যে কোনও ভোটেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা মোতায়েন করা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে এই উপমহাদেশে সাধারণ নির্বাচন একটা উৎসবের সামিল। কিন্তু বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এই ধারণার থেকে অনেকটাই আলাদা। রাজনৈতিক কারণে এবারের নির্বাচন থেকে বাইরে রাখা হয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে। সেই সঙ্গে শেখ হাসিনার দলের সঙ্গে অতীতে জোটে যাওয়া আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দলকেও এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। এই আহবে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন যে সুষ্ঠ, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর সংশয়। ফলে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে আঁটসাঁট নিরাপত্তা ব্যবস্থার বন্দোবস্ত করতে হচ্ছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে। কিন্তু এই মুহূর্তে বাংলাদেশে পুলিশ ও স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থা অথৈবচ। তাই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে বিশেষ ভূমিকা নিতে হবে এই কাজে। বিগত বেশ কয়েকমাস ধরে বাংলাদেশে কী পরিস্থিতি চলছে তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। লাগাতার রাজনৈতিক হিংসা, সামাজিক অরাজকতা যেমন বাংলাদেশি নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ হয়ে গিয়েছে, তেমনই সে দেশের সংখ্যালঘুদের জীবনও প্রায় বিপন্ন। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এটাই স্বাভাবিক।
যদিও বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের ওপর সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে গিয়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার পাশাপাশি সেনাবাহিনী কিভাবে ভোটের নিরাপত্তা প্রদান করবে সে ব্যাপারেও রণনীতি তৈরি করছেন। তবে এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের থেকেও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ওই একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে চলা গণভোট। যা নিয়ে ইউনূস সরকার এবং তাঁদের সমর্থনকারীদের মধ্যে সবচেয়ে উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সূত্রের খবর, এবারের ভোট যে শান্তিপূর্ণ হবে না, তার আঁচ বিদেশী রাষ্ট্রগুলি আগেই পেয়ে গিয়েছে। যেমন, ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কার্যালয় থেকে জারি করা সাম্প্রতিক ট্রাভেল অ্যাডভাইসারি বেশ কড়া ভাষা প্রয়োগ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন, তার আগে-পরের কয়েকটা দিন অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই সময়কালে বাংলাদেশে ভোট প্রচারে অশান্তি সৃষ্টি হওয়ার যেমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, তেমনই বাংলাদেশের মন্দির, মসজিদ, গীর্জার মতো ধর্মীয় স্থানেও নাশকতার আশঙ্কা করা হয়েছে। যা নিয়ে প্রবল কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে কূটনৈতিক মহলে। আবার ভারত সরকার নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশে হাইকমিশন ও উপহাইকমিশনে কর্মরত আধিকারিকদের পরিবারের লোকজনকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় কর্মরত ভারতীয়দেরও দেশে ফেরার পরামর্শ দিয়েছিল। এটা কার্যত নজিরবিহীন পদক্ষেপ ছিল ভারতের। তার পর থেকেই কূটনৈতিক মহলে জল্পনা চলছিল, বাংলাদেশে নির্বাচন ঘিরে কি কোনও বড় ধরণের অশান্তির আশঙ্কা করছে বিদেশী রাষ্ট্রগুলি?
যেটা জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন এবং গণভোটকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লক্ষাধিক সেনাসদস্য, আধিকারিককে ময়দানে নামানো হচ্ছে। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান বাহিনীকে বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করতে। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কোনও পক্ষকেই সমর্থন করবে না। কিন্তু বেশ কয়েক জায়গা থেকে খবর আসছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার জন্য নাগরিকদের কাছে প্রচার করছেন, কোথাও কোথাও হুমকি পর্যন্ত দিচ্ছেন। এখান থেকেই আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে যে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা যদি ভোট বয়কটের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন তাহলে গোলমাল বাধতে বাধ্য। আবার, সে দেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। যারা সেনাবাহিনীর উপর ভরসা করে ছিলেন, তাঁরা এখন আশঙ্কিত। এক লক্ষ ১০ হাজারের বেশি সেনাসদস্য যদি ভোটের কাজে মাঠে-ময়দানে থাকেন তাহলে পরিস্থিতি কি হতে পারে। আরও জানা যাচ্ছে, নৌহাহিনীও নাকি গোটা দশেক টহলদারি জাহাজ তৈরি রাখবে ভোটের নিরাপত্তাজনিত কারণে। আবার সেনাবাহিনীর হেলিকল্টার, পরিবহন বিমানগুলিকেও কাজে লাগানো হচ্ছে। এই নিরাপত্তার বহর দেখে ওয়াকিবহাল মহলের আশঙ্কা, ভোট নাকি ছোটখাটো কোনও যুদ্ধ বাংধছে বাংলাদেশে!
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post