের কৃষি থেকে প্রতিরক্ষা, পোশাক থেকে ওষুধ শিল্পের বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অবাধ করে দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ট্রাম্পের দেশে মূলত পোশাক রফতানি করে। তবে অন্যান্য পণ্যের মাঝে আছে লেদারের ব্যাগ, পাটজাত পণ্য, জুতা, সাইকেল, কৃষি ও খাদ্যপণ্য, প্লাস্টিক পণ্য ইত্যাদি। এ সব রফতানি পণ্যের থেকেও এবার বেশি গুরুত্ব পাবে আমদানি পণ্য। যার ফলে পোশাক শিল্পের সঙ্গে কার্যত ধ্বংস হবে বাংলাদেশের কৃষি, মৎস, জাহাজ ও প্রতিরক্ষা শিল্প। এর খেসারত দিতে হবে বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচিত সরকারকে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post